প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তবুও বাড়ি যেতেই হবে! আকাশচুম্বী ভাড়া, পথে পথে ভোগান্তি

ডেস্ক রিপোর্ট: দূরপালস্নার বাস নেই, তাতে কী? আবেগ তো আর ধরে রাখা যায় না। লকডাউনের দীর্ঘ ছুটিতে যেতে হবে স্বজনদের কাছে। তাইতো বিভিন্ন রাইড শেয়ারিংয়ের প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, সিএনজি বা অটোরিকশায় করে ঢাকা ছাড়ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মহাখালী, ফুলবাড়িয়া, সায়েদাবাদ ও গাবতলী ছাড়াও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং প্রবেশ পথগুলো ধরনের পরিবহণ নিয়ে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করেছেন চালকরা। অনেকেই আবার সরাসরি কোনো যানবাহন না পেয়ে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে বেশি ভিড় না থাকলেও এই দু’টি টার্মিনালসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে সিএনজি, মোটরবাইক, প্রাইভেট কার বা ট্যাক্সিতে করে আবদুলস্নাহপুর, যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, চিটাগাং রোডসহ বিভিন্ন গন্তব্যে গেছেন যাত্রীরা।

রোববার সকাল থেকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। কিন্তু দূরপালস্নার বাস বন্ধ থাকায় উবার-পাঠাও চালিত মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে চড়ে পাটুরিয়া ঘাটে গেছেন অনেকেই। সেখান থেকে লোকাল বাসে চড়ে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। মাইক্রো ও প্রাইভেট কারে যাত্রী তোলার সময় মাঝে মাঝে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের বাধা দিতে দেখা গেছে। পুলিশ সরে গেলে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে জটলা করে দালালদের মাধ্যযোত্রী তুলতে দেখা গেছে।

গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে মাইক্রোবাসের চালক সফিকুল ইসলাজানান, ‘সাতজন করে যাত্রী নিয়ে তিনি সদরঘাটে নামিয়ে দিচ্ছেন, এজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ১০ জন করে যাত্রী নিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার করে ক্ষেপ দিচ্ছেন।’

এক প্রাইভেট চালক জানান, ‘সামনে একজন ও পেছনে চারজন নিয়ে তিনি পাটুরিয়া ঘাটে নামিয়ে দিচ্ছেন। মাথাপিছু ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন।’

মোটরসাইকেল চালক আনিস জানান, ‘গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ঘাটে একজন বা দুইজন করে যাত্রী নিয়ে যান। ভাড়া বাবদ মাথাপিছু ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেন।’

যাত্রীরাও জানিয়েছেন তাদের অসহায়ত্বের কথা। দীর্ঘ লকডাউনে জীবন-জীবিকার সংকটের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া আর ভোগান্তির করাণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। অনেক শিক্ষার্থী ও কআয়ের মানুষজন ঢাকা ছাড়তে বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

মিরপুর এলাকার গার্মেন্ট কর্মী শাহিনা আক্তার জানান, সবকিছু বন্ধ। কোনো টাকা পয়সা নেই। ঢাকা থাকলে খাব কী? সব আইন শুধু গরিবদের জন্যই?

লকআউনের ঘোষণা আসতে পারে এমন খবর জেনে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন জনগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, পুরান ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে উত্তরা এসেছেন ৫০০ টাকা দিয়ে। পকেটে যে টাকা আছে তা দিয়ে ময়মনসিংহ পর্যন্ত যেতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সন্দিহান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজে এসেছিলেন রাজশাহীর হৃদয়। কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় রাজশাহী যাওয়ার জন্য রোববার ভোরে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে এসে অপেক্ষা করছেন। দূরপালস্নার বাস বন্ধ থাকায় সদরঘাট হয়ে রাজশাহী যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভাড়া বেশি হওয়ায় দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন বলে জানান তিনি।

বিষয়ে গাবতলীতে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট ওবায়দুর গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা এক জায়গায় স্থির থাকতে পারি না। এই সুযোগে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল চালকরা যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন। এরপরও আমরা যাদের ধরতে পারছি, তাদের মামলা-জরিমানা করছি। এছাড়া আমরা ব্যাপারে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’সূত্র: যায়যায়দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত