প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেবিদ্বার পৌরসভার লাগানো আগুনে ময়লার সাথে পুড়ছে গাছ

শাহিদুল ইসলাম : [২] দেবিদ্বার পৌরসভার নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার ডাম্পিং ষ্টেশন না থাকায় যত্রতত্র ময়লা ফেলে পুড়িয়ে ফেলার আগুনে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ ও নিধন হচ্ছে মহামুল্যবান অক্সিজেন ফ্যাক্টরী গাছ।

[৩] কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে দেবিদ্বার পৌর এলাকাধীন শাইলচর। সড়কের দু’পাশে রয়েছে সবুজ বনজ বৃক্ষ। বেশ ক’বছর ধরে দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন স্থান ও পৌর এলাকার ময়লা ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে। দুর্গন্ধে বায়ুদূষণ হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

[৪] এ অবস্থা শুধু শাইলচর এলাকাতেই নয় দেবিদ্বার পৌর এলাকাধীন বারেরা সরকার বাড়ির সামনে,ফুলগাছতলা, বানিয়াপাড়া আজগর আলী মুন্সী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এবং দেবিদ্বার উত্তরপাড়া এলাকার মাজেদা আহসান মুন্সী মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনের সড়কেও লক্ষণীয়।

[৫] এসব আবর্জনা আবার জীবানু না ছড়ানোর জন্য পৌরসভা কতৃক আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়েও দেওয়া হচ্ছে। এতে সড়কের পাশের মহামূল্যবান গাছগুলোও পুড়ে যাচ্ছে আগুনে। স্থানীয় একাধিক ভুক্তভেগী জানায়, শাইলচর এলাকায় বহু গাছ সাম্প্রতিক সময়ে ময়লা-আবর্জনার তেজষ্ক্রিয়তায় মরে নিচিহ্ন হয়ে গেছে।

[৬] মহাসড়কের পাশে বাড়ি মোঃ আলমঙ্গীর সরকার জানান, ময়লার আগুনের ধোয়ায় আমি বাড়িতে থেকে সঠিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারছিনা,তাছাড়া একই কারনে বাড়ির ফলজ গাছ গুলিতে ফল না আসা এবং গাছগুলি মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

[৭] পরিবেশবিদ ও সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার বলেন,অপরিকল্পিতভাবে আবর্জনা পোড়ানোর নামে সড়কের পাশের গাছ ধ্বংস হলেও সংশ্লিষ্ট কারোরই খেয়াল নেই। এ অবস্থায়, পরিবেশসহ মহাসড়কের পাশে থাকা বনজ সম্পদ রক্ষায় মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধে আশু ব্যবস্থা নিতে দেবিদ্বার পৌরসভা এবং সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

[৮] এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথের উপ-প্রকৌশলী মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন গাছ আমাদের নয় বন বিভাগের তবে জায়গা আমাদের। দেবিদ্বার পৌরসভা আমাদের অনুমতি না নিয়েই সওজের জায়গায় ময়লা ফেলছে যা ঠিক নয়।দেবিদ্বার-মুরাদনগর অঞ্চলের বন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন,বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং মৌখিকভাবে বাধা দিয়েছি।

[৯] উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানাব উনাদের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।এ ব্যাপারে দেবিদ্বার পৌর সভার সচিব মোঃ ফখরুল ইসলাম আগুনে ময়লা পুড়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন আমাদের নির্দিষ্ট ডাম্পিং ষ্টেশন না থাকায় জিবানু ছড়িয়ে না পরার জন্য এটি করা হচ্ছে।

[১০] পৌর এলাকার ফতেহাবাদ মৌজায় এক একর জমি কিনে ডাম্পিং ষ্টেশন তৈরির প্রশাসনিক অনুমতি পেয়েছি। শিগ্রই জেলা পরিষদ মুল্যায়ন শেষে আগামীতে তা চালু করার জন্য রাস্তা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছি।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

সর্বাধিক পঠিত