শিরোনাম
◈ বনশ্রীতে জুতার কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট ◈ যড়যন্ত্র না থাকলে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হলো কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের ◈ শিমুলিয়া ঘটে প্রায় ২০০ বাইক নিয়ে ছাড়লো ফেরি ◈ ‘সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত’ ◈ প্রথম ১৫ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে আয় দেড় কোটি টাকা ◈ বিশ্ব গণমাধ্যমে পদ্মা সেতু: জাতির গর্ব ও সামর্থ্যের প্রতীক  ◈ পদ্মা সেতুর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে এশিয়ার ৫ দেশ ◈ নাশকতাই ছিলো পটুয়াখালী ছাত্রদল কর্মী বাইজীদের উদ্দেশ্য: সিআইডি ◈ জাতিসংঘে র‌্যাপোটিয়ারের দাবি অর্থহীন: তথ্যমন্ত্রী ◈ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে বাসভবনে দুই নাতনি

প্রকাশিত : ০৪ জুন, ২০২১, ০৫:৪৫ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২১, ০৫:৪৫ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] আবাসন সংকটকেই সম্ভাবনা হিসেবে কাজে লাগাতে চায় জবি

অপূর্ব চৌধুরী: [২] করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে এক বছরের বেশি সময় ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। দেশের একমাত্র অনাবাসিক এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের স্থবিরতা কাটাতে এবার আবাসন সংকটকেই সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। তারই প্রেক্ষিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হল না থাকার সুবিধা নিয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে চান সংশ্লিষ্টরা।

[৩] বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস-পরীক্ষা সচল করার দাবিতে ইতিমধ্যেই কয়েকদফা আন্দোলন করেছে। করোনা ভাইরাসের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে সেশনজট তৈরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে বলে ধারণা শিক্ষার্থীদের।

[৪] জানা যায়, গত মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের ভার্চুয়াল জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সঙ্গে পরামর্শ করে সশরীরে এবং অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে পারবে। তবে যাদের সক্ষমতা রয়েছে তারা চাইলে আপাতত অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে পারবে। আপাতত বন্ধ রাখা হবে সব আবাসিক হল। হলে থাকা শিক্ষার্থীদের শতভাগ টিকা প্রদান নিশ্চিত করে হল খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ভিন্ন দেশের একমাত্র অনাবাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা । হল না থাকায় একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদক্রমে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে পারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

[৫] বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশেই অবস্থান করছে।

[৬] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইত্তেসাফ চৌধুরী বলেন, করোনার প্রকোপে পড়াশোনা বন্ধ।বিশ্ববিদ্যালয় খোলার নানা গুঞ্জনে কয়েকবার গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে মেস ঠিক করি। তবে ক্যাম্পাস না খোলায় আবারও মেস ছেড়ে বাড়িতে যেতে হয়েছে। এখন আবার ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবার আশ্বাস পাচ্ছি৷ আমরা চাই দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করা হোক। তাতে আমাদের ভোগান্তি কমবে।

[৭] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, আমরা পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে আছি এবং পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত। একাডেমিক কাউন্সিলের সাথে উপাচার্য মহোদয় মিটিং করে একটা সিদ্ধান্ত নিবে। মিটিংয়ে যেটা সিদ্ধান্ত হবে সেটা আমরা বাস্তবায়ন করব।

[৮] বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, পরীক্ষা অবশ্যই নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডিনদের নিয়ে আগামী রবিবার বা সোমবার আমরা মিটিংয়ে বসবো উপাচার্য মহোদয়ের সাথে। আমাদের পরিকল্পনা আছে ১লা জুলাই থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার এবং এর আগে ক্লাস শুরু করার।

[৯] বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নুরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদেও নতুন উপাচার্য যোগদান করেছেন। স্যারের সাথে কথা বলে দ্রুত পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। স্যারের সাথে আমরা কথা বলব।

[১০] সেশনজট নিরসন ও পরীক্ষা প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে সেশনজট তৈরি হয়েছে। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে যারা আছে তাদের আগে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা আছে। যাতে তারা পাশ করে দ্রুত চলে যেতে পারে এবং চাকরি করতে পারে।

[১১] যোগদানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন ও বিভাগের চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনা করে পরীক্ষা ও সেশনজট নিরসনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। খুব দ্রুত সময়েই এই সংকট নিরসন করে ফেলবো বলে আমি আশা রাখি।

  • সর্বশেষ