প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ: ১২ প্রণোদনা প্যাকেজের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী সোয়া কোটি গ্রাহক

নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস সৃষ্ট আর্থিক দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ দিতে এখন পর্যন্ত ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এসব প্যাকেজের আকার দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ঋণ হিসেবে দেয়া প্রণোদনা প্যাকেজের বড় অংশের বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে ১২টি প্যাকেজের আওতায় সুবিধাভোগী হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ মানুষ। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দেশের ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাত, ক্ষুদ্র কুটির ও মাঝারি শিল্প, কৃষি খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, বিতরণকৃত শস্য ও ফসল খাতে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদহারে কৃষিঋণ প্রদান, পাঁচ বছর মেয়াদি মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ বিতরণ, বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ কর্মসূচির আওতায় ঋণ বিতরণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, আনসার ও ভিডিপি ব্যাংকের অনুকূলে তহবিল বরাদ্দসহ মোট ১০টি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১৩ লাখ গ্রাহক প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হয়েছেন।

দেশে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ মাত্রা পেলে রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সবার আগে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এ প্যাকেজের আওতায় ২০২০ সালের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, প্যাকেজটির আওতায় প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হয়েছেন প্রায় ৩৮ লাখ শ্রমিক। ২০২০ সালের এপ্রিল ও মে মাসের ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ব্যাংকঋণের বিপরীতে ৫ হাজার কোটি টাকা সুদ ভর্তুকি ঘোষণা করে সরকার। প্রণোদনা হিসেবে দেয়া এ সুদ ভর্তুকিতে দেশের প্রায় ৭৩ লাখ গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

করোনা সৃষ্ট আর্থিক দুর্যোগ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে দেশের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের (সিএসএমই) জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। ৪ শতাংশ সুদে দেয়া এ ঋণের ১৪ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সিএসএমই খাতের প্রণোদনা প্যাকেজে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হয়েছে ৯৫ হাজার ৭৩৩ জন। এ প্যাকেজের আওতায় ১১ লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে সুবিধাভোগী হয়েছে। কৃষি খাতে পুনঃঅর্থায়ন হিসেবে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ প্যাকেজের আওতায় এরই মধ্যে ৩ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ।

নিম্ন আয়ের পেশাজীবী কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি। এ প্যাকেজের আওতায় এরই মধ্যে ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা অনুমোদনের বিপরীতে ব্যাংকগুলো ১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, শস্য ও ফসল খাতে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদের কৃষি ঋণ বিতরণ হবে চাহিদা অনুযায়ী। এ খাতে এরই মধ্যে ৪ হাজার ৫৬ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ।

এছাড়া আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের অনুকূলে কৃষি উৎপাদন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বিতরণ হয়েছে ১৫৪ কোটি টাকা। ২০০ কোটি টাকার ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচিতে এরই মধ্যে ৭২ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। এ উপখাতে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজার গ্রাহক।

মহামারী থেকে দেশের রফতানিমুখী শিল্পকে সুরক্ষা দিতে রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার ৩৫০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫৫০ কোটিতে উন্নীত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে কমানো হয় ইডিএফ থেকে নেয়া ঋণের সুদহার। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ইডিএফ তহবিলে যুক্ত হওয়া প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। এ তহবিল থেকে নতুন করে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হয়েছে ৬ হাজার ৬৫০ গ্রাহক। – বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত