প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: ইসরাইল-প্যালেস্টাইন দ্বন্দ্ব অত্যন্ত অসম একটি যুদ্ধ

কামরুল হাসান মামুন: ইসরাইল-প্যালেস্টাইন দ্বন্দ্ব এইটা অত্যন্ত অসম একটি যুদ্ধ। কোন সংজ্ঞাতেই এটাকে যুদ্ধ বলা যায় না। গুলতির আর রকেটের সাথে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র। সম্প্রতি বাহরাইন, ইউনাইটেড আরব আমিরাত ও সৌদির সাথে ইসরাইলের সুসম্পর্ক তৈরির প্রেক্ষাপটে ইসরাইলকে এখন আর কাউকে তোয়াক্কা করতে হয় না। আর মিশর, তুরস্কের সাথেতো আগে থেকেই এক ধরণের সম্পর্ক আছেই। আরব লীগ, ওআইসি সবাই চুপ। আরব দেশের কেউ আওয়াজ তুললেই ইরানের মত টেররিস্ট রাষ্ট্রের ট্যাগ লাগিয়ে ধ্বংস হওয়ার ভয় আছে যেমন ধ্বংস হয়ে গেছে সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া এবং ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ইরান। ইরানকে এখনো পারছে না বা পারতে কষ্ট হচ্ছে কারণ এই অঞ্চলে ইরানই একমাত্র দেশ যেটি জ্ঞান বিজ্ঞানে অন্য যেকোন মুসলিম দেশ থেকে এগিয়ে। তাই সঙ্গত কারণেই কোন আরব রাষ্ট্রই এখন আর সহজে প্যালেস্টাইনের সাহায্যে এগিয়ে আসবে না। এটিই এখন বাস্তবতা।

প্রশ্ন হলো মুসলিম দেশগুলো এই অবস্থায় আসলো কিভাবে? ওই যে বলি এরা জ্ঞান বিজ্ঞানকে যেদিন থেকে অবহেলা করতে শুরু করেছে সেদিন থেকেই মার্ খাওয়া শুরু। পঞ্চ-ষষ্ঠ-সপ্তম শতকে মুসলিমরা জ্ঞান বিজ্ঞানকে ধারণ করেছিল বলেই তখন তারা ক্ষমতাবান ও শক্তিশালী ছিল। অর্থ থাকা সত্বেও অর্থকে ব্যবহার করেছে অবকাঠামো নির্মাণে। জ্ঞান বিজ্ঞান সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করেনি। ঐসব অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উন্নত দেশের সাহায্য নিয়েছে ফলে নিজেরা জ্ঞান বিজ্ঞানের সমৃদ্ধ হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারা নিজেদের কলহে লিপ্ত। নিজেরা নিজেরা কলহ বিবাদে লিপ্ত হলে শত্রুরা সুযোগ নিবেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্যালেস্টাইন সমস্যার কোন আশু সমাধান দেখি না। বিশ্ব মতামত ও জাতিসংঘের আদেশ উপদেশ উপেক্ষা করে ইসরাইল ওয়েস্ট ব্যাংক ও অন্যান্য জায়গা দখল করে বসতি নির্মাণ চালিয়ে যাবে আর ফিলিস্তিনিদের নির্যাতন চালিয়েই যাবে। ছোটখাটো দেশ যেমন বাংলাদেশ পাকিস্তান প্রতিবাদ করেই যাবে। কিউবার কিছু মানবিক দেশ আছে এরাও প্রতিবাদ করবে। তাতে ইসরাইলের একটা চুলও ছেড়া সম্ভব না। এদের পাশে আমেরিকা ইউরোপ। আর আছে সৌদি, মিশর, ইউএই, বাহরাইন, মরোক্ক, সুদান, তুরস্ক। এরা সবাই হয় চুপ নাহয় তলে তলে আর্থিক সাহায্য অথবা সাপোর্ট করেই যাচ্ছে।

ধনী এবং মোটামোটি শক্তিশালী আরব দেশের জনগণও বলা যায় নীরব। কেবল গরিব মুসলিম রাষ্ট্রের কিছুটা প্রতিবাদ আছে আর আছে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে রাগ এবং ক্ষোভ। যা মুসলমানদের মধ্যে জঙ্গীভাবাপন্ন হওয়ার জন্য রসদ যোগাবে।

মুসলমানরা যে ক্ষমতাহীন তার লিটমাস টেস্ট হলো এদের মধ্যে চোরাগুপ্তা হামলা, পেছন থেকে হামলা ইত্যাদি বেশি। ক্ষমতাবান হলে দুনিয়ার কাউকে তোয়াক্কা না করে মানুষ মেরে ফেলবে। মানুষ মূলত বড়ই হিংস্র যেটা কেবল মানুষকে ক্ষমতা দিলেই বুঝতে পারা যায়। মুসলমান দেশগুলোর মধ্যে সৌদি একটু ক্ষমতাবান। সেটা টের পাচ্ছে আরেক মুসলমান দেশ ইয়েমেন। এরা পারবে না কোন পশ্চিমা দেশের বিরুদ্ধে ক্ষমতা দেখাতে।

মুসলমান সাধারণ মানুষদের আরেক সমস্যা হলো মুসলমান যখন মুসলমান দ্বারা নির্যাতিত হয় তখন চুপ থাকে। মুসলমান যদি অন্য ধর্মালম্বী দ্বারা নির্যাতিত হয় কেবল তখনই তাদের রাগ ও ক্ষোভ দেখা যায়। কয়েকদিন আগে আফগানিস্তানে মেয়েদের একটা স্কুলে বোমা মেরে ছাত্রীসহ ৮৫ জনকে মেরে ফেলেছে। প্রতিবাদ আছে? ইরাকে দুইদিন পরপর বোমা মেরে নিরীহ মানুষদের মারছে প্রতিবাদ আছে? পাকিস্তানে মাঝেমধ্যেই মসজিদে ঢুকে শিয়াদের মেরে ফেলে প্রতিবাদ হয়? ইয়েমেনে কি অবর্ণনীয় হামলা হচ্ছে তেমন কোন প্রতিবাদ আছে? ইসরাইল যে নির্বিচারে ফিলিস্তিনিদের মারছে তার জন্য দায়ী করছে কাদের? এর জন্য দায়ী করছে আমেরিকা আর ইউরোপকে। কিন্তু সৌদি, ইউনাইটেড আরব আমিরাত ইত্যাদি আরব দেশগুলোকে দায়ী করে না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত