প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কঠোর লকডাউনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি করোনা পরিস্থিতি

নিউজ ডেস্ক: টানা একমাসের কঠোর লকডাউনেও কোনভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সমানে চলছে মৃত্যু। এক মাসের বেশি সময় ধরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু কমছে না করোনা ও উপসর্গে। স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং শুধু কাগজ-কলমে লকডাউন হলেও মাঠের পরিস্থিতির কারণে নিয়ন্ত্রণে আসছে না করোনার থাবা। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন মারা যান তারা। এ নিয়ে চলতি মাসের ১১ দিনে শুধু রামেক হাসপাতালেই প্রাণ ঝরল ১৯০ জনের। এদিকে সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে করোনায় ছয়জন এবং ১১ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এছাড়া করোনা নেগেটিভ সত্ত্বেও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় মারা গেছেন একজন। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী রবিবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১৯ জন মারা গেছেন এদের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি রাজশাহী জেলায়। এ ছাড়া নাটোরের ছয়জন, নওগাঁর দুজন, পাবনা ও কুষ্টিয়ায় একজন করে মারা গেছেন। করোনা সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন তারা।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে মারা গেছেন রাজশাহীর তিনজন, নওগাঁর একজন, নাটোরের একজন এবং পাবনার একজন। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১১ জনের মধ্যে রাজশাহীর ছয়জন, নাটোরের তিনজন, নওগাঁ ও কুষ্টিয়ার একজন রয়েছে।

এদিকে রাজশাহী নগরে চলছে এক মাস ধরে লকডাউন। গত ১১ জুন থেকে শুরু হয় এ লকডাউন। তবে এ লকডাউনে রাজশাহীতে করোনা পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। এখনও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করায় মূলত নিয়ন্ত্রণে আসছে না করোনার থাবা। দীর্ঘ সময় ধরে লকডাউন থাকায় রাস্তায় বেড়েছে মানুষের চলাচল ও যানবাহনের সংখ্যা।

শুরু থেকেই লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে পুলিশের পাশাপাশি রাজশাহীতে মাঠে রয়েছে সেনা, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। এছাড়াও মাঠে কাজ করছে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারপরেও মানুষকে সচেতন করা যাচ্ছে না। এ কারণে লকডাউনেও কার্যকর ফল মিলছে না।

গত ঈদের পর থেকে রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ১১ জুন থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। পরে দু’দফা বাড়িয়ে তা ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপর ১ জুলাই থেকে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন চলছে। রাজশাহীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে তারা কাজ করছেন।

চুয়াডাঙ্গায় কঠোর নজরদারি: সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের ১১ দিন রবিবারও চুয়াডাঙ্গায় কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। চুয়াডাঙ্গার সড়কগুলোতে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি। সকাল থেকে জেলার প্রবেশ পথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তদারকি করেছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। লকডাউনকৃত এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন ১৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অপ্রয়োজনে বাইরে আসা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের জরিমানা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বেড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদন্ড: পাবনার বেড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত কয়েকজনকে অর্থদন্ড দিয়েছে। পরে নাপিতদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। রবিবার বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মাহবুব হাসানের নেতৃত্বে লকডাউন বাস্তবায়নে অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পাঁচটি মামলার মাধ্যমে ৭ হাজার পাঁচ শ’ টাকা অর্থদন্ড করা হয়।

মঠবাড়িয়ায় ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা: সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকারী নির্দেশ মতে দুই সপ্তাহ লকডাউন বাস্তবায়নের ১১ তম দিনেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকাশ কুমার কুন্ডু পৌর শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং লকডাউন না মানায় ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৩ হাজার ৮শ’ টাকা জরিমানা করেন।

বাহুবলে ৬ জনকে জরিমানা: করোনা থেকে রক্ষায় সরকার ঘোষিত লকডাউন বাস্তবায়নে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলে যৌথবাহিনীর সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হয়েছে।

রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ কোর্ট চলাকালে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এবং নির্দেশনা অমান্য করে ব্যবসা পরিচালনা করায় বাহুবল বাজার, মিরপুর বাজার এবং তালুকদার মার্কেটের ৬ ব্যক্তিকে ২ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ঝালকাঠিতে কঠোর লকডাউন ক্রমান্বয়ে শিথিল হচ্ছে: ঝালকাঠিতে কঠোর লকডাউনের এগারোতম দিনে শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্যে রবিবার রাস্তায় কিছুসংখ্যক অটোরিক্সা চলাচল করেছে ও মানুষের ভিড় রয়েছে। শহরের মধ্যেই দোকানপাট খুলে বেচাকেনা চলছে। বাজারেও জটলাবেঁধে কেনাকাটা করছে জনসাধারণ। স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অনেকেই।

বগুড়ায় ঢিলে ভাব: কঠোর বিধিনিষেধ দিনে দিনে ঢিলেঢালার দিকেই যাচ্ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কোভিড মৃত্যু ও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কোভিড ডেডিকেটেড ২৫০ শয্যার বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে বেড খালি নেই। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে করোনা আক্রান্তের বেডের সংখ্যা আরও একশ’ বাড়িয়ে দুইশ’ করা হয়েছে। তারপরও বেড মিলছে না। বিষয়গুলো জানার পরও বগুড়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে কোন ভয়ডর লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

কলাপাড়া, পটুয়াখালী: করোনা বিধিনিষেধ উপেক্ষা করায় ১৪ জনকে ছয় হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রবিবার দুপুর পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি জগৎবন্ধু ম-ল। কলাপাড়া পৌরসভাসহ আশপাশে এ অভিযান চালানো হয়। সূত্র: জন কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত