প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চট্টগ্রামে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের প্রথম রোগী শনাক্ত

রিয়াজুর রহমান রিয়াজ: [২] বুধবার ২৮ (জুলাই) ওই নারীর শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

[৩] মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বুধবার (২৮ জুলাই) আমরা নিশ্চিত হয়েছি তিনি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত।

[৪] আমাদের চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসা চলছে। তাকে আমাদের চিকিৎসকরা আগামীকাল পর্যন্ত দেখবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হবে কি না।

[৫] আক্রান্ত রোগীর ছেলে বেলাল হোসাইন বলেন, ‘পাঁচদিন আগে আমি আব্বাকে হারিয়েছি। এখন আমার মা জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার জন্য এমপোটেরিসিন-বি ইনজেকশনটি খুঁজছি। কিন্তু তা পাওয়া যাচ্ছে না। প্লিজ আপনারা এই ওষুধের সন্ধান দিন। যত টাকা লাগে আমরা দেবো। আমার মাকে বাঁচাতে চাই।’

[৬] চট্টগ্রামে সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, এই রোগে যে ইনজেকশন প্রয়োজন তা দেশে নেই। ঢাকায় এক রোগীকে যে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছিল তা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।

[৭] চিকিৎসকরা বলছেন, খুব কাছাকাছি দীর্ঘ সময় ধরে সংস্পর্শে না গেলে এই রোগ সংক্রমনের ঝুঁকি কম। মূলত, কোভিড আক্রান্তদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এই রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বেশি। তবে শুরু থেকেই এই রোগে চিকিৎসা করা জরুরি।

[৮] এর আগে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চলতি বছরের গত ৮ মে ৪৫ বছর বয়সী এক রোগীর শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর গত ২৩ মে ৬০ বছর বয়সী আরেক জনের শরীরেও ছাত্রাকজনিত রোগটি শনাক্ত হয়। তারা দুজনেই করোনা আক্রান্ত ছিলেন। পরে করোনা মুক্ত হন তারা।

[৯] যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতে, বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এই ছত্রাক ক্ষতিকর নয়। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তাদের শরীরে মিউকরমাইসিটিসের স্পোর প্রবেশ করলে ফুসফুস ও সাইনাস আক্রান্ত হতে পারে। যা পরে শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে।

[১০] জানা যায়, গত মাসের ২৫ তারিখ থেকে জ্বরে আক্রান্ত হন চট্টগ্রাম পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব গৃহিণী ফেরদৌস বেগম। চলতি মাসের ৩ তারিখ তিনি কোভিড টেস্টে পজেটিভ হন। ১৫ জুলাই কোভিড নেগেটিভ হলেও উনার নানা শারিরীক অসুবিধা দেখা দেয়। পরে স্বজনরা তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসকরা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এই রোগীর শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। গত চারদিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে হাসপাতালে রাখা হলেও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের কারণে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও পরিবারের লোকজন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত