শিরোনাম
◈ কাকে ভোট দেওয়া উচিত, জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ ◈ বিনিয়োগ স্থবিরতা ও রাজস্ব ঘাটতি: নতুন সরকারের সামনে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ ◈ বাংলাদেশে হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ কমাল ভারত, শীতে লোডশেডিং ও গরমে বড় সংকটের আশঙ্কা ◈ পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক চুক্তি, মিয়ানমার থেকে ফেরা বাংলাদেশিদের লোমহর্ষক বর্ণনা ◈ এবারও ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ শুক্রবার বি‌পিএ‌লের ফাইনা‌লে চট্টগ্রাম রয়‌্যালস ও রাজশাহী ওয়া‌রিয়র্স মু‌খোমু‌খি ◈ এবার ওষুধ আমদানিতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করলেন আফগান ব্যবসায়ীরা! ◈ নির্বাচনে ৪৫ ঋণখেলাপি, কেবলই আইনের মারপ্যাঁচ, না ক্ষমতার অপব্যবহার: প্রশ্ন বিশেষজ্ঞ-অর্থনীতিবিদদের ◈ শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেয়ার প্রসঙ্গে যা বলল জাতিসংঘ ◈ নির্বাচনী জনসংযোগে টুপি,ঘোমটা দিলে কি ভোট বেশি পাওয়া যায়?

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২১, ০৫:৫০ সকাল
আপডেট : ১৬ জুলাই, ২০২১, ০৫:৫০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফাহমিদা নবী: এক লাফে সব সিঁড়ি ওঠা যায় না

ফাহমিদা নবী: আমার আব্বা যখন গান গাইবার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে যান, তখন ওস্তাদ গফুঁর খাঁ গান শুনে মুগ্ধ হন। সেই সুবাদে গুরুর বাড়িতে থাকতে জায়গা পেয়েছিলেন। আব্বা ভেবেছিলো গান শিখবে! কিন্তু ওস্তাদজী রেওয়াজ করতেন ঠিকই কিন্তু শেখাতেন না কিছু। আব্বা শুধু শুনতেন আর গুনগুন করতেন। এভাবে প্রায় ৬ মাস চলে গেলো। আব্বা বাজার করতেন, ফিরে এসে দেখতেন ওস্তাদজী সারগাম করছেন অনেক শিষ্যরা তার সঙ্গে গলা মিলিয়ে একই তান দীর্ঘ ৬ মাস ধরে করেই যাচ্ছে। কিন্তু কারও মুখে চোখে এতোটুকু বিরক্তি নেই, নেই কোনো সমালোচনা আলোচনার ক্লেশ। কারো এতো বড় সাহস নেই যে কেউ কাউকে প্রশ্ন করবে বা কোনোকিছু ওস্তাদ সম্পর্কে বলবে, অথবা অনেক বড় শিল্পী হয়ে যাবার লক্ষ্যে কতোটুকু পৌঁছাতে পারলো সেটা নিয়ে ভাববে। এতো বড় ঔদ্ধত্য করবার চিন্তা মাথায়ও নেই। আর আব্বাকেও তিনি একবারও বলছেন না ‘বেটা তুমি শেখো’। এভাবে আরও ৬ মাস চলে গেলো। আব্বাও চুপচাপ যা বলেন ওস্তাদজী, তাই করেন। তারপর একদিন হঠাৎ তিনি আব্বাকে ডেকে বললেন ‘গাও বেটা যা এতোদিন ধরে শুনলে।’ আব্বা তো আকাশ থেকে পড়লো। কী গাইবে কিছু তালিমই তো নিতেই পারেনি? আবার বললেন তান ধরো। আব্বা গেয়ে উঠলো, যা ১২ মাস ধরে শুধু প্রতিদিন শুনতো। আব্বা গাইতে গিয়ে নিজেই চমকে গিয়েছিলো। কী ব্যাপার আমি তো গাইছি। কী করে পারছি? তারপর ওস্তাদজীকে আব্বা বললেন, আমি কি গাইতে পারছি?

ওস্তাদজী বললেন, ‘তুমি গাইছো কিন্তু এখন সঠিক গাইবার জন্য, আজ থেকে শেখা শুরু করো। আর বাজার করতে যেতে হবেনা’। আব্বা শুরু করলেন সাধনা করা। কোনো প্রশ্ন মনে আসেনি, আক্ষেপ করেনি। কেনো এতোদিন তাকে না শিখিয়ে শুধু বাজার করাতো, চা বানাতে বলতো। ওস্তাদরা কখনো কিছু করে দেয় না, বা দিতে পারে না। তার কাছ থেকে শুধু তালিম নিতে জানতে হয়, বুঝতে হয়। বাকি পথটা নিজের চেষ্টায়, সাধনায় নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হয়। আব্বা যখন এই সত্য গল্পটা বলেছিলো, তখন দেখেছিলাম আব্বার মুগ্ধতা তার গুরুর প্রতি। কেউ যখন কাউকে গুরু মানে তখন শিষ্যকে শুধু তার প্রতি মন্ত্র মুগ্ধতায় থাকতে হয়।
আব্বাকে দেখে শিখেছি কতোটা ভালোবেসে গুণমুগ্ধতায় নিজেকে তৈরি করতে হয়। একবার যদি মনে প্রশ্ন আসে কী শিখলাম, কী হলো আমার লাভ? তাহলে তোমার স্বপ্নের ইতি ওখানেই টানা হয়ে গেলো, টের পাবে না। গুরুর সমালোচনা করে নিজেকেই ছোট করা ছাড়া আর কিছুই হয় না। এটাই শিক্ষা। যারা অভিজ্ঞ, জীবনের দর্শনে। তাদের জন্য কিছু করার মানসিকতায় সেরকম মন তৈরি করতে হয়। তাতে করে সেই বড় হয়, যে সম্মান নিজের ভেতর বহন করতে পারে। কিছু পাবার আশায় নয়, কিছু শেখার আশায়। পথ চলো দেখবে তুমি সাধনায় হবে অনন্য। অন্যথায় কোনোদিনই তা পাবে না যা পাবার জন্য হন্যে হয়ে আলোচনা সমালোচনা করছো। মহাসমুদ্র তো মহাই। রাশি রাশি জল এসে মিশে, তার কি সময় আছে ভাবার। কোন জলটা মিশে জল ঘোলা করলো? জ্ঞান শেখানো যায় না, তা নিজস্বতা, চর্চা করতে হয়। এক ধাপে, এক লাফে হয়তো নিচের দিকে নামা যায়। মানে নিচের দিকে নামতে পারবে। কিন্তু নিজেকে অনন্য করতে গেলে থেমে থেমে সিঁড়ির ধাপগুলো পার করে করে উপরে উঠতে হয়। তাই সহজ নয়, সহজে স্বপ্ন ধরা। এক লাফে সব সিঁড়ি তো ওঠা যায় না ,তাই না? লেখক: সংগীতশিল্পী। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়