প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অবশেষে বঙ্গবন্ধু উদ্যানটির” প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ শুরু করলেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা

আসাদুজ্জামান বাবুল:[২] নামকরনের দুইযুগ পর তার কাটার বেড়া দিয়ে গোপালগঞ্জের পাইকেরডাঙ্গাঁ সুচিডাঙ্গাঁ গ্রামের সেই অবহেলিত ”বঙ্গবন্ধু উদ্যানটির” প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা।

[৩] একই সাথে তিনি, এ উদ্যানটিতে গোপালগঞ্জসহ দেশ ও দেশের বাহিরের পর্যটকরা যাহাতে সারাদিন মনোরম পরিবেশে বিনোদনসহ সময় কাটতে পারেন তার জন্য উপযোগী পরিবেশও গড়ে তোলার কাজও শুরু করেছে। জেলা প্রশাসক কতৃক পরিচালিত বঙ্গবন্ধু উদ্যানের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করবেনা এমন পযটকদের জন্য গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর তীরবর্তী সুকতাইল ইউনিয়নের পাইকেরডাঙ্গাঁ সুচিডাঙ্গাঁ গ্রামে বঙ্গবন্ধু নামকরন করে গড়ে তোলা হয়েছে ”বঙ্গবন্ধু উদ্যানটি”।

[৪] জেলা শহর হতে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সরকারের প্রায় ৪৫ বিঘা খাস জমিতে গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু উদ্যানটিতে রয়েছে প্রাচীন আমলের একটি বটগাছ ছাড়াও আকাশি গাছ, সিরিজ গাছ, শিশু গাছ ও কালি বাবরা গাছসহ নানান প্রজাতির প্রায় এক কোটি টাকা মুল্যের প্রায় এক হাজারেরও বেশি গাছপালা।

[৫] স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলেছেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুকতাইল ইউনিয়নের পাইকেরডাঙ্গাঁ ও সুচিডাঙ্গাঁ নামে দুটি গ্রাম রয়েছে। গ্রাম দুটিতে হিন্দু অধিবাসীসহ বিজয় বাবু ও হরিপদ বাবু নামে দু,জন জমিদার ছিলেন। প্রায় শত বছর আগে ওই দুই হিন্দু জমিদার মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশ না থাকায় এই জমি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। ৯০ দশকের দিকে স্থানীয় জনগন গোপালগঞ্জের প্রশাসনের অনুমতিক্রমে সরকারের ওই খাস জায়গাটিতে বঙ্গবন্ধু উদ্যান নামকরন করে একটি সাইনবোড টাঙ্গিঁয়ে দেয়।

[৬] কিন্তু গোপিনাথপুর গ্রামে বাড়ী ইনায়েত নামে একজন জালিয়াত ওই ৪৫ বিঘা জমির মালিকানা দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। এরপর তথ্য প্রমানের ভিত্তিত্বে আদালত সরকারের পক্ষে রায় দেন। সঠিক পরিচর্যা ও অযত্ন আর অবহেলায় বঙ্গবন্ধু উদ্যানটির প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পথে ঠিক এমন এক সময় গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানার বিষয়টি নজরে পড়ে।

[৭] এরপর তিনি নিজ চোখে বঙ্গবন্ধু উদ্যানটির বর্তমান পরিস্থিতি দেখতে বেশ কয়েকবার ঘটনাস্থলে যান এবং কাজ শুরু করেন।

[৮] বঙ্গবন্ধু উদ্যান পরিদশনের সময় চ্যানেলআইকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে সুকতাইল ইউনিয়নের পাইকেরডাঙ্গাঁ সুচিডাঙ্গাঁ সরকারের প্রায় একর খাস জায়গা অব্যবহত রয়েছে। আমাদের সরকারী যে সম্পদ আছে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত।

[৯] তো এটি আমাদের একটি বিরাট সম্পদ। এ জায়গাটি অত্যন্ত চমৎকার একটি জায়গা। এতো বেশি এবং অপরুপ সুন্দর এমন কোন জায়গা আমাদের গোপালগঞ্জ জেলায় আর কোথাও নেই। জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সৃত্বি বিজড়িত জেলা গোপালগঞ্জে জাতিরপিতাকে জানতে এবং চিনতে দেশ ও দেশের বাহির হতে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ আসেন।

[১০] বেশ কয়েক বছর আগে বঙ্গবন্ধু উদ্যানটি গোছানো হয়েছিলো ঠিকই কিন্ত নানান জটিলতার কারনে পযটকদের বিনোদন ও সময় কাটানোরমত পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। তাই বঙ্গবন্ধু উদ্যানের পরিবেশ সংরক্ষনসহ পযটকদের সময় কাটানোরমত উপযোগী করতে আমরা সিমানা প্রাচীরে তার কাটার বেডা দিয়েছি।কিন্ত, তাদের বিনোদনসহ সময় কাটানোরমতো ওই রকম কোন জায়গা আমাদের নাই। যেহেতু সরকারের এই জায়গাটুকুন পড়ে আছে সেহেতু জায়গাটুকুন বিনোদনের জন্য উপযোগী করে রাখা গেলে দেশ ও দেশের বাহির হতে গোপালগঞ্জে আসা পযটকরা এখানে নিরিবিলি সময় কাটাতে পারবেন।

[১১] বঙ্গবন্ধু উদ্যানটির প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করবেনা কেবলমাত্র এমন পযটকদের বিনোদনসহ সময় কাটানোর জন্য এমন উদ্দোগ গ্রহন করা হয়েছে, এমন কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, এই বঙ্গবন্ধু উদ্যানকে কেন্দ্র করে এই এলাকাছাড়াও আশপাশ এলাকার মানুষের জিবনযাত্রা মানের অনেক উন্নয়ন ঘটবে। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ নস্ট করবেনা এমন পযটকদের সারাদিন সময় কাটানোর জন্য যে সকল সুযোগ সুবিধার দরকার তা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা করে যাবো। যাতে করে ওই পযটক নিরাপদে সময় কাটাতে পারে।

[১২] এদিকে, স্থানীয় ভ্যান চালক ইছাহাকসহ কেউ কেউ বলেছেন, গ্রামের ভেতরে বিনোদন কেন্দ্র/পাক করা হলে আমাদের ছেলে মেয়েরা খারাপ হয়ে যাবে। তাই, সরকারের এই ৪৫ বিঘা জায়গায় পার্কের বদলে মিল-কলকারখানা গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে দাবী করেন ভ্যান চালক ইছাহাকসহ অন্যান্যরা।

 

সর্বাধিক পঠিত