শিরোনাম
◈ রাজস্ব আদায় কম, ব্যাংক ঋণে সরকারের নির্ভরতা বাড়ছে ◈ অভিমান করে লাপাত্তা ৩ কিশোরী অতঃপর... ◈ এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সি‌লের পরবর্তী সভাপতি তামিম ইকবাল?  ◈ কারাগারে কয়েক বন্দির জন্য লাক্সারি ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়ায় ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত ◈ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে কী হচ্ছে ◈ ২০২৭ সালের হজে নতুন প্যাকেজ, এক চুক্তিতেই থাকা-খাওয়া-যাতায়াত ◈ জিয়ার খুনি মোজাফফরকে যে পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা ◈ সালমান এফ রহমানকে বাদ দিয়ে বেক্সিমকো ফার্মার নতুন পর্ষদ অনুমোদন ◈ ইসলামী ক্রেডিট কার্ড: ব্যবহার করা যাবে না অনৈতিক কাজে ◈ ২০২৬ সালেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভিনগ্রহীর সঙ্গে যোগাযোগ! বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে চাঞ্চল্য

প্রকাশিত : ০৮ মে, ২০২১, ১২:৫৫ রাত
আপডেট : ০৮ মে, ২০২১, ১২:৫৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঝিনাইদহে নদ নদী সরকারি খাল বিলের মাটি কাটার হিড়িক

মাফুজুর রহমান: ঝিনাইদহে নদ নদী সরকারি খাল বিলের মাটি কাটার হিড়িক পড়ে গেছে। চড়া দামে ইটভাটা গুলোতে সেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে । পরিবেশ ও গ্রাম্য সড়ক গুলো মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে গৃহহীন হচ্ছে হজারো মানুষ। গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট । লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরছে তারা। প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটে চলেছে এসব ঘটছে। কিছুতেই বন্ধ হচ্ছেনা অবৈধ মাটির ব্যবসা।

শুক্রবার সকাল থেকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামের সরকারি খালের মাটি কেটে বিক্রি করা শুরু করা হয়। এর আগে একই খাল থেকে শত শত ট্রাক মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। অল্প কিছুদিন এ ব্যবসা বন্ধ ছিল। সিন্ডিকেটের স্থানীয় প্রধান উজ্জ্বল ও মিঠু দাবি করেছেন, উপজেলা নির্বার্হী অফিসার সদর উপজেলা ঝিনাইদহের অনুমতিক্রমে ফের মাটি কেটে বিক্রি শুরু করেছে তারা। তাদের সাথে কথা বলার সময় মাটি কাটার দৃশ্য ধারণকালে মোবাইল করা হয় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কাছে।

কিছু সময় পরে লুঙ্গি পরে এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে এ প্রতিবেদকের ক্যামেরাসহ মোবাইল কেড়ে নেয় এবং আছাড় দিয়ে পদদলিত করে ভেঙ্গে ফেলে। চিহ্নিত ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে চিৎকার করে মাটি কাটার নির্দেশ দেয়। আবারো ধুমছে মাটি কাটতে থাকে সিন্ডিকেট সদস্য উজ্জ্বল ও মিঠু গং। এসময় কথা হয় তাদের সাথে।তারা জানায় প্রতি ট্রলি মাটি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় স্থানীয় দুইটি ইটের ভাটায় নিয়মিত বিক্রি করে আসছে। তাদের দাবি অনুমতি নিয়ে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে এবং বিক্রির কিছু টাকা স্যারকে দিয়ে তাকে তারা (সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার)। তবে স্যার অর্থাৎ এস.এম শাহীন (উপজেলা নির্বার্হী অফিসার সদর উপজেলা ঝিনাইদহ) জোরালো ভাবে মাটি ব্যবসায়ীদের দাবী অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মাটি কাটা কিংবা বিক্রি জন্য কাওকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। সরকারি খাল কিংবা নদীর মাটি কেটে ইটের ভাটায় বিক্রি করা দন্ডনীয় অপরাধ বলে জানান তিনি। তিনি আরো (নির্বাহী অফিসার সদর উপজেলা) বলেন ইতিমধ্যে ফকিরাবাদ খালের মাটি কাটার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আগে যা ঘটেছে গোপন সুত্রে খবর পেয়ে প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দেখা যায় ভেকু ( মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটে ট্রলিতে বোঝায় করা হচ্ছে। মাটি পরিবহণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অন্তত পক্ষে ৪টি ট্রলি। মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ঘটনাস্থলের কাছের দুইটি ইটের ভাটায়। বিষয়টি মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব ও ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সেলিম রেজাকে অবহিত করা হয়। সেসময় প্রতিবেদক পরিস্থিতি তুলে ধরেন তার কাছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। স্বল্পক্ষন পরে দুই জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের প্রতিবেদকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। পুলিশ সহ ঘটনাস্থলে আসছেন তারা এমন কথাও জানান ভ্রাম্যমান আদালতের ওই দুইজন বিচারক ( নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট)। সময় গড়িয়ে যায়, ভ্রাম্যমান আদালত ঘটনাস্থলে আসার আগেই হামলা ও ক্যামেরা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে যায়। জেলা শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার পশ্চিমে ফকিরাবাদ গ্রাম।

ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ কামরুজ্জামান ঘটনাস্থল উপস্থিত হন। ততক্ষনে ট্রলি, ভেকুসহ সটকে পড়ে মাটি ব্যবসায়ীরা। প্রতিবেদকের ক্যামেরা ভাংচুরের বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং বিকেল ৫ টার দিকে বিষয় অবহিত করেন। সবশেষ জেলা প্রশাসক মোঃ মোঃ মজিবর রহমান বলেন জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করেছেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। তারা হুসিয়ারি দিয়ে বলেছেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসুচী ঘোষনা করা হবে।

প্রসঙ্গতঃ ক্রমেই জেলা ব্যাপী গড়ে উঠা মাটির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবৈধ ভাবে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে তারা। নানা কৌশলে নবগঙ্গা, বেগবতি, চিত্রা, কপোতাক্ষ সহ বিভিন্ন নদ নদীর মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। মাটির ট্রলি গুলো গ্রাম গঞ্জ জেলা শহর দাপিয়ে বোড়াচ্ছে। প্রতিনিয়তই ইটভাটার মাটির ট্রলি চাপায় প্রাণ যাচ্ছে পথচারি শিশু কিশোর স্কুল ছাত্রের। জেলা জীব বৈচিত্র ও পরিবেশ সংরক্ষন কমিটি, নদী রক্ষা কমিটিসহ নানা সামাজিক সংস্কৃতিক সংগঠন নদ নদী সরকারি খালের মাটা কাট ও বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। অথচ আজো মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

  • সর্বশেষ