প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা: ল্যানসেটের গবেষণা

মেহেদী হাসান: [২] আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে এ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, কোভিড সৃষ্টিকারী ভাইরাস সার্স-কোভ-২ বায়ুতেও ছড়াচ্ছে।

[৩] যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার যৌথভাবে পরিচালিত কো-অপারেটিভ ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সেসের (সিআইআরইএস) গবেষক হোসে লুইস জিমেঞ্জ এবং ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের গবেষকরা তাদের যৌথ গবেষণায় বাতাসে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের ছড়িয়ে পরার প্রমাণ পেয়েছেন।

[৪] গবেষক জিমেঞ্জ বলেন, আমাদের কাছে থাকা তথ্য-উপাত্ত বলছে বায়ুবাহিত হয়ে করোনার সংক্রমণ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বড় ড্রপলেটের মাধ্যমে যে করোনা ছড়ায় এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলা যায়। এটা খুবই জরুরি যে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থাসহ অন্য জনস্বাস্থ্যবিষয়ক এজেন্সিগুলো তাদের করোনা সতর্কতার মধ্যে এ বিষয়টি তুলে ধরেছে।

[৫] বিষয়টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে তুলে ধরা হলে বায়ুবাহিত সংক্রমণ কমানো সম্ভব। ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের ট্রিশ গ্রিনহালেগের একদল গবেষক ল্যানসেটের গবেষণা যাচাই করেন। তারাও সার্স-কভ-২ ভাইরাসটি বায়ুবাহিত এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তাদের মতে, গবেষকরা সাগিত চইর মহামারীর বিষয়টি উল্লেখ করেন। সেখানে একমাত্র মাত্র ব্যক্তির মাধ্যমে ৫৩ জন আক্রান্ত হয়। শুধু যে স্পর্শ অথবা কাছাকাছি এলেই করোনার সংক্রমণ হচ্ছে এমনটা বলা যাচ্ছে না।

[৬] গবেষকরা বলছেন, ঘরের বাইরের তুলনায় ঘরে সংক্রমণের ঝুঁকি সর্বাধিক। ঘরের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। এমনও অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছেন যাদের হাঁচি-কাশির মতো উপসর্গ নেই। এ উপসর্গহীনদের মাধ্যমে ৪০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে করোনার সংক্রমণ মাত্রার বাইরে ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ এ উপসর্গহীনরা।

[৭] গবেষক জিমেঞ্জ আরও বলেন, ‘হাঁচি-কাশি-থুথুর মাধ্যমে করোনা ছড়ায় কি না এ সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ তথ্য আমাদের হাতে রয়েছে। কিছু স্বাধীন স্বতন্ত্র গবেষণা বলছে যে, বড় ড্রপলেটের কারণে সংক্রমণ বাড়ে। যদিও এমন দাবির অস্তিত্ব আমরা পাইনি। বরং আমাদের হাতের যাবতীয় তথ্য বলছে, কভিড বায়ুর মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে। এ সংক্রমণ বন্ধে আমাদের এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

[৮] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগে প্রাথমিক ভাবে দাবি করেছিল কোভিড-১৯ ভাইরাস প্রাথমিকভাবে সংক্রমিত ব্যক্তির নাক এবং মুখ থেকে বের হওয়া ছোট ছোট জলের ফোঁটার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্পর্শ, হাঁচির মাধ্যমে তা অন্যান্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমানে রিপোর্ট বলছে এই মাধ্যম ছাড়াও বৃহত পরিসরে বায়ুপথেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কোভিড-১৯ ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে গবেষণা এখন চলছে। সম্পাদনা : রাশিদ

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত