প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাজী আহমদ পারভেজ : নিজের নির্দোষিতার জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছেন পরীমনি

কাজী আহমদ পারভেজ: দিনশেষে পরীমনি একটি লেইট টুয়েন্টিজের বাপমাহারা কর্মজীবী তরুণী…। হতে পারে তিনি মদ্যপানে অভ্যস্ত, কিন্তু তাতো এদেশের প্রায় ৩৫ লাখ নাগরিকও…। হতে পারেন তিনি মাদকাসক্ত, কিন্তু তাতো এদেশের ৬০ লাখ নাগরিকও…।

যতোদূর জানি, তিনি একজন নিয়মিত করদাতা, যা দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ নাগরিকই নন। এরপরেও তাঁকে ঠিক কি অপরাধে এক ঘোর রাষ্ট্রবিরোধী ভয়ঙ্কর অপরাধীর মত ধরে নেওয়া হলো, সেটা আজও পরিষ্কার না। এদেশে এলিট ফোর্সেটির সৃষ্টিই হয়েছিল, ঘোর রাষ্ট্রবিরোধী-সন্ত্রাসীদের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জাম মোকাবেলা করার সামর্থ্য দিয়ে, ছিচকে চোর-বদমাশ বা মদ্যপ-নেশারু ধরার জন্য না। কিন্তু তাঁদের যখন পরীমনির মতো এক তরুণ-নারীকে ধরতে সর্বশক্তি নিয়ে সদলবলে ঝাপিয়ে পড়তে দেখি, সংশয় তো জাগেই, কে সে?

-ঘোরতর কোনো রাষ্ট্রবিরোধী? -আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী? জঙ্গি?-কোনো কুখ্যাত ড্রাগলর্ড বা ওয়ারলর্ড? অথচ গ্রেফতারের পরে, ৪/৫ দিন কেটে গেলো, এখনো মেয়েটার অপরাধের গুরুত্ব সম্পর্কে কোনোই ধারণা পাওয়া গেলো না! এটা কীভাবে সম্ভব! একটা গল্প শুনাই। অপারেশন ক্লীনহার্ট চলছে। আমি তখন সেনাবাহিনীর একজন মোটামুটি জ্যেষ্ঠ সার্ভিং মেজর। বয়স মধ্যত্রিশ। তবে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত বলে ক্লীনহার্ট ডিউটি থেকে মুক্ত। আমার এক বন্ধুর বিয়ের দাওয়াত পড়লো ঢাকা থেকে বেশ দূরে, ফরিদপুরের কানাইপুরে। বাসে করে একা একাই গেলাম।

কিন্তু ফেরার সময় ওখানে আলাদাভাবে যাওয়া অন্যান্য বন্ধুদের মাইক্রোবাসে একটা আসন পেয়ে গেলাম। দৌলতদিয়া ঘাটের কাছাকাছি আসতে আসতে সন্ধ্যা পেরিয়ে প্রায় অন্ধকার। অন্ধকারেই দেখলাম, ক্লীনহার্টের সেনাচেক পোস্ট ইশারা করেছে থামতে। আমি তো সার্ভিং মেজর, তাই এরা আমার ভাই-বন্ধু-সন্তানসম। জানালা দিয়ে গলা বের করার মতো করে হাসিমুখে অপেক্ষা করছি ওদের কাছাকাছি পৌঁছানোর জন্য, আর গাড়িও তাঁর গতি শ্লথ করছে…। গাড়ি পুরোপুরি থামার আগেই, হঠাৎ দেখি রাস্তার দুপাশ লুকিয়ে থাকা ১০-১৫ জন আর্মড সেনা অস্ত্র উঁচিয়ে মাইক্রোবাসের দিকে সেগুলো তাক করে আমাদের ঘিরে ধরলো। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতভম্ব, প্যানিকড। এতোগুলা অটোমেটিক অস্ত্র, লোডেড হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ এটা অপারেশন।

পরিচয় দেবো, কিন্তু দেখলাম, গলা দিয়ে কথা বেরুচ্ছে না। মনে হচ্ছে, শিরদাঁড়া বেয়ে একটা সাপ নেমে যাচ্ছে আর শরীরের সব রক্ত একলাফে মাথায় উঠে গিয়ে মাথাটা জমিয়ে দিয়েছে। বর্ণনাতীত এক অভিজ্ঞতা। বেশ ক’সেকেন্ড পর সম্ভিত ফিরে পেয়ে পরিচয় দিতে গিয়ে যখন বুঝলাম, গলা কেঁপে কেঁপে যাচ্ছে, তখন আর রিস্ক না নিয়ে পকেট থেকে আইডি বের করে কাঁপাকাঁপা হাতে তা তুলে দিলাম চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা হাবিলদারের হাতে। উনি তাতে চোখ বুলালেন, স্যালুট দিলেন, বাকিদের স্ট্যান্ড ডাউনের আদেশ দিলেন। নিজের পরিচয় দিলেন ও হাসিমুখে আমার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করলেন।

এসবে আরো বেশ কিছুক্ষণ কাটলো, অথচ, আমি দেখলাম, আমি তখনো স্বাভাবিক হয় নাই। মাথায় যে বাড়তি রক্ত গিয়েছিল বলে ভাবছিলাম, তা সহজে ফিরছে না। আসলে হয়তো উল্টোটাই ঘটেছে, মাথা রক্তশূন্য হয়ে গেছিলো, যা দ্রুত পূরণ হচ্ছিলো না। ভান করলাম শীতে কাবু হয়ে কাঁপছি। নেমে একটু হাঁটাহাঁটি করে, হাত-পা খেলিয়ে, ধূমপান করে, ঠিক হতে চাচ্ছি। ওনারা তা দেখে চা খাওয়ানোর বন্দোবস্ত করলেন। খেলাম, স্বাভাবিক হলাম। তারপরে আবার যাত্রা শুরু করলাম। গল্পটা বললাম এটা বুঝাতে যে, একটি প্রশিক্ষিত ও অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত দলের আকস্মিক মোকাবেলা করাটা আমার সেই মধ্যত্রিশে পুরুষ সার্ভিং মেজর হয়েও কতোটা কঠিন ছিলো, সাথে বন্ধুবান্ধব থাকার পরেও। আর পরীমনি, আমার তখনকার চেয়ে বেশ তরুণ ও নারী হয়েও ৫৫ জন পুলিশ পরিবেষ্টিত হয়েও, অস্ত্রধারী এলিট ফোর্সের মোকাবেলা করেও, স্ক্যান্ডালের ও ক্যারিয়ারের ঝুঁকি মাথায় নিয়েও এতোদিন পরে নিজের কম্পোজার ধরে রেখেছে। নিজের নির্দোষিতার জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছে! পরীমনির এই একক সংগ্রাম ও দৃঢ়চিত্ততা দেখে, তাঁর এই মাথা উঁচু করে হাঁটার ছবি দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে গর্বিত। আর যারা তাঁকে নিয়ে কুৎসিত কথা বলছে, তাঁদের সবার লজ্জা হওয়া উচিত বলে আমার মনে হয়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত