প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিরব, মেহুল ও মালিয়ার আর্থিক কেলেঙ্কারীর ২২ হাজার কোটি রুপির ৪০ শতাংশ উদ্ধার

রাশিদ রিয়াজ : ভারতের তিন শিল্পপতি নিরব মোদি, মেহুল চোকসি ও বিজয় মালিয়ার শেয়ার বিক্রি করে এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট ৫ হাজার ৮শ কোটি রুপি উদ্ধারের পর এদের অর্থকেলেঙ্কারীর ৯ হাজার ৪১ কোটি ৫০ লাখ রুপি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পলাতক এসব ব্যবসায়ীকে ভারতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। দি প্রিন্ট

ব্রিটেনের আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করার অনুমতি চেয়েছিলেন ভারতের কোটিপতি হীরা ব্যবসায়ী নিরব মোদি। কিন্তু আদালত তার আর্জি প্রত্যাখ্যান করেছে। ৫০ বছর বয়সি নীরব ২০১৯ এর ১৯ মার্চ গ্রেফতার হওয়ার পর দক্ষিণ পশ্চিম লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ জেলে বন্দি আছেন। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রসচিব প্রীতি প্যাটেল এপ্রিলে নীরবকে ভারতে প্রত্যর্পণের নির্দেশ দেন। ডেইলি মেইল

নীরব আইনি অনুসারে মৌখিক আবেদন জানানোর সুযোগ পাবেন ৫ দিনের মধ্যে। নিরব পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (পিএনবি) ১৩ হাজার ৫০০ কোটি রুপি জালিয়াতির ঘটনায় ভারতে ফেরারি আসামী। পিএনবি কেলেঙ্কারি গোটা ভারতের ব্যাঙ্কিং শিল্পকে নাড়া দিয়েছিল। তা জানাজানি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই ২০১৮র জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নিরব, মেহুল চোকসিরা ভারত ছাড়েন। নিরব, মেহুল মিলে সরকারি ব্যাঙ্কের কর্তাদের ঘুষ দিয়ে লেটার্স অব আন্ডারটেকিং বের করেন। তার ভিত্তিতেই বিদেশের ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেন। সেই ঋণ শোধ হয়নি। যে ব্যাঙ্ককর্তারা দুজনকে সাহায্য করেছিলেন, তারা ওই লেটার অব আন্ডারটেকিংয়ের তথ্য পিএনবির ব্যাঙ্কিং সফটওয়ারে তোলেননি। ফলে পুরো জালিয়াতিটা দীর্ঘদিন জানাই যায়নি। ১৩ হাজার ৫০০ কোটি রুপি ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি শোধ না হওয়ায় ব্যাঙ্কের ঘাড়েই তার দায় এসে পড়ে। ফেব্রুয়ারির রায়ে ডিস্ট্রিক্ট জজ স্যাম গুজি বলেছিলেন, হীরা ব্যবসায়ীকে ভারতের আদালতে জবাবদিহি করতে হবে। ব্রিটিশ আইনে প্রত্যর্পণ ঠেকানোর যেসব বিধিনিয়ম আছে, সেগুলি তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিচারক আরও বলেন, পিএনবিকে প্রতারণার চক্রান্তে নিরবকে দোষী ঘোষণা করার মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে, তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত।

এদিকে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) জানিয়েছে, তারা বিজয় মাল্য, নিরব মোদি, মেহুল চোকসির আর্থিক কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত মামলায় তাদের বাজেয়াপ্ত বা হেফাজতে নেওয়া সম্পত্তির একাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ও কেন্দ্রকে হস্তান্তর করেছে। ওদের ১৮১৭০.২২ কোটি রুপির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৯৩৭১.১৭ কোটি রুপি সরকারের ঘরে দিয়েছে ইডি। ভারতের এই তিন শিল্পপতির মধ্যে একাধিকজনের মাথার উপর রয়েছে বড় টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ। নিরব মোদির জন্য কার্যত বড় অঙ্কের রুটির ধাক্কা সামাল দিতে হয়েছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ককে। ক্ষতিপূরণ দিতে, ও ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ করতেই ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইডি। ভারতের এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই ওই তিন শিল্পপতির মোট সম্পত্তির থেকে ১৮,১৭০.০২ কোটি রুপি দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, তার প্রায় ৮০.৪৫ শতাংশ এই অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। ঊউ এর মতে মোট বাজেয়াপ্ত করা এই টাকা থেকে ইতিমধ্যেই ৯,৩৭১.১৭ কোটি রুপি ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, এই টাকায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ব্যাঙ্কগুলি।

২০১৬ সালে বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত শুরু করে ইডি। তার মালিকানাধীন কোম্পানি কিংফিশার এয়ারলাইন্স ব্যাঙ্ক থেকে গৃহীত ঋণ শোধ করতে ব্যর্থ হলে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করে ইডি। ভারতের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন সিবিআই তার বিরুদ্ধে তদন্তে নামে। তদন্ত চলাকালীন গত দোসরা মার্চ ভারত ছেড়ে পালিয়ে যান মালিয়া। এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভারত ছাড়েন মেহুল চোকসি ও তার ভাগ্নে নিরব মোদি। বর্তমানে বাতিল হয়ে যাওয়া বিখ্যাত গহনার কোম্পানি গীতাঞ্জলি গ্রুপের মালিক ছিলেন মেহুল। এইমুহূর্তে তিনি আ্যান্টিগার নাগরিক। ভারতের এই তিন শিল্পপতির জন্য ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির ক্ষতি হয়েছে ২২ হাজার ৫৮৫ কোটি ৮৩ লাখ রুটি। তিন পলাতক শিল্পপতিকেই ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এদের মধ্যে বিজয় মালিয়া বলেছেন, সুযোগ পেলেই সব ঋণ শোধ করে দেবেন। বিজয় মালিয়া এখন রয়েছেন ব্রিটেনে। তাকে বন্দি করে ভারতে আনার জন্য সেদেশের আদালতে আর্জি জানিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। ইতিমধ্যে ব্রিটেনের আদালতের বিচারক বলেছেন, জালিয়াতির মামলায় বিচারের জন্য বিজয় মালিয়াকে ভারতে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। মালিয়া আদালতে বলেছিলেন, ভারতের জেলের ভিতরে বন্দিদের খুব খারাপ পরিবেশে রাখা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে তার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। তখন ভারতের গোয়েন্দারা জেলের ভিতরকার ভিডিও চিত্র আদালতে পেশ করেন।

ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ৫০ জন ঋণখেলাপির একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছে হীরা ব্যবসায়ী মেহুল চোকসির নাম। তার কোম্পানি গীতাঞ্জলী জেমসের নামে ৫৪৯২ কোটি রুপি ঋণ নেওয়া হয়েছিল। চোকসির অপর দু’টি কোম্পানিও ঋণ নিয়েছিল বিপুল পরিমাণে। তার মধ্যে গিলি ইন্ডিয়া ঋণ নিয়েছিল ১৪৪৭ কোটি রুপি। নক্ষত্র ব্র্যান্ডস নিয়েছিল ১১০৯ কোটি রুপি। আরইআই অ্যাগ্রো নামে একটি সংস্থা ৪৩১৪ কোটি ও উইনসাম ডায়মন্ডস কোম্পানি ৪০৭৬ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিল।

পিএনবি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হওয়ার পর ২০১৮ সালে ভারত থেকে পালিয়ে অ্যান্টিগুয়া বারবুডায় আশ্রয় নেন মেহুল চোকসি। এরপর ডোমিনিকা হয়ে কিউবায় পালানোর চেষ্টার সময় ধরা পড়েন মেহুল চোকসি। কিন্তু এই ভারতীয় ব্যবসায়ীর উদ্দেশ্য সফল হয় না। তাকে ভারতে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত