প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কুয়াকাটায় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে খুশির বন্যা

উত্তম কুমার : [২] করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতে চলমান লকডাউনে পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় সংকটে পড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা। দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ায় হবে এমন খবরে কিছুটা হলেও কুয়াকাটায় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে সু-বাতাস ফিরে এসেছে।

[৩] এদিকে কুয়াকাটায় শতাধিক হোটেল মোটেলগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী সাজ গোজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অন্য সকল পর্যটন ব্যবসায়ীরা একই কাজ করছেন। প্রায় ৫ মাস পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা বন্ধ থাকায় কয়েক’শ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে এমন দাবি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িদের।

[৪] এদিকে বৃহস্পতিবার মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার উপ-সচিব মো.রেজাউল ইসলামের স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে সূত্রে জানা গেছে, ১৯ শে আগস্ট থেকে পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিনিউটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র আসন সংখা শতকার ৫০ ভাগ ব্যাহার করে চালু করতে পাবে। সকল ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কতৃক প্রনীত স্বাস্থ্য বিধি যথাযত ভাবে পালত করবে। স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালনে অবহেলা করলে কতৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে ও তাদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়িরা।

[৫] স্থানীয় হোটেল মোটেল মালিকরা জানায়, লকডাউনে কারনে অফিসের কোন কাজ কর্ম নেই। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সব কিছুই বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় বসে বসে খেয়ে অনেকেরই ঋনের বোঝা ভারি হয়েছে। তাই হোটেল মোটেল ছেড়ে কেউ চাষাবাদ করছে। কেউ কেউ নিজ বাড়িতে গবাদী পশুসহ হাঁস মুরগীর খমার শুরু করছেন। কেউ আবার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে ১৯ আগস্ট দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ায় ঘোষনায় কুয়াকাটায় ট্যুরিজম ব্যবসায়ীদের মাঝে এখন খুশির বন্যা বইছে।

[৬] কুয়াকাটা ইলিশ পার্ক এন্ড ইকো রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, সরকার যে শর্ত দিয়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলো যেভাবে খুলে দেয়ার ঘোষনা দিয়েছে, সে ভাবেই আমরা পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতদিন অনেক কর্মচারীকে ছুটি দেয়া হয়েছিল তাদেরকে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

[৭] কুয়াকাটা ট্যুরিজম মেনেজমেন্ট এ্যাসোসিয়েশন কুটুম‘র সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব বলেন, মহামারি করোনার ভাইরাসে সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন শিল্পের। এর সাথে দেশের ৪০ লক্ষ লোকের জীবন জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। এ বিবেচনা করে সরকার ১৯শে আগস্ট দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে তাতে সরকার বাহাদুরকে ধন্যবাদ জানাই।

[৮] কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের এ এসপি মো.আব্দুল খালেক বলেন, পর্যটন খুলে দেওয়ার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত অফিশিয়াল ভাবে কোন নির্দেশনা আসেনি। তবে নির্দেশনা আসলে সেই মোতাবেক পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

[৯] উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কোন অদেশ কিংবা চিঠি পাইনি।

সর্বাধিক পঠিত