প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সৌদি আরবে অর্গানিক খামার বেড়েছে ২৮ শতাংশ

ওয়ালিউল্লাহ সিরাজ: [২] সৌদি আরবের অর্গানিক খামারের সংখ্যা গত এক বছরে ২৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩১২ টি। ২০১৯ সালের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার ২৭.৭ শতাংশ। যেখানে ২০১৮ সালে মোট অর্গানিক কৃষি অঞ্চল ছিল ২৪৫১৭.৮৯ হেক্টর। ২০২০ সালে তার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৬৬৩২.৪৮ হেক্টর। কৃষি অঞ্চল বৃদ্ধির হার ৮.৮ শতাংশ। গালফ নিউজ

[৩] একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন ২০১৯ সালে জৈব উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬১৪৪১.৪৫ টন। ২০২০ সালে উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮৫৫৮.৮১ টন। শতাংশ হিসেবে উৎপাদনের হার প্রায় ৬০%।

[৩] পরিবেশ, জল ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের জৈব উৎপাদন বিভাগের পরিচালক আয়মান আল গামদি বলেন, জৈব চাষ হলো উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয়ই কৃষি উৎপাদনের একটি পদ্ধতি।

[৪] সৌদি আরব আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে সমস্ত জৈব পদ্ধতি উৎপাদিত পণ্যের গায়ে কিউআর কোর্ড ব্যবহারে নিয়ম চালু করেছে। গ্রাহকরা তাদের স্মার্টফোন দিয়ে স্ক্যান করতে পারেন। নিজেদের টেবিলের খাবার ট্র্যাক করে দেখতে পারবেন পণ্যটি কোন খামারে উৎপাদন হয়েছে। যে কেউ পণ্যের মূল উৎপাদনকারীকে খুঁজে পেতে পারবে। এছাড়াও প্রতিটি পণ্যের সকল প্রকার ডেটা সংরক্ষণ করা হবে।

[৫] কৃষি মন্ত্রণায় জানায়, কেউ জৈব কৃষি আইন লঙ্ঘন করলে তার লাইসেন্স এক বছরের বেশি সময়ের জন্য স্থগিত করা হতে পারে। এছাড়াও হতে পারে অর্থ দন্ড।

[৬] সৌদি আরবে কৃষিখামার একটি লাভজনক ব্যবসা, তবে এর পেছনে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। লাভ যেমন ঝুঁকিও রয়েছে। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরবে ৪৮/৫০ ডিগ্রির প্রচণ্ড তাপমাত্রা থাকে। এসময় জমিনের ফসল গরমে মারা যায়, যাতে ক্ষতির পরিমাণটা অনেক বেশি।

[৭] সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমানে এই কৃষি খামারে ৩০ জন নিয়মিত শ্রমিক কাজ করছেন। তাঁরা সবাই বাংলাদেশি। খামারটিতে মূলত করলা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, শিম, মরিচ, শিমলা মরিচ, কচু, ধনেপাতা এবং নানা রকম শাক উৎপাদন হয়। সেই সঙ্গে আছে মুরগি পালন, জলাশয় বানিয়ে হাঁস পালন। এ ছাড়া কিছু আমগাছ রয়েছে, যেগুলোতে প্রচুর আম হয়।

[৮] তারা আরও জানান, এখানে ফসল উৎপাদন ভালো হয়, তবে বীজ উৎপাদন সম্ভব হয় না। বীজ আনতে হয় বাংলাদেশ থেকে। প্রতি কেজি বীজ আনতে বাংলাদেশে ১৫-২০ হাজার টাকা ট্যাক্স দিতে হয়, যা খুবই ব্যয়বহুল বলে অভিযোগের সুরে বলেন তাঁরা।

[৯] সৌদি আরব জৈব কৃষি পরিকল্পনার বিষয়টি মন্ত্রিসভায় অনুমদন দেয় ২০১৮ সালে। সেই সঙ্গে এই খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিলো ৭৫০ মিলিয়ন সৌদি রিয়েল।

[১০] অর্গানিক উৎপাদিত পণ্য ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নিয়েছে সৌদি সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন হলে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে। দেশটির অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস উম্মোচিত হবে। সম্পাদনা : রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত