প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ

রিয়াজ মাহমুদ বিনু: মেঘনানদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এবং পূর্ণিমার প্রভাবে ঝড়োহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে মেঘনা নদীর জোয়ারে পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫থেকে ফুট বেড়ে জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার মেঘনানদীর তীরবর্তী দুই উপজেলার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায় কমলনগর উপজেলার মেঘনার তীরবর্তী চরফলকন, পাটারির হাট,সাহেবের হাট,চরকালকিনি ও চরলরেঞ্চ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি রাস্তাঘাটসহ ব্যাপক স্থাপনা। জোয়ারের তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে সাহেবেরহাট ইউনিয়নের মিন্টু সড়ক, মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের কমান্ডার সড়ক,পাতাবুনিয়া সড়ক, ইসমাইলিয়া সড়ক ও চরফলকন ইউনিয়নের ছেলামত হাওলাদার সড়ক। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভেসে গেছে পুকুরসহ বিভিন্ন ঘেরের মাছ। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ফসলের ক্ষতিসহ তীরবর্তী মানুষের চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।এছাড়াও বেড়ীবাঁধ না থাকায় রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী পৌর শহর আলেকজেন্ডার বাজার এলাকা,বালুরচর,সুজনগ্রাম,জনতা বাজার, মুন্সীরহাট, বাংলাবাজার, সবুজগ্রাম, আসলপাড়া, , সেবাগ্রাম, চরটগবী, গাবতলী, চরআলগী, চরগোঁসাই, চরমিজ, বড়খেরী, চরগাজী, চরগজারিয়া, চর মুজাম্মেল ও তেলিরচরসহ নিম্নাঞ্চল এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পানিবন্দি মানুষগুলো তাদের গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি শিশুদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫ফুট পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেকের রান্নার চুলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে রয়েছেন তারা।
কমলনগর উপজেলার সাহেবেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার আবুল খায়ের ও চরফলকন ইউপি চেয়ারম্যান হাজী হারুনুর রশিদ জানান, মেঘনার প্রবল বাতাস ও জোয়ারের পানি ঢুকে তাদের ইউনিয়ন সহ আশেপাশের এলাকার ঘরবাড়ি ও মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানির তীব্র জোয়ারে দুই ইউনিয়নে ৫টি সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান জানান, ঘূর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে হঠাৎ জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উপকূলীয় পানিবন্দি সকল এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারণ করে উর্ধ্বতন মহলে অবহিত করেছেন।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন বলেন,বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। জনপ্রনিধিদেরকে এলাকাবাসীর পাশে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত