শিরোনাম
◈ ৭৫ কোটি টাকায় বদলে যাবে ধানমন্ডি লেক, হবে ‘নজরুল সরোবর’ ◈ ৩০ গ্রামের ৫ লাখ নারী বদলে দিচ্ছেন গ্রামীণ অর্থনীতি, বছরে আসে ৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ◈ তালাকের আগেই দেনমোহর চাইতে পারবেন স্ত্রী: হাইকোর্ট ◈ ৫ বছরে ১ কোটি কর্মী পাঠাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ভিসা সুবিধা চালু করল সৌদি আরব ◈ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েল: সিআইএ ◈ বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ ঢাকা, পিছিয়েছে বাংলাদেশের সব বড় শহর! ◈ সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা করিয়ে অর্ধশতাধিক শিশুর ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ ◈ সোলার প্যানেল নাকি মিনি উইন্ড টারবাইন, বাড়ির জন্য কোনটি বেশি লাভজনক? ◈ বৃহস্পতিবার মিরপুর-আগারগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে

প্রকাশিত : ০১ মে, ২০২১, ০৬:২০ সকাল
আপডেট : ০১ মে, ২০২১, ০৬:২০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাইদুল ইসলাম: বুলেটের দামে কেনা সাতটি লাশের কোন শ্রমিক দিবস নেই

সাইদুল ইসলাম, লন্ডন থেকে: জীবিকার চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি হলেও শ্রমিকের জীবনের কোন মূল্য থাকতে নেই। জীবন থাকলে তো মূল্য থাকবে? শ্রমিকের জীবন মানে তো দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তায় পুঁজিবাদীদের উপরে উঠার সিঁড়ি মাত্র ।

শ্রমিকরা দেখতে হুবহু উপরতলাওয়ালাদের মত হলেও মূলত শ্রমিক নামেই এরা সমধিক পরিচিত। সরকার, আমলা, পুলিশ, আইন আদালত এবং সাংবাদিকের কলম, সবাই খেটে খাওয়া মানুষকে মানুষ নয় শ্রমিক বলেই ডাকে। নির্দয়, নিষ্ঠুর ধনকুবেরদের ধনের নিয়ামক শক্তি একজন ঘর্মাক্ত শ্রমিক দেখলে নাক সিটকে লাট সাহেবরা ডিজগাস্টিং বলে তাচ্ছিল্য করেন ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে স্যার ম্যাডামদের দামী পারফিউমের যোগান এই ঘর্মাক্ত শ্রমিক শ্রম দেয় বলেই আসে। দু'পয়সার শ্রমিকের ঘামের বিনিময়ে রাজপ্রাসাদে আয়েশি জীবন কাটাবেন এটা আপনার অধিকার, কিন্তু মালিকের কাছে শ্রমিকের কোন অধিকার থাকতে পারে না। অধিকার শুধু পয়সা আর ক্ষমতাওয়ালদের।

সারাদিন কায়িক পরিশ্রম করে দিন শেষে মনিবের কাছে বেতন চাইতে গেলে কিংবা দাবী দাওয়া উত্থাপন করলে শ্রমিককে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। সাথে বোনাস হিসেবে থাকে কয়েক হালি মামলা। কবরে গিয়েও যেন মামলার ঘানি টানতে হয়।

১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরে দৈনিক আটঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামা বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। ফলে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক নিহত হয়। সেই থেকে শ্রমিক দিবস। ঠিক ১৩৫ বছর পর গত ১৭ এপ্রিল শনিবার আমার বাংলাদেশের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিকদের ১০ দফায় দাবীর বিনিময়ে পুলিশ গুলি করে ৭ শ্রমিককে হত্যা করে। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে ছিলো- মাসের শুরুতে ৫ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে বেতন প্রদান, রমজানে বিকেল ৫টার মধ্যে ছুটি এবং রমজানে ইফতারের জন্য বরাদ্দ, যখন তখন ছাঁটাই বন্ধ এবং ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করা। কিন্তু এসব নায্য দাবী আমলে নেওয়া দূরে থাক, উল্টো পুলিশ ডেকে নির্বিচারে গুলি করে ৭টি লাশ উপহার দিল মালিক পক্ষ। তাতেও ক্ষান্ত নয় বেনিয়াগোষ্ঠী। কয়েক হাজার শ্রমিককে মামলায় ফাঁসিয়ে এখন তারা দাঁত কেলিয়ে হাসছে।

  • সর্বশেষ