প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাকন রেজা: করোনা আর কতোটা বাড়লে বোধদয় হবে

কাকন রেজা: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি’র মতন অবস্থা চারিদিকে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা, হয়নি। কয়েকটি গণমাধ্যম কুসুম কুসুম প্রেমের আব্দারের মতন আলতো করে বলেছে, স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। হায়, স্বাস্থ্যবিধি! কুসুম কুসুম আওয়াজে বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘এরচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা হলে, ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের আবার স্মরণ নিই, ‘আমি আর কতো বড় হবো, আর কতো বড় হলে’, আমাদেরও বলতে ইচ্ছে করে করোনা পরিস্থিতি আর কতো খারাপ হলে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যবস্থা করা হবে, ফ্লাইট বন্ধ করা হবে। প্রথমবার বন্ধ না করে তো অনেক হ্যাপা পোহাতে হলো। তখন না হয় অভিজ্ঞতা ছিলো না বলে পার পাওয়া গেছে, এবার?

একপাল পালিত বিদুষক অবশ্য আছেন, সবকিছুতেই পাবলিকের ভুল ধরার জন্য। ব্যর্থদের আত্মরক্ষার বড় অস্ত্র হলো ভিক্টিম ব্লেইমিং। যেমন ধর্ষণের জন্য পোশাকের দোষ। ছিনতাইয়ের জন্য অন্ধকার রাস্তার দোষ। ধর্ষণ ঠেকানোর মুরোদ নেই, রাস্তায় বাতি জ্বালাবার টাকা হাপিস, আর সব নন্দঘোষের।

মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা এভাবে কে নিতে বলেছিলো। শিক্ষার্থীরা বলেছিলো, না অভিভাবকেরা? খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পরীক্ষার যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে অন্য দপ্তরগুলোর অবস্থা কী। এখানেও কিছু কথিত বুদ্ধিজীবী বলে উঠবেন, ‘অভিভাবকদের ভিড় করতে কে বলেছে! ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে, তারা কি পরীক্ষা দিতে আসতে পারতো না।’ কথিত বুদ্ধিজীবীদের বলতে চাই, ছেলেমেয়েরা ঘর থেকে বেরুলে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা কি আপনারা দিতে পারবেন? মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কি নিশ্চিত করতে পেরেছেন, না তুলনামূলক আরও অনিশ্চিত হয়েছে? উত্তরে কী বলবেন, এই লোক শুধু অর্ধেক খালি গ্লাস দেখে, এই লোক নেতিবাচক। ওই পর্যন্তই, এর বাইরে আপনাদের আর কোনো ক্ষমতা বা চেষ্টা নেই। যারা লেখেন, বলেন, তাদের কাজ অর্ধেক খালিটাকে দেখিয়ে দেওয়া, যাতে তা ভরার চেষ্টা করা হয়।

ছয় হাজারের ওপরে পৌঁছেছে প্রতিদিনের আক্রান্তের সংখ্যা। প্রায় ২৪ শতাংশ। মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৫০-এর ঘর। তারপর ঘোষণা হলো পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধের। অফিস কারখানায় বলা হলো, অর্ধেক জনবলে কাজ করতে। এর জবাবে পোশাক মালিকদের সংগঠনের সভাপতি ড. রুবানা হক জানালেন, অর্ধেক লোকবল নিয়ে কারখানা চালানো সম্ভব নয়। তাহলে বড় লোকসানের মুখে পড়বেন তারা। আহা, কী কথা। তারা তো সব সময় লাভটাই দেখলেন। তাদের লোকসান হলে, ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মতন একটি দেশের কিছু লোক প্রথম হয় কীভাবে। হয় এজন্য, তারা সাধারণদের মানুষ বলে গণ্য করেন না। অগণন এই মানুষদের মাথা বেচেই তারা ধনী হওয়ার দৌড়ে প্রথম হন। তাদের গণবিরোধী চরিত্র বরাবরের। যাকগে, এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের। প্রয়োজন শক্ত লকডাউনের। অন্তত এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশের সবকিছু বন্ধ করে দেয়া। আর এই এক সপ্তাহে গরিব মানুষের জন্য তিনবেলার না হোক দু’বেলার অন্ন সংস্থান করা। টিকা আর চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা তো সবাই জানে, সে কথা আর বললাম না। বড় কথার আড়ালে ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ আমাদের দেখা হয়েছে, আর দেখার ইচ্ছা নেই। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত