প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রিপন দে: জেলায় জেলায় মেডিকেল কলেজ কতোটা প্রয়োজন?

রিপন দে: জেলায় জেলায় গণহারে মেডিকেল কলেজ আপাতদৃষ্টিতে সুখবর হলেও অদূর ভবিষ্যতে তা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। কিন্তু এটা বুঝতে হলে আবেগ দূরে রেখে একটু ভাবতে হবে। গত কয়েকদিন ধরে দেখছি আমাদের সাধারণ মানুষের একটা ধারণা হয়ে গেছে মেডিকেল কলেজ হলেই উন্নয়নের সর্বোচ্চ ধাপ তারা অতিক্রম করবে। আসলেই কি তাই? বাংলাদেশে বর্তমানে ১০০’র কাছাকাছি মেডিকেল কলেজ আছে কিন্তু ভারতের উত্তর প্রদেশ আমাদের থেকে বড় এবং জনগণও বেশি কিন্তু উত্তর প্রদেশে সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা নয়টি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা পাঁচ অর্থাৎ মোট সংখ্যা ১৪।

পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ১২টি মেডিকেল কলেজ সরকারি। চিকিৎসার দিক দিয়ে কি ভারত পিছিয়ে? বরং বাংলাদেশসহ অনেক দেশের রোগীদের কাছে এখন ভরসার নাম ভারতের চিকিৎসা। ভারতের একেকটা শহরে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল আছে যেগুলোর মতো সুযোগ সুবিধা আমাদের অনেক মেডিকেল কলেজও নেই। দেশে মেডিকেল কলেজ হচ্ছে কিন্তু বেশির ভাগে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের যে সুযোগ সুবিধা থাকার কথা সেটাও নেই। তা হলে কি লাভ? একটাই হোক কিন্তু সেটা হোক মানসম্মত। মেডিকেলের সঙ্গে আমাদের জীবনের প্রশ্ন যুক্ত তাই বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন এলাকায় মেডিকেল কলেজ হলে গণহারে ডাক্তার তৈরি হবে। বিষয়টা তাও না। সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হতে জেলা ভিত্তিক আসন থাকে। যদি মৌলভীবাজার জেলার জন্য ১০টা থাকে তাহলে ১০ জনই সুযোগ পাবে ১০০ জন নয়।

এরপরের প্রশ্ন মানসম্মত ডাক্তার হওয়া। ডাক্তার শুধু মুখস্ত বই পড়ে তৈরি হয় না, প্র্যাক্টিকেল প্র্যাকটিস লাগে। আর এর জন্য প্রয়োজন রোগী। একটা জেলা হাসপাতালে কয়টা রোগী আসে বা কয়টা রোগের ভিন্নতা থাকে? মারামারি, হাত কাটা, মাথা কাটা এসবই বেশি। হবিগঞ্জ মেডিকেল বা সুনামগঞ্জ মেডিকেল থেকে যে ডাক্তার বের হবে, একই সময়ে যারা সিলেট ওসমানী থেকে বের হবে তার অভিজ্ঞতা থাকবে বেশি। জেলা শহরের থেকে ওসমানীতে রোগীর চাপ অনেক গুণ বেশি। যতো রোগী ততো ভিন্নতা আর যতো ভিন্নতা তত শিখার ক্ষেত্র বড় হয়। জেলায় জেলায় ৫০টি সিটের মেডিকেল কলেজ না করে সিলেট ওসমানীতে ২০০ সিট বৃদ্ধি করলে কী হতো? এতে ডাক্তারের মান বৃদ্ধি পেতো। যেখানে আমাদের দেশের রোগীদের বড় একটি অংশ বাইরে চলে যায় মানসম্মত চিকিৎসার অভাবে সেখানে আমাদের হাসপাতালের মান বৃদ্ধি জরুরি। আমাদের চিকিৎসকরা অনেক দক্ষ কিন্তু চিকিৎসা শুধু ডাক্তার দিয়ে হয় না, সামগ্রিক সাপোর্টটাই বড়। যতো মেডিকেল কলেজ ততো আলাদা আলাদা পরিচালনার বিষয়। সিলেটের ৪ জেলায় যদি ৪টা হয় এই ৪টাকে মানসম্মত করার থেকে একটাকে করা সহজ।

জেলায় জেলায় মেডিকেল কলেজ না করে যদি সিলেট ওসমানীকে বিশ্বমানের করা যেতো আমাদের রোগীরা ভারত কিংবা সিঙ্গাপুর না গিয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে পারতো। দেশের টাকা দেশেই থাকতো সেই সঙ্গে মানুষও চিকিৎসা সেবা পেতো। গণহারে গড়ে ওঠা দেশের মেডিকেলের মতো বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। কয়েকটি মেডিকেল কলেজ বাদে অধিকাংশ মেডিকেল কলেজে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নেই, মানসম্পন্ন হাসপাতাল নেই। সর্বোপরি রয়েছে একাডেমিক কাজের জন্য রোগীর সংকট। রোগী না থাকলে ডাক্তারের প্র্যাক্টিকেল শিক্ষা আসবে কোথা থেকে? অপারেশন কীভাবে করতে হয় তাতো রোগীকে অপারেশন করেই শিখতে হবে। নাকি বই পড়ে? বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে উত্তীর্ণ এমবিবিএস চিকিৎসকেরা পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে দুর্বল থাকে কারণ আমাদের দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে রোগীর সংখ্যা থাকে বেশি ,যেমন-ওসমানী।

জানি আমার এই স্ট্যাটাসের কোনো মূল্য নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো হবিগঞ্জ বা সুনামগঞ্জে মেডিকেল কলেজ না করে ওসমানীতে ২০০ সিট বৃদ্ধি করে এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের জন্য মঙ্গল হতো। হয়তো শেষ যুক্তি দেবেন যে, মেডিকেল কলেজ হলে অনেক অধ্যাপক আসবেন। কিন্তু বর্তমান যা দরকার সেটাই যখন পাচ্ছি না, বড় কিছুর চাহিদা পূরণ হবে কীভাবে? নাকি আমরা বিল্ডিং দেখেই সুখে থাকব। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, বর্তমানে জেনারেল হাসপাতাল হয়েছে। মানে এখানে এখন সব ধরণের রোগের চিকিৎসা পাবেন কিন্তু গিয়ে দেখেনতো পান কীনা? কতটা পদ ডাক্তারের খালি? হার্টের ডাক্তার নেই অথচ আমাদের হার্টের রোগীর সংখ্যা অসংখ্য। তাই যা আছে সেটাই যদি ঠিকমতো দেওয়া না হয়, মানে সকালের নাস্তায় যদি খালি চা খেতে হয় দুপুরে কাচ্চি বিরিয়ানির খালি প্যাকেট দিয়ে কী লাভ? আবেগী জনগণ বুঝলেই হয়! ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত