প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একজন সচেতন ‘রিকশাচালক’

ডেস্ক রিপোর্ট: গন্তব্যস্থান বলে ও দরদাম ঠিক করে রিকশায় উঠতে চাইতেই একটু ভ্যাবাচেকা খেলেন সংবাদকর্মী উজ্জল চক্রবর্তী। রিকশা চালক মো. মনির হোসেন তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ভাই একটু দাঁড়ান।’ উজ্জল চক্রবর্তী এবার একটু অবাকই হলেন। রিকশায় স্প্রে করে দিচ্ছেন চালক, যাত্রীকে দিচ্ছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার।  কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডা মৌবাগের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে মো. মনির হোসেন (২৬)। পড়াশুনা প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত। টিভি ও আর মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া খবরে বেশ চিন্তায় থাকা মনির গত কয়েকদিন ধরে যাত্রীদের সুরক্ষায় এ ব্যবস্থা করেছেন। গ্লাভস, মাস্ক পরা মনির অবশ্য নিজের বেলায়ও কম সচেতন নন।

মনির জানালেন, তার মোটর সংযোজিত রিকশায় যাত্রীদের বসার আসনের পাশেই বিশেষ কায়দায় জীবানুনাশক দু’টি স্প্রে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি হ্যান্ডস্যানিটাইজারও রেখেছেন যাত্রীদের জন্য। প্রতিবার যাত্রী নামার পরই তিনি স্প্রে করে দেন। নতুন যাত্রী উঠলে হ্যান্ডস্যানিটাইজার দেন।

যাত্রী উজ্জল চক্রবর্তী বলেন, ‘একজন রিকশা চালকের এমন সচেতনতা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। ওনার মতো আমরা সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে এভাবে সচেতন হই তাহলে করোনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা যাবে।’

পূর্ব পাইকপাড়ার বাসিন্দা রনক বর্মণ বলেন, ‘একজন রিকশাচালকের এমন সচেতনামূলক আয়োজন দেখে খুব ভাল লেগেছে। মনির অল্প শিক্ষিত হয়েও এমন উদ্যোগ নেয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানাই। করোনা মহামারিকালে আমাদের অনুপ্রেরণা হতে পারেন তিনি।’

রিকশাচালক মনির মনে করেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানার অংশ হিসেবে প্রত্যেক রিকশাচালক এমন উদ্যোগ নিতে পারে। এতে খুব বেশি খরচ হয় না। আমি মনে করি এ উদ্যোগ নিতে আন্তিরকতা আর সদিচ্ছাই যথেষ্ট। আর এতে কিছুটা হলেও করোনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা যাবে।’

সর্বাধিক পঠিত