প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নিয়ম মেনে এবং বৈধভাবেই দেশের বাইরে গেছেন, জানালেন ওয়াসার এমডি

সুজন কৈরী: [২] চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে তিন মাসের জন্য দেশের বাইরে গেছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান। তার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, তিনি নিয়ম না মেনেই বিদেশ গেছেন। তবে ওয়াসার এমডি দাবি করেছেন, নিয়ম মেনে এবং বৈধভাবেই তিনি দেশের বাইরে গেছেন।

[৩] ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলাপকালে তিনি জানান, সরকারি চাকরি প্রবিধানমালার নিয়মে নয়, বরং তার বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও ছুটির বিষয়টি ‘ওয়াসা বোর্ড, ওয়াসা আইন’ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়।

[৪] বিদেশ যাওয়ার কারনের বিষয়ে তাকসিম এ খান বলেন, ‘প্রত্যেক বছরই আমি ছুটি নিয়ে আমেরিকায় আসি। আমার কিছু রুটিন চেকআপ এবং বাকিটা হচ্ছে আমার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ। গত বছর কোভিডের সময় থাকায় এবং কোন মুভমেন্ট ও ফ্লাইট চলাচল না করায় আমি কিন্তু আসতে পারিনি। এজন্য এবার প্রায় দুই বছর পরে আসলাম। বেশকিছু মেডিকেল ইস্যু আছে। তাই একটু লম্বা সময়ের জন্য আমি অবস্থান করবো।

[৫] বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইন মেনে হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের যারা ক্যাডার সার্ভিস ও নন ক্যাডার সার্ভিস অর্থাৎ সচিব, যুগ্ম-সচিব, সহকারী সচিব তারা সরকারি চাকরি প্রবিধানমালার আওতাধীন। তাদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও ছুটিসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে সরকারি চাকরি প্রবিধানমালা। আমারটা হচ্ছে ওয়াসা আইন ১৯৯৬ এর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আমার বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা এই আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আমি রিপোর্ট দেব ওয়াসা বোর্ডের কাছে। বোর্ড আমাকে ছুটি দেওয়ার অথরিটি এবং বোর্ডই আমার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করার অথরিটি।’

[৬] ওয়াসা আইন ১৯৯৬ অনুযায়ী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দিষ্ট ছুটি বলতে কিছু নেই। প্রয়োজনে বোর্ড সময় সময় তাকে ছুটি দিতে পারে এবং সে ছুটিতে থাকাকালীন তিনি আংশিক নিজে কাজ করতে পারেন অথবা অন্য কাউকে আংশিক দায়িত্ব দিতে পারেন। তবে সে ছুটিতেও কাজ করতে হবে ওয়াসার এমডিকে। এক্ষেত্রে কি প্রক্রিয়ায় ওয়াসার কার্যক্রম চলছে জানতে চাইলে তাকসিম এ খান বলেন, ‘ওয়াসা আইনে বলা আছে, ওয়াসার এমডি একজন সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা। যদি আমি কোনো কারণে কাউকে আমার দায়িত্ব অর্পণ করতে চাই। আমার শর্তে আমি কিছু কিছু দায়িত্ব অর্পণ করতে পারবো। যেমন ধরেন, আমি যদি কোনো সময় অসুস্থ থাকি বা আমি যদি করতে না চাই বা আমার পক্ষে সম্ভব না হয় তাহলে আমি কাউকে দায়িত্ব দেবো। সেটা হচ্ছে ওয়াসার ২৮ এর ১০ উপধারা অনুযায়ী। বোর্ডের অনুমতি নিয়ে আমি আমার দায়িত্ব কাউকে অর্পণ করতে পারি।’

[৭] ঢাকা ওয়াসা আইন-১৯৯৬ অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী। তার চাকরি ওয়াসা আইন-১৯৯৬ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি তার সমস্ত কর্মকান্ডের জন্য বোর্ডের কাছে জবাবদিহি করবেন। দায়িত্ব পালন, সুযোগ সুবিধা এবং চাকরির অন্যান্য শর্তাবলী বোর্ডই নির্ধারণ করবে। সরকারি চাকরির বিধিবিধান তার জন্য প্রযোজ্য হবে না।

[৮] আইন অনুযায়ী ওয়াসা বোর্ড এবং সংস্থার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে দেশের বাইরে গেছেন বলে জানিয়ে ওয়াসার এমডি বলেন, ‘আমাদের ওয়াসা আইন অনুযায়ী ওয়াসা বোর্ডের থেকে অনুমোদনটা নিয়ে এসেছি। যেহেতু আমি সংস্থার প্রধান তাই দেশের বাহিরে যেতে সরকার প্রধানের অনুমোদন লাগে এবং সেটাও নেওয়া আছে। সুতরাং আমি যথারীতি নিয়মের মধ্যেই দেশের বাইরে অবস্থান করছি।’

[৯] তিনি জানান, গত কয়েক বছর ধরেই ওয়াসার কার্যক্রম ৯০ ভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলছে। দেশের বাইরে থাকাকালীন সময়ে যাকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন ওই কর্মকর্তা ওয়াসার এমডির পক্ষে বিভিন্ন সভায় উপস্থিত হবেন। তবে যেসব ক্ষেত্রে ওয়াসার এমডির অনুমোদন প্রয়োজন সেসব ক্ষেত্রে ই-নথি, ই-মেইল ব্যবহার করে কার্যক্রম চলবে।

[১০] তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুগ হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক বা ডিজিটাল যুগ। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে ২০১২ সাল থেকে ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচীর আওতায় ঢাকা ওয়াসা ডিজিটাল ওয়াসায় পরিণত হচ্ছে। কাজেই আমাদের প্রায় সমস্ত কাজগুলোই ডিজিটালি করা সম্ভব। ঢাকা ওয়াসা শতকরা ৯০ ভাগ ডিজিটাল। আজকে না, এটা গত বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই। কাজেই আমি কোনো ফাইল ম্যানুয়ালি সাইন করিনা, আমার সাইন হচ্ছে কম্পিউটারে বা ডিজিটালি। এগুলো ই-নথি। এটা সরকারের একটি অ্যাপস। আমাদের সমস্ত ফাইলগুলো, টেন্ডার যেগুলো হয় সবই ডিজিটাল। আমার পর্যন্ত যেটা আসার কথা সেটা আমার কাছে চলে আসে। প্রায় কোনো কিছুই আমাদের এখন আর মেনুয়ালি নেই। প্রায় সবকিছুই ভার্চুয়ালি সম্ভব হচ্ছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত