প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বকৃত নোমান: জান্নাত আরা ঝর্ণার মামলা : জীবিত থেকেও মামুনুল শুয়ে আছেন একটি কফিনে!

স্বকৃত নোমান: ‘সেক্স পার্টনার’ জান্নাত আরা ঝর্ণার মামলার মধ্যদিয়ে একটি ভয়ংকর দুর্লঙ্ঘ ব্ল্যাকহোলে পতিত হলো কুখ্যাত ধর্মবেপারি ও জঙ্গি মামুনুল হক। নানা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এবং শরিয়তি দোহাই দিয়ে সে প্রমাণের চেষ্টা করে আসছিলো ঝর্ণা তার বিবাহিত স্ত্রী। তার ‘রুহানি সন্তানরা’ও বিশ্বাস করে আসছিল ঝর্ণা সত্যি সত্যি তাদের ‘রুহানি মা।’ হেফাজতও নানা কায়দায় মামুনুলকে বাঁচানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিল। পারল না। সোনারগাঁও থানায় ঝর্ণা যে মামালাটি করলেন, তাতে নিজেকে তিনি মামুনুলের স্ত্রী বলে দাবি করেননি। এজাহারে বলেছেন, ‘বিয়ের প্রলোভন ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ২০১৮ সাল থেকে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে আমাকে নিয়ে যান।’

ঝর্ণার এই অভিযোগ কি সমর্থনযোগ্য? ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক’, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ’, ‘অসহায়ত্বের সুযোগ গ্রহণ’―এগুলো খুব খেলো কথা। একই অভিযোগ তো মামুনুলও করতে পারেন। সে যদি উল্টো অভিযোগ করে যে ঝর্ণাই তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েছিল, তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েছিল, তখন? তা ছাড়া ঝর্ণা আরো উল্লেখ করেছেন, ‘একপর্যায়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তার (মামুনুলের) প্রলোভনে পা দিই।’ কেন রে বোন? প্রলোভনে পা দেয়া কেন? লোভ-প্রলোভনে পড়া তো ভালো কোনো ব্যাপার নয়। জানি না এ বিষয়ে আইন কী বলে। ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন।

তবে ঝর্ণার ডায়েরি, ফোনালাপসহ যাবতীয় ঘটনা দেখে-শুনে কাণ্ডজ্ঞান বলছে, ঝর্ণা আসলেই একটা ফাঁদে পড়ে গিয়েছিলেন। ফাঁদটি তৈরি করেছিল শিকারি মামুনুল। ঝর্ণার সংসারে ঢুকে কূটনিবুড়ির মতো স্বামী-স্ত্রীতে ফ্যাসাদ লাগিয়ে দিয়েছিল সে। সেই ফ্যাসাদ থেকে ছাড়াছাড়ি। দক্ষ শিকারি মামুনুলের সৃষ্ট ফাঁদের নির্মম শিকার হলো ঝর্ণা। প্রশ্ন, তার স্বামী মাওলানা শহীদুল ইসলাম কেন লম্পট মামুনুলকে তার সংসারে ঢুকতে দিয়েছিল? এই ব্যাপারে তাকেও কি জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত নয়? নাকি সংসার বাড়িঘরকেও ‘জেহাদের গুপ্ত আস্তানা’ ভেবেছিল শহীদুল?

তবে ঝর্ণার অন্য একটি অভিযোগ সমর্থনযোগ্য। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল হক নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে কিছু মানুষ আমাদের আটক করে ফেলে। পরে মামুনুল হকের অনুসারীরা রিসোর্টে হামলা করে আমাদের নিয়ে যায়। কিন্তু মামুনুল আমাকে নিজের বাসায় ফিরতে না দিয়ে পরিচিত একজনের বাসায় অবৈধভাবে আটকে রাখেন। কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেননি।’ এই যে মামুনুল তার পরিচিত একজনের বাসায় ঝর্ণাকে আটকে রাখল এবং কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিল না, এটা তো জবরদস্তি। জবরদস্তি তো অপরাধ।

যাই হোক, আইনের অত প্যাঁচপুচ কম বুঝি। বন্ধু নিঝুম মজুমদারের হাতে আইন সোপর্দ করে বরং একটি গল্প বলি। বহুল প্রচলিত মহারাজার হাতির সেই গল্প। এক রাজার ছিল এক হাতি। একদিন রাজা দেখলেন একটি ব্যাঙ হাতিকে বারবার লাথি মারছে। ব্যাঙ হাতিকে লাথি মারছে! এত সাহস! কোথায় পেল ব্যাঙ সাহস? তদন্তে গেলেন মহারাজ। হাতিটির কাছে গিয়ে দেখলেন একটি গর্ত থেকে ব্যাঙটি বারবার উঠে আসছে এবং হাতিকে লাথি মারছে। ওই গর্তে পড়ে আছে একটি সোনার মোহর। ব্যাঙটি লাথি মেরেই সেই মোহারের ওপর গিয়ে বসছে। মহারাজ বুঝতে পারলেন ওই সোনার মোহরের গরমেই ব্যাঙ লাথি মারছে মহারাজার হাতিকে। মামুনুলের অবস্থাও তাই হয়েছিল।

বিদেশি জঙ্গি, বাংলাদেশবিরোধী নানা গোষ্ঠী, সরকারবিরোধী নানা ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা পেয়ে মামুনুল গরম হয়ে উঠেছিল। টাকার গরমে সে মুখে যা আসছিল তা বলছিল। সে জানত না ধনুকের তীর আর মুখের কথা একবার বেরিয়ে গেলে তা ফেরত নেওয়া যায় না। টাকার গরমে সে এই দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘লাথি মারার’ দুঃসাহস দেখিয়েছিল। এই দেশ, এই দেশের সংস্কৃতি, এই রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রের সংবিধান, আইন-কানুন সব কিছুকে সে লাথি মারছিল বারবার। সে বুঝতে পারেনি এই বাংলাদেশ যে মরুভূমির দেশ নয়।

মামুনুল হক এখন জীবন্মৃত। জীবিত থেকেও সে শুয়ে আছে একটি কফিনে। সেই কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকলেন তার ‘গার্লফ্রেন্ড’ বা ‘সেক্সপার্টনার’ জান্নাত আরা ঝর্ণা। সেই কফিন থেকে আরো বেশি গন্ধ বেরুবে। গন্ধের ছোটে সাধারণ মানুষ এবং তার ‘রুহানি সন্তানরা’ নাকে হাত দিয়ে দূরে সরতে থাকবে। লেখক : কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত