প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রংপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে পরে যাচ্ছে হাড়িভাঙ্গা আম, দুঃশ্চিন্তায় বাগান মালিকরা

আফরোজা সরকার : [২] মিঠাপুকার উপজেলায় হাড়িভাঙ্গা আম তেকানী গ্রামে উৎপত্তি। তুলনামূলক ভাবে এবারে আমের মুকুল কম এসেছে। অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড়ে পরে যাচ্ছে হাড়িভাঙ্গা আম। ফলে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন বাগান মালিকরা।

[৩] তবে কৃষি অফিস বলছে, বৈশাখ মাসে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। বিশ^খ্যত স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় হাড়িভাঙ্গা আম চাষে অর্থনৈতিক ভাবে ভাগ্য খুলে দিয়েছে পদাগঞ্জের মানুষের জীবন। রংপুরের শত শত মানুষ হাড়িভাঙ্গা আম চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে।

[৪] রংপুর উপ-পরিচালক,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মো, ওবায়দুল রহমান মন্ডল বলেন, জেলায় ৩২ ৮০ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এর মধ্যে ১৮৫০ হেক্টর জমিতেই রয়েছে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান। আর অন্যান্য জাতের আমের বাগান রয়েছে মাত্র ১৮৩০ হেক্টর জমিতে।

[৫] কৃষি অফিস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে গাছে আম ধরেছে। তবে তুলনামূলকভাবে এবার আমগাছে মুকুল কম আসার কারণে আমও কম ধরেছে। কিন্তু এটা সব জাতের আমের ক্ষেত্রে নয়, কেবলমাত্র হাড়িভাঙ্গা আমের ক্ষেত্রেই ঘটেছে।

[৬] সরেজমিন বিভিন্ন এলাকার আমবাগান পরিদর্শনকালে কথা হয় পদাগঞ্জ উপজেলার আম বাগান মালিক সোলেমান আলীর সাথে, তিনি বলেন, গাছে মুকুল এবারে যা এসেছে তাতেই চলত কিন্তু বৈশাখ মাসে ঝরড়র কারনে আম ঝরে পরে যাচ্ছে। ফলে আমের ফলন যে কমে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

[৭] বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নাটারাম এলাকার বাগান মালিক মুকুল মিয়া বলেছেন ভিন্ন কথা। তার মতে চাঁপাই নবাবগঞ্জের বাগান মালিকরা আম চাষে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থাকেন বর্তমানে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন বদরগঞ্জ উপজেলার আমচাষীরা।

[৮] তিনি বলেন, চাঁপাই নবাবগঞ্জের আমচাষীরা সাধারণতঃ মাটিতে হরমোন প্রয়োগ করে থাকেন। এর ফলে গাছে প্রচুর পরিমাণে মুকুল আসে এবং ডালে ডালে প্রচুর আম দেখা যায়। কিন্তু ওই আমগুলো যখন বড় হতে থাকে তখন অনবরত ঝরতে থাকে। এতে করে চাষীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অথচ এটি যে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা চাষীরা তা’ বোঝার চেষ্টা করেন না।

[৯] এবিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, এবারে হাড়িভাঙ্গা আমগাছে তুলনামূলকভাবে খুবই কম মুকুল এসেছে। এর ফলে গাছেও কম আম ধরেছে। তবে এটা যে সব আমের ক্ষেত্রে ঘটেছে তা’ নয়। কেবলমাত্র হাড়িভাঙ্গা আমের ক্ষেত্রেই এঘটনা ঘটেছে।

[১০]তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন খরার কারণে মাটিতে রসের ঘাটতি হওয়ায় গাছ থেকে আম ঝরেছে। এখন নিয়মিত বৃষ্টিপাত
হওয়ায় আম ঝরা বন্ধ হয়েছে।

[১১] উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মো. জোবাইদুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র খরা নয়, মাটিতে খাদ্য ঘাটতি হলেও আম ঝরতে পারে। একারণে চাষীদের বাগানে সেচ দেয়াসহ অনুখাদ্য প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত