প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অলকা ঘোষ: এস্কেলেটর , উড়াল সেতু , অতপর পাতাল গাড়ির যুগে আমরা

অলকা ঘোষ: বিশাল জনসংখ্যার দেশ আমাদের । জায়গা কম তার মধ্যে কত কিছু । যা আছে তাই নিয়ে বিংশ শতাব্দীতে একটা স্বাধীন দেশে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কত সহজ আর আনন্দময় হতে পারে আমাদের চোখের সামনে সে যুগান্তকারী সব পরিবর্তন ঘটে গেল দেশ জুড়ে ।

এক সময় আমাদের শপিংমলে এস্কেলেটর অর্থাৎ চলন্ত সিঁড়ি এলে খুব সাড়া পড়ে যায় । বহুতল শপিং কমপ্লেক্স গুলোতে এক এক করে এস্কেলেটর স্থাপন ও ব্যবহার শুরু হয়ে গেল । সে সব অত্যাধুনিক অভিজাত মার্কেটে ছেলে মেয়েরা শখ করে সে সময় মা বাবার হাত ধরে দেখতে যায় ,চলন্ত সিঁড়িতে উঠা নামার আনন্দ ভিন্ন মাত্রা যোগ করে , কেনাকাটার উদ্দেশ্য থাকলেও সেটা তখন সেখানে মুখ্য নয় ।

তারপর এক সময় এইতো মাত্র কদিন আগের কথা নিত্য যানজটে অতিষ্ঠ মানুষ । সেই থেকে উড়াল সেতু অর্থাৎ ফ্লাই ওভার শব্দটিও আমাদের হাল আমলের নগর সভ্যতার উন্নতির সাথে সংযুক্ত । সভ্যতার অগ্রগতির সাথে আমাদের দেশে অভূতপূর্ব এমন স্থাপনা নির্মাণও ছিল আর এক স্বপ্ন পরিকল্পনা । এখন ঢাকা শহরে কিছুটা সময় পথে থাকলে , একটু দূরে কোথাও গেলে যাত্রাপথে গাড়ি বাস উড়াল দিয়ে নিয়ে যাবে গন্তব্যে । যানযটে পড়ে থাকতে হয় না ,সময় বাঁচে , পথের ক্লান্তি কমে ।
মনে পড়ে প্রতিদিন সদরঘাট টু খিলগাঁও যেতে রাস্তায় কত খানাখন্দ সাথে ফ্লাই ওভার নির্মান কার্য দেখেছি । খিলগাঁও ফ্লাইওভার উদ্বোধনের দিন খিলগাঁও এর উৎসুক বাসিন্দা হিসেবে ছিলাম সে পথের অনুষ্ঠানের দর্শক হয়ে । কিছুটা বৃষ্টিভেজা দিন , লোকে লোকারণ্য খিলগাঁও রেলগেট , সেটাই ছিল সম্ভবত ঢাকা শহরের প্রথম ফ্লাইওভার নির্মাণের শুরুর ইতিহাস । তারপর বেশকিছুদিন পর অন্যান্যগুলোর কাজ দেখেছি কত দিন মাস বছর ধরে , —-কুরিল বহুমুখী ফ্লাইওভার , -রামপুরা -মালিবাগ -কাকরাইল ফ্লাইওভার , গুলিস্তান -যাত্রাবাড়ি মেয়র হানিফ সেতু ইত্যাদি ।

মানুষ যতই বলুক কংক্রিটের আবর্জনায় পথ হারিয়ে যাবার দশা , গাছ মাটি পথের নিশানা চিহ্ন আর নেই ! দম বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম ! কী আর করা ! শহরে মানুষ যেভাবে বাড়ছে এক তলা রাস্তায় জ্যাম কাটাতে উড়ে গিয়ে সামনে হাজির হওয়া ছাড়া উপায় নেই ।

তারপরে স্বপ্নের মহা পদ্মাসেতু । ক’বছর ধরে ঢাকা থেকে মাওয়া পথে সে কী দক্ষ যজ্ঞ বিশাল কর্ম পরিকল্পনা । তখনকার জল -কাদা ডোবা মাঠ বর্ষার জলে থৈ থৈ অবস্থা , সেটা এখন আর নেই । চোখ ধাঁধানো পরিবর্রতন ঘটে গেল । অবাক করা কথা । ভয়াল রাক্ষুসী পদ্মার এপার ওপার সেতুবন্ধন । নিমেষে পার হবে সব যাত্রী ভরা গাড়ি বাস রেল ট্রেন ।

দেশের মানুষের অর্থায়নে এক বিশাল চ্যালেন্জ । এক পিলার দুই পিলার করে করে দৃষ্টি নন্দন স্বপ্নের মায়াময় সেতুটা হয়ে যাচ্ছে । চোখের সামনে পদ্মা সেতু হয়ে এলো এলো । পদ্মার ওপারে যারা তাদের মুখে হাসি । বাড়ি থেকে অফিস করে ফিরে যাওয়া যাবে দিনে দিনে । আহা কত যে বাধা বিপত্তি , সেতু বলি চায় এমন ছেলেধরা গুজব , কষ্ট আর সময় গেছে পথে পথে আমাদের !

এই যে মহা পরিকল্পনা পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে আপনার আমার সকলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশীদারিত্ব রয়েছে । অংশীদারিত্ব থাকলে গভীর দরদও আছে ।কাকতালীয় ভাবে পদ্মাসেতুর মাওয়া প্রান্তে শুভ উদ্বোধনের দিন এ পথে ছিলাম । জনসমাগম গাড়ির বহর পোস্টার দেখে আবেগমথিত প্রাণে স্বপ্নে আনন্দে হাওয়ায় ভেসেছি যেন ।
আরিচা বাদ দিয়ে এ পথ দিয়েই এখন আমাদের যাওয়া আসা সময় সংক্ষেপ হবে বাড়ি যেতে পারব সহজেই সে আনন্দ লক্ষ কোটি মানুষের ।

এবার পাতাল ট্রেন । মাটির নীচে আর এক জগত । শীঘ্রই আমরা মেট্রোরেল যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি কী সৌভাগ্য আমাদের এ ইতিহাসের সাক্ষী আমরা ।

ঢাকা শহরের বাসিন্দারা কয়েক বছর ধরে রাজপথ খোড়াখুড়ির ভোগান্তি সহ্য করছেন ।
ইস কী যে রাস্তার বেহাল দশা । রাস্তাকে কেটেকুটে জলকাদা ইট বালি স্টিলের পাত ডিভাইডারে ভাগাভাগি চলছিল । এ হেন কষ্ট দুর্দশা মানুষ মুখ বুজে সহ্য করেছেন সরকারের মহত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ।
লোক মুখে শোনা নিজের চোখে দেখা এ অবস্থা থেকে এক সময় যে কর্ম পরিকল্পিনা বাস্তবায়িত হবে তা ছিল স্বপ্নাতীত । আজ তা বাস্তবায়নের পথে ।
এই যে উড়ন্ত সেতু এই যে পাতাল রেল কেউ কেউ দেশের বাইরে গিয়ে দেখেছেন চড়েছেন ।এবার নিজের দেশে সবাই দেখবেন , এর সুফল ভোগ করবেন ।

প্রসঙ্গক্রমে বলা । আমাদের গুলিস্তানে আন্ডারপাস রয়েছে ।
যখন নতুন চালু হয় সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয় , তা বেশ কয়েক বছর আগের কথা উৎসুক আমিও গিয়েছিলাম দেখতে । আমাদের যে স্বভাব ভালো পরিচ্ছন্ন জায়গাটা বিষময় না করলে যেন শান্তি নেই ।

পুরনো টাকার রাজ্য দখল’ এর মতন সেটাও যেন কালো রাজ্যের বাসিন্দাদের দখলে । এত যে কষ্ট এত যে টাকা ব্যয় করে মানুষের সুবিধার জন্য ভীড় জ্যাম কমানোর উদ্যোগ না সেখানে সুখকর সুন্দর অবস্থা বিলীন প্রায় । পাতালপুরীর রাক্ষস খোক্কসের ময়লা আবর্জনায় এক ভীতিকর অবস্থা ।( তারপর আর ওমুখো হই নি পরের অবস্থা অজানা )।

এবার পাতাল রেল নিয়ে জানা অজানা আমাদের ভাবনার কিছু কথা । পাতাল রেল কি দেশের কারিগর তৈরী করেছেন , টিকবে তো ? কোন ভয় ভীতি নেই তো ? কোথায় যাব কোন জায়গা থেকে উঠবো ইত্যাদি কত ভাবনা আমাদের । বিদ্যুৎ না থাকলে কী হবে ? লোকজন নিরাপদে চলতে পারবে ?

বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়
১. মেট্রোরেল জাপানের কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এ তৈরী ( JR মানের )।
২. বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই । এটি সম্পূর্ন নতুন একটি প্রতিষ্ঠান । যার প্রকৌশলী থেকে শুরু করে কর্মচারী পর্যন্ত সবাই নতুন ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত ।
৩. উদ্বোধনের পর থেকে ৫ বছর জাপানিজ ও দেশীয় প্রকৌশলীদের যৌথ তত্বাবধানে থাকবে ।
৪. Dedicated power supply থাকবে । যেটা সাধারণত KPI এ থাকে । গুরুত্বপূর্ণ স্হাপনা বিধায় , এর Backup power supply এর জন নিজস্ব power supply রয়েছে ।
৫. স্বয়ংক্রিয় টিকেটিং ( Card System)ব্যবস্হা , বিধায় টাকা নাই ট্রেনে ফাও ওঠাও নাই । ঢুকতেই পারবেন না , কারন টাকা না কাটলে Entry দরজা খুলবে না ।
৬. বাংলাদেশের ট্রেনের ছাদে ওঠার স্বংস্কৃতিতে যারা বিশ্বাস করেন , তারা সাবধান …11 KV হাই ভোল্টেজ এ মুরগী পোড়া হয়ে যাবেন ।
৭. ভাংচুর , সিট কাটা থেকে শিক্ষা নিয়ে , ট্রেনের সিট গুলো শক্ত প্লাস্টিকের তৈরী , যেগুলো হেভি টেম্পারড প্রযুক্তি দিয়ে তৈরী ।
৮. ট্রেনের সকল গ্লাস বুলেট প্রুফ ( JR standard ) | তাই ইট মারেন , হাতুড়ি পেটান 😉 সমস্যা নাই , ভাঙ্গবে না ।
৯. কোন প্রকার হকার এলাউড না । কারন নির্দিষ্ট সময় এর থেকে বেশী থাকলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ভাড়া বেশী গুনতে হবে ।
১০. প্রতি বগীতে ছাদের সাথে ক্যামেরা আছে .. অতএব সাধু সাবধান .. প্রতি মুহুর্ত মনিটর করা হবে …
একদিন পাতাল রেলে আপনাদের যাত্রা শুরু হবে – সে যাত্রা শুভ হোক সকলের । ( তথ্য ও ছবি সংগৃহীত ) ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত