প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাল্টে যেতে পারে চলচ্চিত্র ব্যবসায়ের চিত্র

ইমরুল শাহেদ: কোভিড মহামারির কারণে চলমান নিষেধাজ্ঞার আওতা আরো এক সপ্তাহ বাড়ার কারণে অন্যান্যের মতো সিনেমা হল মালিকরাও কিছুটা হতাশ হয়েছেন। তাদের হতাশার কারণ হলো ঈদ। তারা মনে করছে এভাবে চলতে থাকলে ঈদে বড় ছবিগুলো মুক্তি দিয়ে তারা যে ব্যবসা করার আশা করছেন সেটা আর হবে না। উল্টো সিনেমা হল আরো কমে যাবে। এই নিয়েই তাদের উদ্বেগ। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভিনেতা দেব ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আপনারা বেশি লোক এক স্থানে জড়ো হবেন না। বেঁচে থাকলে ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু জীবন চলে গেলে সেটা আর ফিরে আসবে না।’ তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে একইভাবে বলা যায়, বেঁচে থাকলে সিনেমা অনেক দেখা যাবে। কিন্তু জীবন চলে গেলে তো সেটা আর ফিরে আসবে না। জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা মানুষের বিনোদন ক্ষেত্রও এই সময়টাতে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।

চলচ্চিত্র ব্যবসা চলে যাচ্ছে ইন্টারনেটের দিকে। অর্থাৎ চলচ্চিত্র ব্যবসা হয়ে পড়ছে অ্যাপস নির্ভর। পরিচালক অনন্য মামুন তার কসাই ছবিটি নিজস্ব অ্যাপস আইথিয়েটারে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি আরো ছবি নির্মাণ করছেন আইথিয়েটারের জন্য। শাপলা মিডিয়ার সিনেবাজ অ্যাপসের জন্য ইতোমধ্যেই ১০০ ছবি নির্মাণে হাত দেওয়া হয়েছে। দশ ধাপে এই একশ’ ছবি নির্মিত হবে। প্রথম ধাপের দশটি ছবি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং দ্বিতীয় ধাপের দশটি ছবির কাজ যখন শুরু হতে যাচ্ছে, তখন চলে আসে পরিচালক সমিতির নির্বাচন। কাজ থেমে যায়।

আবার শুরু হওয়ার আগেই চলে ম্যুভমেন্টে নিষেধাজ্ঞা, যা এখনো চলমান এবং আওতা আরো বেড়েছে। এছাড়াও আরো কিছু অ্যাপস সক্রিয় আছে এবং কিছু সক্রিয় হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিনেমাটিক, বঙ্গবিডি, চরকি, মুন্সিয়ানা, বাংলাফ্লিক্স, স্বদেশ, হৈচৈ, জি ফাইভ, আড্ডাটাইম ও নেটফ্লিক্স। এর মধ্যে চারটি রয়েছে বিদেশি। এসব অ্যাপসের সবগুলো যদি সক্রিয় হয়ে যায় তাহলে চলচ্চিত্র বিনোদন সিনেমা হল কিছুটা হলেও সরে আসবে। সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয় সেন্সর করা ছবি। অ্যাপসে সেটার প্রয়োজন হয় না। বিদেশি অ্যাপস গুলোর মধ্যে হৈচৈ ভিন্নভাবে ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। তারা এদেশের বাজারের জন্য স্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে কনটেন্টস তৈরি করছে।

সর্বাধিক পঠিত