প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাহিদুর রহমান: উন্নত বিশ্বে করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে জটিল এবং কুটিল ধরনের রাজনীতি চলছে!

জাহিদুর রহমান: করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত যে কয়েকটি ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়েছে এর মধ্যে ফাইজার বায়নটেকের এমআরএনএ ভ্যাকসিনটি সবচে বেশি কার্যকরী, ব্যয়বহুল, তুলনামূলকভাবে কম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পন্ন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এবং সবচে বেশি গবেষণা চালানো হয়েছে, এমন একটি ভ্যাকসিন। একইসঙ্গে এই ভ্যাকসিনের সংরক্ষণ প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে জটিল এবং ব্যয়বহুল। আমাদের সৌভাগ্য, বিশ^জুড়ে করোনাভ্যাকসিনের তীব্র সংকটের মধ্যেও আমরা একলাখ ডোজ ফাইজারের ভ্যাকসিন পেয়েছি। সুতরাং এই ভ্যাকসিন নিয়ে কোনো ধরনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। প্রথম কাজ হলো এই ভ্যাকসিন কোন কোন সেন্টারে দেওয়া হবে সেটি নির্ধারণ করা এবং সেগুলো অবশ্যই ঢাকা শহরের সবচে ভালো সেট আপ আছে এমন হাসপাতাল হতে হবে। বিশেষ করে যেখানে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রড রেফ্রিজারেটর, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও জনবল আছে।

এই মুহূর্তে আমাদের দেশে প্রচণ্ড গরম। ফ্রিজ থেকে বের করার পর যত দ্রুত সম্ভব এটি শরীরে প্রবেশ করাতে হবে। দ্বিতীয় কাজ হলো, এমন ৫০ হাজার মানুষ নির্বাচন করা যাদের জন্য এই মুহূর্তে ভ্যাকসিন নেওয়া খুব জরুরি এবং তারা এখন পর্যন্ত অন্য কোনো প্রকার করোনা ভ্যাকসিনের এক ডোজও গ্রহণ করেননি। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৫৫ বছরের ওপরে যাদের বয়স সঙ্গে অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত এবং তাদের বসবাস অধিক সংক্রমিত এলাকায়, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া বাধ্যতামূলক। সুরক্ষা অ্যাপের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে রেজিস্ট্রেশন করে কেউ যেন এই ভ্যাকসিন না নিতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রাইভেট মেডিকেল সেক্টর ভিত্তিক একটি দুষ্টুচক্র এই ভ্যাকসিনের ওপর নজর দিবে, সংশ্লিষ্টদের সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

ফাইজারের এই টিকার দুই ডোজের মধ্যে ব্যবধান ৩-৪ সপ্তাহ। আমাদের উচিত ৩ সপ্তাহ পরেই দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এতে সিস্টেম লস কম হবে, কার্যকারিতাও ভালো পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে প্রেগন্যান্ট বা ল্যাকটেটিং মায়েদের প্রায়োরিটি লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কারণ এই ভ্যাকসিন এই দুই পরিস্থিতিতে সবচে নিরাপদ। অনেকেই প্রেগন্যান্ট বা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর কথা চিন্তা করে অক্সফোর্ডের টিকা মিস করেছেন, তাদের ফাইজারের ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচিং অর্থাৎ এক ভ্যাকসিনের সঙ্গে আরেকটি ভ্যাকসিন মিলিয়ে দেওয়ার ধারণাটি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। বিশ্বে কোনো দেশে এই পদ্ধতিতে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে না। সুতরাং বাংলাদেশেও আপাতত এটি নিয়ে আলোচনা না করাই শ্রেয়।

যে ১২ থেকে ১৪ লাখ মানুষ অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের এক ডোজ পেয়েছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তারা ৩-৪ মাস পর দ্বিতীয় ডোজ নিলেও কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। এক ডোজেও তারা অনেকখানি সুরক্ষা পাবেন। তাছাড়া তাদের মধ্যে যারা প্রথম ডোজ নেওয়ার আগে বা পরে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তারা প্রায় দুই ডোজের কাছাকাছি সুরক্ষা পাবেন। চীন আর রাশিয়ার ভ্যাকসিন গণহারে দেওয়া শুরু করলে দেখবেন অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনও দেশে এসে হাজির হয়েছে। এটাই রাজনীতি। উন্নত বিশে^ করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে খুব জটিল এবং কুটিল ধরনের রাজনীতি হচ্ছে। তার প্রভাব পরছে গবেষণার উপরেও। যে যার স্বার্থে কোনো অসম্পূর্ণ বা মানহীন গবেষণার খণ্ডিত তথ্য মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করছে। মনে রাখবেন, সব ভ্যাকসিন করোনা ভাইরাসের সব ভ্যারিয়েন্টের ওপর কাজ করে। কিছুটা কম বা কিছুটা বেশি। সুতরাং যখন যে ভ্যাকসিন পাবেন নিয়ে নিবেন। তাতে আপনি গুরুতর অসুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাবেন। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত