প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্ষণজন্মা অভিনেত্রী কবরীর বর্ণাঢ্য জীবন

ইমরুল শাহেদ: ঢাকাই সিনেমার ‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত নায়িকা সারাহ বেগম কবরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় তিনি পরপারে পাড়ি জমালেন।

কবরীর ছেলে শাকের চিশতী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কবরী চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বয়স ৭১ বছর। তার আসল নাম মিনা পাল। তার পিতার নাম শ্রীকৃঞ্চ দাস পাল। পরে তিনি নাম পরিবর্তন করে হন সারাহ বেগম কবরী।
তিনি শুধু একজন অভিনেত্রীই নন, তিনি একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক ও রাজনীতিবিদ। বর্তমানে তার নির্মাণাধীন ছবিটির নাম ‘এই তুমি সেই তুমি’। এর আগে তিনি পরিচালনা করেছেন ‘আয়না’ ছবিটি।

জন্ম বোয়ালখালীতে হলেও তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রাম শহরে। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে আবির্ভূত হন। তার পরের বছরই অর্থাৎ ১৯৬৪ সালে তিনি যুক্ত হন সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘সুতরাং’ ছবির সঙ্গে। ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি ৪০টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে হীরামন, ময়নামতি, চোরাবালি, সাত ভাই চম্পা, পারুলের সংসার, বিনিময়, আগন্তুক, রংবাজ, সারেং বৌ, সুজনসখী, দেবদাস, মাসুদ রানাসহ জহির রায়হানের তৈরি উর্দু ছবি ‘বাহানা’ এবং ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া তার অভিনীত কোনো কোনো ছবিকে ট্রেন্ড সেটারও বলা যায়। স্বাধীনতা উত্তর রংবাজ ছবির মাধ্যমে এদেশের চলচ্চিত্রে মারপিট যুক্ত হয়। বাংলার তিন সংগ্রামী নারী বলতে যাদের বুঝানো হয়, তাদের একজন হলো সারেং বৌ ছবির নবিতুন। এছাড়া ঢাকার চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করে ফারুক, উজ্জল ও সোহেল রানার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কবরী চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০৬ সালে তিনি নির্মাণ করেন এসিডদগ্ধ নারীদের যন্ত্রণাময় জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র ‘আয়না’। ছবিটি সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করলেও বরাবরের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে থেকে যায় উপেক্ষিত।

তবে অভিনেত্রী থেকে নেত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত সফলতা দেখিয়েছেন কবরী। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কবরী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের মুখ উজ্জ্বল করেন। দীর্ঘ ৫ বছর তিনি জাতীয় সংসদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় উপ-কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অভিনেত্রী কবরী আর জনগণের নেত্রী সারাহ বেগম কবরী সাধারণ মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন প্রেক্ষাগৃহের পর্দা থেকে রাজনীতির মঞ্চ পর্যন্ত। রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও মনের টানে অভিনয়ও করেছেন ‘তুমি আমার স্বামী’, ‘রাজা সূর্য খাঁ’ ছবিতে। চলচ্চিত্র শিল্পের যে কোন প্রয়োজনে কিছু করার চেষ্টা করেছেন। চলচ্চিত্র শিল্পের ডাকে সাড়া দিয়েছেন সব সময়। তাই তো তার অভিনয়ের ৫০ বছর পূর্ণ করা নিয়ে গণমাধ্যম চেষ্টা করেছে যথাযথ মূল্যায়ন করতে। কবরী বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ক্ষণজন্মা শিল্পীদের একজন। সেই কিশোরী বয়স থেকে আজকের পরিণত বয়সে এসে কবরী আপনজনদের কাছে একই রকম। ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আড্ডায় উচ্ছল, চঞ্চল-প্রাণবন্ত। সত্যকথা অকপটে বলতে পারেন। চলচ্চিত্র নিয়ে কাউকে ছেড়ে কথা বলেন না। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার মতো সৎসাহস নিয়ে আজও কবরী সবার কাছে ‘মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবেই আছেন। থাকবেন অনন্তকাল।

সম্পাদনা: আখিরুজ্জামান সোহান

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত