প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ইউএনও পরিচয়ে ব্যাবসায়ীর ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

রাজু আহমেদ: [২] সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিচয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

[৩] এ ব্যাপারে প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ী আজহারুল ইসলাম তাহিরপুর থানায় গত (৪ এপ্রিল) সাধারণ ডায়েরিভূক্ত (জিডি) করার জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনোর কপি আমাদের সময় ডটকম অফিসে এসেছে।

[৪] আবেদনকারী আজহারুল ইসলাম তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের হাজী হাছেন আলীর ছেলে। কলাগাঁও বাজারে তার একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

[৫] ভুক্তভোগী আজহারুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, প্রতারণার শিকার হওয়ার পরদিন তিনি স্বশরিরে উপস্থিত হয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ্মাসন সিংহ’কে ঘটনার ব্যাপারে অবগত করেছেন। তিনি তাহিরপুর থানায় লিখিত আবেদন করতে নির্দেশ দিলে রবিবার (৪এপ্রিল) আবেদন করেন আজহারুল।

[৬] লিখিত আবেদনে প্রকাশ, গত শনিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য হাছান মিয়া তার নিজস্ব মোবাইল নম্বর থেকে (০১৭৩১৫৫০৫৫৪) আজহারুল ইসলামের কাছে দিয়ে বলেন ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলতে। আমি (আজহারুল) তার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে কথা বলি। অপরপ্রান্ত থেকে আমার নাম-পরিচয়, মোবাইল নম্বর, আমার দােকানের নাম, আমার মুখে মাস্ক আছে কি না সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। মোবাইলে কথা শেষ হলে ওই ইউপি সদস্য তার মোবাইল নিয়ে আমার দােকান থেকে চলে যান।

[৭] কিছুক্ষণ পর ফােন আসে। ফােন রিসিভের পর উনি (ইউএনও পরিচয়ধারি) বলেন-আপনার দােকান খােলা থাকবে কেউ আপনার দােকান বন্ধ রাখতে পারবে না। বিনিময়ে আপনাকে ৪০হাজার টাকা দিতে হবে।

[৮] আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি (ইউএনও পরিচয়ধারী) আমাকে বিভিন্ন আইনী ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন। তারপর আমি ১০হাজার টাকা দিতে সম্মত হই কিন্তু তিনি না মানার কারণে শেষপর্যন্ত ২৫হাজার টাকা দিতে সম্মত হই। পরবর্তীতে উনার দেওয়া বিকাশ নম্বরে ওইদিন রাত ৮টা ৩২ মিনিটে ১৮হাজার দুইশ এবং ৮টা ৩৪ মিনিটে ৬হাজার আটশ টাকা পাঠানো হয়।

[৯] আমি ফােন করলে উনি টাকা পেয়েছেন বলে জানান। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহােদয় আমাকে ফােন করেননি। আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। এমতাবস্থায় আমার ভবিষ্যতের জন্য প্রতারণার বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভূক্ত করার জন্য আবেদনপ্রার্থী।

[১০] এ প্রসঙ্গ জানতে চাইলে ইউপি সদস্য হাছান মিয়ার মােবাইল ফােনে সােমবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫মিনিটে ও ১২টা ৩৬ মিনিটে বারবার কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

[১১] তাহিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে আমার জানা নেই। আমি খােঁজ নিয়ে দেখছি। লিখিত আবেদন করলে বিধি মােতাবেক প্রয়ােজনীয় ব্যাবস্হা নেয়া হবে।

[১২] তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ্মাসন সিংহ বলেন, যিনি টাকা দিয়েছেন বােকামি করেছেন। থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাবস্হা নেয়া হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত