শিরোনাম
◈ পদ্মা সেতুর ওপর মূত্রত্যাগকারীকে খুঁজছে সিআইডি ◈ ‘শিক্ষকদের টার্গেট করে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে’ ◈ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা অর্থনীতিকে বিকশিত করে: প্রধানমন্ত্রী ◈ মগবাজার মোড়ে একটি ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউনিট ◈ যুক্তরাজ্যকে এক লাখ রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের অনুরোধ জানালো বাংলাদেশ ◈ প্রয়োজনে দেশে বেকার ভাতা চালু হবে, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ◈ বিএনপির দায়িত্বহীনতা গণতন্ত্রের পথে অন্তহীন বাধা ◈ পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু শুধু হাত দিয়ে খোলা সম্ভব নয়  ◈ পদ্মা সেতুর প্রতিটি পিলারে ক্যামেরা বসছে, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে ‘স্পিড গান’ ব্যবহার হবে ◈ সাত মাস পর দেশে ফিরলেন রওশন এরশাদ

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২১, ০৫:১৯ বিকাল
আপডেট : ১৪ জুলাই, ২০২১, ০৬:৩৫ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভ্যাকসিন সংকট, ধীরগতি ও অনাগ্রহে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ও অস্ট্রেলিয়ায় লকডাউন

রাশিদ রিয়াজ : যেসব দেশ ধীরগতিতে কোভিড ভ্যাকসিন দিচ্ছে সেসব দেশে কোভিডের সংক্রমণ ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় লকডাউন দিতে হচ্ছে। এসব দেশে এধরনের সংকট থেকে ২০২২ সালের আগে মুক্তি পাবে না। সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানের মত উন্নত দেশগুলোকেও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জন্যে সংকটজনক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়াতে এধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফের লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ কয়েকমাস আগে অস্ট্রেলিয়াকে কোভিডমুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। অথচ অন্তত ৬ মাস অস্ট্রেলিয়ার জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ছিল। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শহর সিডনিতে লকডাউনের সময়সীমা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে হয়েছে। শহরটিতে ব্যবসা কার্যক্রম ফের হোঁচট খেয়েছে। স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহরটির ৬০ লাখ বাসিন্দাকে মেলামেশা করতে বারণ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। ফোর্বস/ফক্স/বিবিসি

এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে লকডাউন শিথিল ও প্রত্যাহার করা হলেও অস্ট্রেলিয়া এক্ষেত্রে স্থির হয়ে রয়েছে। গত মাসে টিকা নেয়নি এমন এক ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ হওয়ার পর সিডনিতে এ সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯শ। অথচ বরাবরই অস্ট্রেলিয়ায় কোভিড সংক্রমণ সীমিত পর্যায়ে ছিল। ‘কোভিড জিরো’ কৌশল নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি ভালই আয়ত্বে ছিল। কঠিন কোয়ারেন্টাইন, এলাকা ভিত্তিক লকডাউন ও সীমান্ত বন্ধ নীতি নেওয়ার কারণে অস্ট্রেলিয়া এধরনের সফলতা পেয়েছিল। কিন্তু টিকাদানে ধীরগতি অস্ট্রেলিয়াকে কোভিডের নতুন প্রাদুর্ভাবে ফেলে দিয়েছে। কোভিড জিরো ইকোনমির দেশ হিসেবে পরিচিত তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মত একই নীতি অনুসরণ করে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেই নীতি বাস্তবায়ন এক পর্যায়ে কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যান্য উন্নত দেশের চেয়ে অস্ট্রেলিয়া টিকাদানে ধীর গতিতে পড়ে যায়।

গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে বলেছিলেন এটি দৌড় প্রতিযোগিতার মত বিষয় নয়। এখন তিনি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিরোধীদলের নেতাদের কাছে সমালোচিত হচ্ছেন। তারা দ্রুত প্রচুর টিকা সংগ্রহ করে তা ব্যাপকহারে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের মধ্যে প্রয়োগে মরিসনের ব্যর্থতা দাবি করছেন। ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সংক্রমণ ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক বিল বাওটেল বলেন অন্যান্য দেশ টিকাদানের ক্ষেত্রে বিকল্প উৎসের সন্ধানে যেয়ে সফল হলেও এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার সরকার ধীরগতিতে এগিয়েছে। সরকার মনে করেছিল তারা পরিস্থিতি আয়ত্বে রাখতে পারবে।

গত মার্চে তাইওয়ানে হাসপাতালগুলোতে ব্যাপকহারে কোভিড টেস্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার আগে মধ্যফেব্রুয়ারিতে প্রতি হাজারে শুন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ কোভিড সংক্রমণ ছিল। একই সময়ে সিঙ্গাপুরে এ হার ছিল ৬.২১ ও ব্রিটেনে ৮.৬৮ শতাংশ। ফলে তাওয়ানের চিকিৎসকরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। হাসপাতালগুলো সজাগ ছিল না। ব্যাপক হারে কোভিড টেস্টও করা হয়নি। কিন্তু এরপর চীনের এক বৈমানিকের কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ে যিনি তায়োইউয়ান বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন। এরপর তাইওয়ানে অনেকে ইউকে ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হন। তাইওয়ানের ‘টি হাউস’ ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো থেকে কোভিড ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতেই তাইওয়ানের নাগরিকরা টিকাদানে ব্যাপক অনাগ্রহ দেখান। অস্ট্রেলিয়ার অধ্যাপক বিল মনে করেন প্রকৃতি ভাইরাস তৈরি করে কিন্তু খারাপ রাজনীতি মহামারীকে দীর্ঘায়িত করে ফেলে। অস্ট্রেলিয়ার ১৮ শতাংশ নাগরিককে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ৫২ ও যুক্তরাজ্যে ৬১ শতাংশ।

সিঙ্গাপুরে কোভিড সংক্রমণ হারও কম ছিল। কিন্তু টিকাদানে পার্থক্য উন্নত এ দেশটির জনবৈষম্যকে উম্মোচন করে। গত মে মাসের শেষ দিকে দেশটির চ্যাঙ্গি বিমানবন্দর যেটি জনপ্রিয় শপিং সেন্টারের জন্যে বিখ্যাত, শেষপর্যন্ত তা কোভিড সংক্রমণের স্পট হয়ে দাঁড়ায়। কর্তৃপক্ষ দেখতে পায় বিমানবন্দরটির বেশ কিছু স্টাফ কোভিডে আক্রান্ত। কারণ উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ছাড়াও অন্যদেশের নাগরিকরা সিঙ্গাপুরে ভ্রমণের সুযোগ অব্যাহত রেখেছিলেন। ফলে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বন্ধ করে দেয়া হয়। উচ্চ ঝুঁকিতে থাকার দেশগুলোর বিমানগুলো সিঙ্গাপুরে গমন বন্ধ করা হয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণেই সিঙ্গাপুরে কোভিড পরিস্থিতি বাগে রাখা যায়নি। এনইউএস স্কুল অব পাবিলিক হেলথের অধ্যাপক ইক ইং বলেন আমরা চীনাদের মত নই যে সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেব। বাণিজ্যিক হাব হিসেবে সিঙ্গাপুরের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি আমাদের অর্থনীতির জন্যে পরিপূরক। কঠিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরও পরিস্থিতির অবনতিতে সিঙ্গাপুরের অনেক নাগরিক বেশ হতাশ।

  • সর্বশেষ