প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গোপালগঞ্জের মধুপুর আশ্রয়ন প্রকল্পে ড্রেনেজ না থাকায় জলাবদ্ধতা

আসাদুজ্জামান বাবুল : [২] মুজিববষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর “সপ্নের আশ্রয়ন প্রকল্প”-২ এর অধীনে বিনামুল্যে দুই শতাংশ জায়গাসহ পাকা ঘরবাড়ী পেয়েছেন জেলার ৫টি উপজেলার ২ হাজারেরও বেশি মানুষ।

[৩] প্রতিটি পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৫ জন করে হলে উপকারভোগীর সংখ্যা দাড়ায় কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ।

[৪] আশায় বুকবাধা এ মানুষগুলোর মধ্যে রয়েছে, অসহায়- দরিদ্র- হতদরিদ্র- কৃষি শ্রমিক- দিনমজুর- রিকসা ও ভ্যান চালক- ভিক্ষুক- প্রতিবন্ধী- স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা নারীসহ নানান শ্রেনীর মানুষ। এরা সকলেই ভুমিহীন। ভাষমান এই মানুষগুলোর প্রত্যকে দুই শতাংশ জায়গার ওপর পাকা ঘরবাড়ি তৈরি করে সুন্দরভাবে জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সরকার।

[৫] বিনামুল্যে পাকা ঘরবাড়ী পেয়ে খুশি ভাষমান মানুষগুলো, নামাজ পড়ে মহান আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রাথনা করছেন, হে আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তুমি দীর্ঘায়ু জীবন দাও। আশ্রয়হীন মানুষদের তিনি আশ্রয় দিয়েছেন।

[৬] নতুন করে বেচেঁ থাকার সপ্ন দেখিয়েছেন। মাথা গোঁজার ঠাই করে দিয়েছেন ঠিকই কিন্ত..পানি নিস্কাশনের প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ভেতরে আটকেপড়া বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

[৭] সেই সঙ্গেঁ বেড়েছে ডেঙ্গৃ মশা আর মাছির। ফলে, চরম দুর্ভোগে পড়েছে সেখানকার সাড়ে ৩ থেকে ৪ শতাধিক দরিদ্র মানুষ। মশা আর মাছির কামড় ছাড়াও দুগর্ন্ধযুক্ত পানির গন্ধ সইতেনা পেরে ঘরবাড়ী ছেড়েছে অনেকে। তবে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমকর্তা(পিআইও)মো, আলাউদ্দিন বলেছেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের ভেতরে আটকেপড়া বৃষ্টির পানি সরাতে ইতিমধ্যে ড্রেন নির্মানের কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্ত, বাস্তবে ড্রেন নির্মান কাজের কোন অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি।

[৮] গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত গ্রামটির নাম মধুপুর। মধুমতি নদীপাড়ে অবস্থীত ”প্রধানমন্ত্রীর সপ্নের আশ্রয়ন”প্রকল্পে গত কয়েকদিনের আটকেপড়া বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে আটকেপড়া মানুষজন বলেছেন, মানুষের চলাচলে সুবিধার জন্য প্রকল্পের ভেতরে মুলত ৯টি রাস্তার দরকার।

[৯] কিন্ত এলজিইডি কতৃপক্ষ প্রকল্পের ভেতরে ৪টি রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু করেছেন।যাহা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম।তাও আবার নিম্মমানের মালামাল দিয়ে রাস্তা নির্মানের কাজ চলছে। এ ছাড়া এখানে পানি নিস্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পের সাড়ে ৩ থেকে ৪ শতাধিক মানুষ। প্রকল্পের ভেতরে মুলত: কমপক্ষে ৯টি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের জন্য চারিপাশে প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণ করা খুবই জরুরি।

[১০] রাস্তা এবং প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণ করা না হলে এখানকার জলাবদ্ধতা সারাজীবন থেকেই যাবে। আর এতে করে সারাজীবন দুর্ভোগে থাকবে এখানকার মানুষ।

[১১] ঘরবাড়ি নির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্য সচীব ও উপজেলা প্রকল্প কমকর্তা(পিআইও)মো. আলাউদ্দিন বলেছেন, ”প্রধানমন্ত্রীর সপ্নের আশ্রয়ন প্রকল্পের” দক্ষিণ পাশে একটি গুচ্ছ গ্রাম রয়েছে। সেখানেও কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ শতাধিক মানুষ বসবাস করেন। ওই ঘরগুলো অতিরিক্ত উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে।

[১২] অন্যদিকে এলজিইডি কতৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর সপ্নের আশ্রয়ন প্রকল্পের ভেতরে অতিরিক্ত উচুঁ করে রাস্তা নির্মাণ করছেন। এলজিইডি কতৃপক্ষের নির্মাণাধীন রাস্তার চেয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো নিচু হওয়ার কারণে গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে আটকেপড়া বৃষ্টির পানি নামতে পারছেনা। ফলে আটকেপড়া বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

[১৩] পানি নিস্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় সম্প্রতি আটকেপড়া বৃষ্টির পানিতে দুটি ঘরের পিলার ভেংগে যাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে আমরা ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। তবে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ড্রেন নির্মাণের কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ করে আশ্রয়ন প্রকল্পের মানুষদের জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করবেন এমন প্রত্যাশা করেছেন এলাকাবাসী। সম্পাদনা: জেরিন আহেমদ

 

সর্বাধিক পঠিত