প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অতনু পাল রাজ: ভালোবাসা নিয়ে চিকিৎসক-স্বাস্থকর্মীদের পাশে দাঁড়ান

অতনু পাল রাজ: একবার কল্পনা করুন তো আপনার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, দমবন্ধ হয়ে আসছে, মৃত্যু আসন্ন। তাই নিকটতম কোনো হাসপাতালে আপনি চিকিৎসা নিতে গেলেন, হাসপাতালও আপনাকে চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত, কিন্তু কোনো চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী বা স্টাফ হাসপাতালে নেই। কারণ তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে মারা গিয়েছেন, বাকিরা সবাই করোনা আক্রান্ত কিংবা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এখন আপনি কি করবেন? কল্পনার এই সত্যিটা আসলেই নির্মম। আমরা প্রত্যেকেই কি শ্বাসরুদ্ধকর এই নির্মম সত্যের দিকেই হাঁটছি না!

যখন এই লেখাটা লিখছি তখন পর্যন্ত ১৫০ জন চিকিৎসক মারা গেছেন, প্রতিদিনই মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। মানহীন সুরক্ষা সামগ্রী তাদের বাঁচাবে না তারা জানতেন। তারপরেও গতবছর নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তারা সেবা দিয়ে গেছেন। আর আমরা তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো পিটিয়েই মেরে ফেলেছি কিংবা কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলছি। কী অকৃতজ্ঞ জাতি আমরা! তাই তাদের কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে নিজেকে তাঁদের জায়গায় দাঁড়ানোর অনুরোধ রইলো।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে অসহায় মানুষটি হল স্বাস্থ্যকর্মীরাই। কারণ যেখানে ন্যূনতম স্বীকৃতি পাওয়াটা দুঃস্বপ্নের মতো সেখানে নিজের আরাধ্য জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে, সাথে পরিবার-পরিজনদের মৃত্যুর ঝুঁকি আছে জেনেও অব্যাহত সেবা দিয়ে যাওয়া অনেক বড় যোগ্যতা। কারণ গত একবছরে প্রচণ্ড মানসিক চাপ নিয়ে সেবা দেওয়ার বিনিময়ে কার্যত প্রহসন ছাড়া ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিটুকুও দিতে পারিনি। অবিলম্বে অন্য দেশের মতো সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে ভিভিআইপি হিসেবে গণ্য করে তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষায় ও চিকিৎসা নিশ্চিতের আহ্বান জানাই। চিকিৎসারত সকলের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার আর কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যেই চিকিৎসাসেবা দিতে দিতে গিয়ে অনেকেই তাদের জীবন দিয়েছেন ,স্বজন হারিয়েছেন যা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।আর নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও লড়াইয়ে নামা সামনের সারির যোদ্ধাদের চায়নিজ বিশেষজ্ঞরাও স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন। তাই পর্দার আড়ালে থাকা সেই সব সুপারহিরোদের স্যালুট জানাই। নষ্ট সময় আপনাদের মর্যাদা দিতে পারেনি। কিন্তু ইতিহাস আপনাদের বীর হিসেবেই চিনবে।

একটা ভঙ্গুর, ফাঁকাবুলির উপর দাঁড়িয়ে থাকা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতার সমস্ত দায় আপনি ঢালাওভাবে ডাক্তারদের দিতে পারেন না। কারণ চিকিৎসা আপনার মৌলিক অধিকার যা নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র, স্বাস্থ্যকর্মীরা না। আর ডাক্তার বনাম সাধারণ জনগণের এই খেলায় দিনশেষে আপনি বা ডাক্তার দুজনেই ভিকটিম। আপনার চিকিৎসা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের, সেই দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই। কেন একটা বৈশ্বিক মহামারী চলমান অবস্থায় গত এক বছরেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলো না তার জন্য সোচ্চার হোন। এই যুদ্ধে আপনি একা বেঁচে যাবেন? এটা অসম্ভব।

এই বিশেষ মুহূর্তে আপনার প্রাণভোমরা, আপনার জীবন রক্ষার মূল যুদ্ধটা করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরাই। তাই ভালোবাসা নিয়ে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে দাঁড়ান। আপনার এ সামান্যতম চেষ্টায় অসামান্য কিছু ঘটে যেতে পারে। কারণ দিনশেষে ভালোবাসা জিতে যায়। লেখক : অ্যাসিস্ট্যান্ট কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট, টিএআই সোশ্যাল ফাউন্ডেশন, উখিয়া, কক্সবাজার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত