প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবু ওবায়দা বিপ্লব: প্যালেস্টাইন ইসরায়েলের সাথে মিশে যাওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ!

১৯৬৭ আরব-ইসরায়েলের ৬ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী মিশরের কাছ থেকে গাজা ভূখন্ড ও সিনাই উপদ্বীপ, জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম এবং সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি ছিনিয়ে নেয়। শক্তি আর সংখ্যায় সব দিক থেকেই তিন আরব দেশ অনেক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের কৌশলের কাছে আরব দেশগুলোকে চরম ভাবে হারতে হয়।
যুদ্ধের ঠিক আগে ওদের ন্যাশনাল মিডিয়াতে প্রচার করতে থাকে যে বেশীরভাগ পাইলটই ছুটিতে আছে। সাথে আমেরিকান এমব্যাসির ট্র্যাকিং ডিভাইসও ধ্বংস করে দেয় ওরা যাতে ‘অপারেশন ফোকাস’ নামক এয়ার স্ট্রাইকের খবর বাইরের বিশ্ব জানতে না পারে। এমনকি ইসরায়েলি পাইলটরা এই অপারেশনের ব্যাপারে জানতে পারে অপারেশনের ৫ ঘণ্টা আগে। ২০০ বিমান মিশরের ১৪টা এয়ারফিল্ডে হামলা চালিয়ে ওদের ৩৩৮ টা বিমান ধ্বংস করে সাথে একশরও বেশি পাইলট নিহত হয়। এরপরে যুদ্ধের বাকি সময়টা জুড়ে ইসরায়েলই আকাশ নিয়ন্ত্রণে রাখে যুদ্ধ বিমান দিয়ে।

এবার ঈদের দিন থেকে ইসরাইলী ডিফেন্স ফোর্স ঘোষনা করেছিল তারা অল আউট গাজা অভিযানে নামবে ঈদের পর। সেই অনুযায়ী প্রায় ৯ হাজার গ্রাউন্ড ফোর্স হাজির করে গাজা সিমান্তে। গাজার অভ্যন্তরে এই খবর ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দিতেই হামাসের সব যোদ্ধারা “গাজা মেট্রো’ বলে পরিচিত প্রায় ১২ কিলোমিটার বিস্তৃত ভুগর্ভস্থ টানেলে রকেট/গোলাবারুদের মজুদ সহ আশ্রয় নিতে হুড়মুড় করে নেমে পড়ে। ইসরাইলী ফোর্স এই খবর নিশ্চিত হওয়া মাত্রই ঝাপিয়ে পড়ে তাদের হাতে আসা এই টানেল গুলির নকশার ওপর। প্রায় শতাধীক যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষনে এই টানেল গুলি সব গুড়িয়ে যায়। হতাহতের পরিমান এখনো নিরুপন হয়নি। আর আসল তথ্য হলো ইসরাইলী ফোর্সের আদৌ গাজা অভিযানের কোন পরিকল্পনাই ছিলনা, এটা ছিল একটি ট্রাপ মাত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্তত্তায় ইসরায়েলর সাথে অনেক আরব দেশেরই শান্তি চুক্তি হয়েছেে, ফলে ওরা ইসরায়েলকে ঘাটাবেনা। নেতানিয়াহু মনে করে ইরান হচ্ছে তার চরম শত্রু, সাথে আছে এরদোগানের তুরস্ক। ইসরায়েলের যে সামরিক শক্তি এখন তাতে ওরা ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধে যাবে না আর যদি যায়ও তাহলে ওরা ওদের নিজ ভূখণ্ড হারাবে, ১৯৬৭ সালে যেমনটা হয়েছিল। ইরান, তুরস্ক, লেবানন সহ আরব কিছু দেশ হামাসকে মদদ দেয় এই অস্থির অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য। ইসরায়েলও সেটা পরিষ্কার করে জানে।

বাংলাদেশ পাকিস্তান সহ বিশ্বের আরও অনেক দেশে আমরা দূর থেকে প্যালেস্টাইনের জন্য চিল্লাই, সোশ্যাল মিডিয়া গরম করে ফেলি বা রাস্তায় মিছিল করি কিন্তু একটা জিনিস বুঝিনা খেলা আসলে অনেক আগেই শেষ। প্যালেস্টাইনের কোন আশা নাই। বুদ্ধিমানের কাজ হবে যদি প্যালেস্টাইন ইসরায়েলের সাথে মিশে যায়। তাহলে প্যালেস্টাইনে বসবাসরত মানুষগুলা শান্তিতে জীবনটা কাটিয়ে যেতে পারবে। বাইরের বিশ্বের মুসলমানদের উস্কানিতে ওদের বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখছেে। প্যালেস্টাইনে বসবাসরত মানুষগুলা বলতে গেলে এখন living dead, আপনি বা আমি ওদের উস্কানি দিয়ে বরং ক্ষতিই করছি, বাস্তবতাকে মেনে না নিয়ে। আকাশ থেকে আর অলৌকিক কোন আবাবিল পাখি আসবেনা ওদের উদ্ধার করতে, অনেক আগে যেমনটা হয়েছিল বলে শোনা যায়।

রাজতন্ত্রের কারনে আরব দেশের সামরিক বাহিনির কমান্ড এককেন্দ্রিক, উপর থেকে আসা, আর আরবদের মধ্যে নানান জাতি গোষ্ঠীর হাজার রকমের সংস্কার আর প্রাইডের কারনে ওদের সোলজাররা ইসরায়েলের বাহিনির মত চৌকশ নয়। যেকারনে দেখবেন এতবড় সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের হুতি বাহিনির সাথেই পেরে উঠেনা।

যুদ্ধ করতে নামলে হয় আপনি জিতবেন বা হারবেন, কিন্তু হারার পর আপনি খালি মানবিক আবেদন দিয়ে গোটা মানব জাতিকে পেচিয়ে ফেলতে পারেননা, প্যালেস্টাইনের ক্ষেত্রে ছোট বেলা থাকে এটাই দেখে আসছি, খালি মাইর খাচ্ছে আর চিৎকার চেচামেচি বেড়েই চলছে। প্যালেস্টাইনকে অন্তত ৩ বার তাদের জায়গা বরাদ্দ দিয়ে রাষ্ট্র করতে বলা হয়েছে, কিন্তু তারা তা মেনে নেয়নি বরং ইসরায়েলকে আক্রমণ চালিয়েছে। এখন ইসরায়েল সেই আগের জায়গাও তাদের দিবে বলে মনে হচ্ছে না।

ধরেন আপনাকে ২০ গ্লাস সুস্বাদু পানীয় দেয়াহোল আর আপনি জানেন এর মধ্যে অন্তত একগ্লাস পানীতে বিষ আছে, আপনিকি তাহলে ঐ বিশগ্লাস পানি নিবেন আপনার ঘরে? বিশটা গ্লাসের কোনটাকেই কি আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন? ঠিক তেমটি হয়েছে প্যালেস্টাইনে, অনেক ভালো মানুষ আছে যারা নিরীহ ইসরায়েলে আসে কাজ করতে কিন্তু ইস্রায়িলিরা ওদের বিশ্বাস করেনা বা করতে পারেনা ঐ বিশ মেশানো পানির গ্লাসের মত। ফলে ওদের ধ্বংস করতে চায়। এ এক আজব অবস্থা।
উসকানি না দিয়ে সমাধানের কথা ভাবাই বুদ্ধিমানের কাজ, আর মনে রাখতে হবে ইহুদীরা সারাজীবন মার খেয়ে এসেছে, বিতাড়িত হয়েছে, গ্যাস চেম্বারে পুড়েছে, কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে দিন কাটিয়েছে, কখনো ফাইট ব্যাক করেনি, এখন ওরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্তিত্ত রাক্ষার দায়ে। আপনি আমি চিল্লাইলে কি ফায়দা হবে জানিনা।

(কানাডা প্রবাসী লেখকের ফেইসবুক পোষ্ট থেকে নেয়া)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত