প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রসালো ফল লিচুর আশানুরুপ ফলন

তৌহিদুর রহমান : [২] বাংলাদেশের যে কয়টি রসালো মৌসুমী ফল রয়েছে তার মর্ধ্যে সবচেয়ে আর্কষণীয়
সুস্বাদু ফলের নাম লিচু।

[৩] জেলার বিজয়নগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দিন দিন বাড়ছে এর ফলন। বিরূপ আবহাওয়ায়ও চলতি মওসুমে জেলায় লিচুর আশানুরূপ ফলন হয়েছে। চাষীরা জানিয়েছেন বাজার দর ভাল থাকায় তারাও লাভবান হচ্ছেন।

[৪] কৃষি বিভাগ ও সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ২০০১ সাল থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর বাণিজ্যিক ভাবে লিচুর চাষ শুরু হয়। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য উপযোগী। জেলার সীমান্তবর্তী কসবা, আখাউড়ায় ও বিজয়নগর এ তিন উপজেলায় লিচুর আবাদ হয়। তার মধ্যে বিজয়নগরে আবাদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

[৫] চলতি মওসুমে অন্তত ৫ শ ১০ হেক্টর জমিতে এবার লিচুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৩০ মেঃ টন।চলতি মওসুমে জেলায় প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার লিচু উৎপাদিত হবে।

[৬] উপজেলার আউলিয়া বাজার, সিংগারবিল, হরষপুর, চান্দুরা, বিষ্ণুপুর, ছতরপুর, আজমপুর, চম্পকনগর বাজারে লিচু বিক্রি হয়। এসব বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, নোয়াখালী, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, ফেনী ও রাজধানী ঢাকার ব্যবসায়ীরা পায়কারি দরে লিচু কিনে পিকআপ ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে নিয়ে যান। এখানে উৎপাদিত লিচুর মধ্যে পাটনাই, চায়না-৩ ও বোম্বাই উল্লেখযোগ্য।

[৭] ইতোমধ্যে পাটনাই জাতের লিচুর সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গুনগতমান ভাল ও বিষমুক্ত হওয়ায় ও এখানকার লিচুর কদর দিন দিন বাড়ছে। প্রতি হাজার লিচু বাগানে থেকে প্রকার ভেদে ১৫ শ থেকে ২৫শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট বড় মিলিয়ে জেলায় ৪২০ টি বাগান রয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ায় লিচুর ভাল ফলন পেয়ে কৃষকরা খুশি।

[৮] বিজয়নগরের লিচু চাষী সোলেমান মিয়া জানান, লিচুর উৎপাদন ভাল হয়েছে। পাশাপাশি দামও ভাল পাওয়া যাচ্ছে। তবে খরার কারণে লিচুর বৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে। কিছু লিচু হাজার পিস ১৮শ টাকা আবার কিছু লিচু ১৫শ টাকা থেকে ২৫শ পর্যন্ত একেক দরে বিক্রি হয়।

[৯] আরেক চাষী মিলন ভূইয়া জানান, বাগানে যে পরিমাণ লিচুর ফলন গাছে হয়েছে তা আশানুরুপ। তবে বাগান পাহারাসহ লিচুর গাছ থেকে পেরে বাজারজাত করা পর্যন্ত খরচ বেড়ে যাওয়া আমার বাগান মালিকরা লাভের মুখ কিছুটা কম দেখছি।

[১০] কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক রবিউল হক মজুমদার জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনের অবস্থা খুবই ভাল হয়েছে। চলতি মওসুমে ১ হাজার ৫৩০ মেঃ টনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল সে অনুপাতেই উৎপাদন হবে। আমরা আশা করছি আবাদ বাড়ার পাশাপাশি চলতি মওসুমে জেলায় প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার লিচু উৎপাদিত হবে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত