শিরোনাম
◈ পেরুতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫ ◈ কারাগার থেকে পালানো সেই নারী কয়েদি রাজধানীতে গ্রেপ্তার ◈ বিশ্বকাপ ফাইনাল: একাদশে তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, অপরিবর্তিত স্পেন ◈ জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ বাংলাদেশের পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে জুলাই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন: আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা, সিদ্ধান্ত আদালত ও ইসির ◈ কুয়েত প্রবাসীদের জন্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বার্তা ◈ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার দাবিতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, বড় সংঘাতের শঙ্কা ◈ রেলের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি, লোকসান ১ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা ◈ সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ক্রোক করা ফ্ল্যাটে প্রথম দিনে শত-শত কোট-টাইসহ যা যা মিলল

প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২১, ০৪:৪৭ দুপুর
আপডেট : ১৬ মে, ২০২১, ০৪:৪৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্যালেস্টাইনে বাংলাদেশের যুদ্ধসংহতির নিদর্শন বেঁচে থাকলো যেভাবে --

ক্রিস স্টিলি পারকিন্সের জন্ম ভারত ভাগের বছর, বার্মায়। জন্মের পরপর ব্রিটিশ পিতার সঙ্গে ব্রিটেন চলে যেতে হয়। ২৮ বছর বয়সে, ১৯৭৩ সালে পারকিন্স বাংলাদেশে আসেন ছবি তুলতে। সেই একই পারকিন্সের লেন্সেই বাংলাদেশের সশস্ত্র তরুণরা ধরা পড়ে লেবাননে ১৯৮২ সালে। লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসনের ছবি তুলতে সেখানে ছিলেন তখন তিনি। বলা যায় পারকিন্সই জায়নিস্ট বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বাস্তব অঙ্গীকারের কিছু দুর্লভ সাক্ষ্য ধরে রেখেছেন দুনিয়ায়। প্যালেস্টাইনীদের সংগ্রামে বাংলাদেশীদের সরেজমিনে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে অনেকে ইদানিং জানতে আগ্রহী। পারকিন্সের আর্কাইভ ছাড়া নির্ভরযোগ্য পথে সেই আগ্রহ মেটানোর সুযোগ দুরূহ।

-- বাংলাদেশী যোদ্ধাদের প্যালেস্টাইন যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের পর শুরু হয়ে ১৯৮২ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল বলে জানা যায়। এক্ষেত্রে মেজর জলিলের বড় একটা উদ্যোগী ভূমিকা পাওয়া যায়। ১৯৮১ সালে আন্তর্জাতিক পরিসরে এক জটিকা সফরকালে পিএলও’র ইয়াসির আরাফাত ঢাকা বিমানবন্দরে নেমেছিলেন কিছু সময়ের জন্য। এসময়ই জলিলের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে কিছু সমঝোতা হয়। তিন সপ্তাহের এক প্রক্রিয়ায় পিএলও’র ঢাকা অফিস আগ্রহীদের নথিভুক্ত করার কাজটি করছিল এসময়। প্যালেস্টাইনীদের সংগ্রামে বাইরের দেশের মানুষের যুক্ত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশীদের তরফ থেকেই প্রথম ঘটেনি। বহু আগে জাপানের রেড আর্মি এবং আইরিশ গেরিলারা লেবানন ও সিরিয়ায় চলে গিয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়তে যায় তাদের কয়েক শ জায়নিস্টদের হাতে ধরাও পড়ে। অনেকেই নিহত হয়। লেবাননে টিকতে না পেরে অনেক বাংলাদেশী যোদ্ধা ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশেও আশ্রয় নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে পিএলওতে যুক্ত হলেও জর্জ হাবাশ এবং আহমেদ জিবরিলের অধিকতর বামপন্থী প্যালেস্টাইন গ্রুপ (পিএফএলএফ)-এ অনেক বাংলাদেশী তরুণ সংযুক্ত ছিল। এই উপদলটি সিরিয়ার বিশেষ সহায়তা পেতো। পারকিন্স যেসব বাংলাদেশী-প্যালেস্টাইন যোদ্ধার ছবি তোলেন অধিকাংশ তারা ছিল পিএলও’র ফাতহা উপদলের। লেবাননের এক পত্রিকার কাছে ফাতাহ’র এক সময়কার সেক্রেটারি আবু আরদাতের দাবি ছিল, সকল প্যালেস্টাইন উপদল মিলে বাংলাদেশের কয়েক হাজার যোদ্ধা নানান সময়ে প্যালেস্টাইন যুদ্ধে শরিক ছিল।

সেরকম এক যোদ্ধা কামাল মোস্তফা আলির কবরের ছবিই ছাপা হয় লেবাননের দৈনিক আল-আকবরে। এই কবর রয়েছে লেবাননের বিখ্যাত শাতিলা শরণার্থী শিবিরে। এই লেখায় সেই সমাধির ছবি সংযুক্ত রয়েছে। ১৯৮২ সালের ২২ জুলাই বাংলাদেশী যোদ্ধা কামাল মোস্তফা আলি দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ায় এক দুর্গ রক্ষার যুদ্ধে ইসরায়েলের হাতে নিহত হন। ২০০৪ সালে হিযবুল্লাহ’র সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তিকালে ইসরায়েল তাঁর লাশ হস্তান্তর করে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রায় সকল সরকারের সঙ্গে পিএলও’র ভালো সম্পর্ক থাকায় তাদের সংগ্রামে শরিক হওয়া বাংলাদেশের দিক থেকে সহজ ছিল। সুনির্দিষ্ট জাতীয় ঐক্যমত ছিল এ বিষয়ে বাংলাদেশের ভেতরে। স্বাধীনতার পর পরই বাংলাদেশ পিএলওকে এদেশে অফিস করতে দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে প্যালেস্টাইনে যুদ্ধ করতে যাওয়া তরুণদের বিষয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক গবেষকরা কখনো প্রয়োজনীয় মনযোগ দিয়েছেন বলে জানা যায় না। ঐ যোদ্ধারাও বিস্তারিত লিখে সংরক্ষণ করেননি সেই ইতিহাস। মূলত পার্কিন্স প্যালেস্টাইনে বাংলাদেশী যোদ্ধাদের ছবি তুলে এই ঐতিহাসিক সত্যকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে বাঁচিয়ে রেখেছেন। বাংলাদেশের কোন সংস্থা তাঁর কাছ থেকে ছবিগুলো সংগ্রহে উদ্যোগ নিলে একটা দরকারি কাজ হতো।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়