প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোজাফ্ফর হোসেন: সচেতন মানুষ মাত্রই প্রশ্ন করে যাচ্ছেন, পরীমনির অপরাধ কিংবা তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী?

মোজাফ্ফর হোসেন: পরীমনিকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হলো। সচেতন মানুষ মাত্রই প্রশ্ন করে যাচ্ছেন, পরীমনির অপরাধ কী? তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী? আমরা জেনেছি, অভিযানের পূর্বে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। পরীমনি-পিয়াসাদের ব্ল্যাক মেইলিংয়ের শিকার এমন কোনো ভিকটিম অভিযোগ করেছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো ভিকটিম অভিযোগ করেননি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নাকি অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। কী পাওয়া গেছে সেই অভিযানে? কতোগুলো মদের বোতল ও মাদকদ্রব্য। দেশে মাদকদ্রব্য আইন আছে, পরীমনি সেই আইন অমান্য করলে অবশ্যই তিনি শাস্তি পাবেন। আইনের ঊর্ধ্বে তিনি নন। কিন্তু এরই মধ্যে একের পর এক পরীমনিকে ভুল সংবাদের শিরোনাম করা হয়েছে। একজন নারীকে ‘চরিত্রহীন’ভাবে উপস্থাপন করতে পারলেই আমাদের সমাজ তাকে ‘সর্বোচ্চ’ সাজা দিতে প্রস্তুত হয়ে ওঠে।

আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপী, ঘুষখোর, খুনি, ধর্ষকের চেয়ে বড়ো অপরাধী ‘চরিত্রহীন’ নারী। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রমাণিত হলে [যদিও পরীমনির ক্ষেত্রে প্রমাণিত না] আইন কী বলে? ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, পুলিশ কমিশনার সরাসরি বলেছেন, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যে কোনো নাগরিক পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্কে জড়াতে পারে। যদি তা প্রতারণামূলক না হয় তাহলে পুলিশের তেমন কিছু করার থাকে না। কেউ যদি এমন সম্পর্কের পর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ না করে তাহলে সেটা দেশের আইনে বড় কোনো অপরাধ বলে গণ্য হবে না। এমনকি আপত্তিকর অবস্থায় কাউকে পেলে মাত্র একশ টাকা জরিমানা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

তাহলে পরীমনিকে এতো আয়োজন করে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়ার কারণটি কী? কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো, তারা পার্টির নামে উচ্চবিত্তদের বাসায় ডেকে মদ ও ইয়াবা খাইয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখতেন। পরে সেই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন। অথচ এই সব ‘শিশুর মতো অবলা, সরল ও পুতপবিত্র’ পুরুষদের কেউই তো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলো না! আমরা ধারণা করেছিলাম পরীমনি এবং পিয়াসা ও মরিয়মকে রিমান্ডে নিয়ে কিছু উচ্চবিত্ত পুরুষের নাম আসবে যারা মেয়েদের মানুষ মনে করে না, খেলনা বানিয়ে ভোগ করে। মাঝখান থেকে বলি হয় কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মতো মেয়েরা। পরীমনি, পিয়াসা ও মরিয়মেরা রিমান্ডে থাকে, তাদের আমরা চরিত্রহীন ট্যাগ দিয়ে অপরাধী বানিয়ে ফেলি, কিন্তু লম্পট পুরুষদের পরিচয় আমরা জানতে পারি না।

পরীমনি যাদের নাম বলতে পারেন ডিএমপি কমিশনার তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘চিত্রনায়িকা পরীমনি, ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌর বাসায় যাতায়াত ছিলো এমন ব্যবসায়ী বা ব্যক্তিদের কোনো তালিকা করা হচ্ছে না। আপনারা নিশ্চিন্তে বাড়িতে থাকুন।’ তাহলে রিমান্ডে পরীমনিকে নিয়ে হচ্ছেটা কি? ডিএমপি কমিশনার যে ব্যবসায়ী ‘পুরুষদের’ বললেন, ‘কারও সঙ্গে সম্পর্ক থাকা তো বেআইনি নয়। যতোক্ষণ না পর্যন্ত এ বিষয়ে মামলা না হয়।’ তাহলে পরীমনির বিরুদ্ধে যে মামলা হয়নি, তার বিষয়টি বেআইনি হলো কেমন করে? লেখক: কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত