প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফাইজা আরুশা এম রহমান: সন্তানকে শেখান স্কুলজীবন থেকেই, নিজের হাত খরচের জন্য নিজেকেই খাটতে হবে

ফাইজা আরুশা এম রহমান: নেটফ্লিক্সে ইংরেজি ছবির একটা দৃশ্য দেখে সত্যিই কিছুক্ষণের জন্য অভিভূত হয়ে গেলাম। খুব সাধারণ একটা দৃশ্য, নায়িকার বন্ধু-বান্ধবীরা তাদের স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রামে সিদ্ধান্ত নিলো তারা ট্যুরে যাবে। কারণ এর পরেই তাদের কলেজ জীবন শুরু হবে এবং সবাই আলাদা হয়ে যাবে। কিন্তু কয়েকজন জানালো তাদের কলেজের জন্য ফিস জোগাড় করতে এই সামারে ‘অড জবস্’ করতে হবে তাই তারা যেতে পারবে না। দেখা গেল স্কুলের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্র ছাত্রীদের সামার এভাবেই কাটবে, কেননা গোটা কয়েকজন অবস্থাসম্পন্য পরিবার থেকে আসে এবং এটাই স্বাভাবিক। অদ্ভুত সুন্দর একটা মেসেজ যদিও এই ব্যাপারগুলো এসব মুভি দেখার সময় সবাই খুব একটা খেয়াল করে না। এর আগেও একটা ছবিতে দেখেছিলাম, একজন বাবা খুব নিরাশ হয়ে তার সন্তানকে বলেন, ‘আমি এই মাসে এক্সট্রা শিফট কাজ করেছি যাতে তোমার স্কুলের ফিস দিতে তোমাকে সাহায্য করতে পারি…’‘সাহায্য’ শব্দটা এখানে বোনাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যার মমার্থ তোমার খরচ তোমাকেই বহন করতে হবে, আমি তোমাকে শুধু সাহায্য করতে পারবো। অথচ এই সাহায্যের ব্যাপারটা আমাদের টিনেজ সমাজ ‘বাপের টাকার উপর তাদের অধিকার’ হিসেবেই ধরে নেয়। একটা সন্তান জন্মের পর চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত ধরেই নেয় তার সবকিছুর দায়িত্বে ওই ‘দশটা- পাঁচটা’ অফিস করা মানুষটার!

স্কুলের খরচ, কলেজের খরচ, ইউনিভার্সিটি এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার খরচটাও যেন ওই মানুষটা দিতে বাধ্য। এখন পরিবারের মুখ কতোগুলো এসব নিয়ে ভাবা তাদের প্রয়োজনের মাঝে পরে না। দুঃখের বিষয় হচ্ছে ‘বাবা’ নামক মানুষটাও নির্দ্বিধায় সব মেনেও নেয় যেন এটাই স্বাভাবিক। এটা স্বাভাবিক নয়! এটা একটা কু প্রথা যা এই সমাজে যুগ যুগ ধরে প্রচলিত। কেননা এই স্কুল পড়ুয়া ছেলেটা বা মেয়েটাকে স্কুল পেরোতে কখনো ‘হ্যাংগআউট’ , ‘এনরয়েড ফোন’ , ‘প্রাইভেসি’ এসবের অর্থ শেখানো লাগে না। কলেজে উঠতে বাবা লেটেস্ট মডেল কেন কিনে দিল না এটা দিব্যি তাদের ইগোতে বাঁধে, কিন্তু নিজের চাহিদা জোরপূর্বক ওই মানুষটার ওপর চাপানোর সময় ওই ইগোতে ঘুন ধরে। আমাদের ছাত্রসমাজ বুঝে স্টুডেন্ট লাইফে ইনকাম মানেই স্টুডেন্ট পলিটিক্স আর টিউশনি। ইদানীং কেউ কেউ পাঠাও চালায়। আর দুনিয়ার বাকি সব জব সেক্টর তাদের কাছে মান সম্মানের বিষয়। অড জবসের কথা শুনলেই মনে হবে তাদের চুরি ডাকাতি করতে বলা হয়েছে, যেখানে পরিচিত কারো দেখে ফেলার ভয় থাকবে! পাছে না তারা কী না কী ভাবে…তবে বাচ্চাগুলার মন মানসিকতার জন্য আমি শুধু তাদের দায়ী করবো না। ওই পরিচিত মানুষগুলোকেও দায়ী করবো যারা কোন কিছু না ভেবেই জাডজ করে বসে। ‘তুমি এখানে কাজ কর? কেন বাবা টাকা দেয় না? এটা কোনো কথা! ’ এমন অবান্তর প্রশ্ন হেনস্তা ছাড়া কিছুই না। তারা আর কেউ না সমাজের ‘বিসিএস অফিসার তো হও নি…’ শ্রেণীর মানুষগুলাই। যাদের আল্লাহ সব দিলেও ঘিলুটা দেয়নি।

আর যেসব বাবা মায়েরা-বিদেশি সংস্কৃতি নিয়ে কটাক্ষ করে যুক্তি দাঁড় করান, ‘আমি তো আমার সন্তানকে আঠারো বছরে স্বাবলম্বী করার জন্য নিজের থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারি না! আমার সন্তান থাকবে দুধে ভাতে’ বলে গলা ফোলান। তারা একটু সর্তকতার সাথে বাচ্চা মানুষ করবেন। কারণ যার স্বাবলম্বী হসে আঠারোতেও হবে, যার না হসে তিরিশেও আপনার ঘাড়ে চোড়েই খাবে। আপনার জীবনের মূল্যবান সময় আপনার সন্তানের অ্যাস্টাবলিশমেন্টের পেছনে খরচ করার চেয়ে তাকে স্বাবলম্বী হিসেবে বেড়ে ওঠার পেছনে খরচ করুন। যাতে আপনার অর্বতমানে তাকে অথৈই সাগরে পরতে না হয়। তাকে শেখান স্কুলজীবন থেকেই নিজের হাত খরচের জন্য নিজেকেই খাটতে হবে। ব্যাপারটাকে তার কাছে স্বাভাবিক করে তুলুন। কোনো পেশাই ছোট না, এতে কারো সম্মানহানি হয় না বরং নিজের ওপর আস্থা বাড়ে। আত্মসম্মানবোধ বাড়ে। কথায় কথায় ফকিরের মত হাত পাতা কোন সুস্থ মানুষের কাজ না। বিদেশি সংস্কৃতি মানেই শুধু শর্ট স্কার্ট না, রাত বারোটায় বাড়ি ফেরার স্বাধীনতা না, আঠারো হয়ে গেলেই বাবা মাকে ত্যাগ করে ঘর ছাড়া না। বিদেশি সংস্কৃতিতে বাজার করাকে শুধু ছেলেদের কাজ, আর রান্না করাকে মেয়েদের কাজ হিসেবে গণ্য করা হয় না। দুইটা জেন্ডারে মাঝে সমান দায়িত্বপ্রতিষ্ঠা করে। বাবারাই শুধু ইনকাম করবে আর মা সারাদিন রান্না করবে এমনটাও তারা মানে না। এই সংস্কৃতি এমন অনেক সুন্দর বিষয়ধারণ করে যা থেকে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে। কিন্তু যাদের মগজ ওই শর্ট স্কার্টের মাঝে সীমাবদ্ধ তাদের কানে আমার এই কথাগুলো ঢুকবে না। তবে একজনের মন মানসিকতা পরিবর্তন হলেও ভালো। পরিবর্তনের শুরু একজনকে দিয়েই তো হয়… ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত