প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্যারিস্টার মওদুদ ট্যালেন্টেড মানুষ ছিলেন, সেটা যদি যথাযথভাবে দেশপ্রেমে কাজে লাগতেন তাহলে হয়তো দেশকে অনেক কিছু দিতে পারতেন: প্রধানমন্ত্রী

বাশার নূরু: [২] সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বৃহস্পতিবার শোক প্রস্তাবের পর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মওদুদের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে কথা বলেন।

[৩] তিনি বলেন, মওদুদ আহমেদ মেধাবী ছিলেন, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি সবসময় সরকার ঘেষা ছিলেন। যদিও কখনও ছাত্রলীগ করেননি। বার বার দল বদল করা তার একটা অভ্যাস ছিল।

[৪] শেখ হাসিনা বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ব্যারিস্টার পাস করে ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশে আসেন। তিনি কবি জসিম উদ্দিনের মেয়ের জামাই বলে সব সময় তার প্রতি একটু সহানুভুতি ছিল। কিন্তু কিছু কিছু কাজ তার সব সময় একটু ভিন্ন ধরনের ছিল। যার কারণে ১৯৭৩ সালে তাকে একবার গ্রেফতারও করা হয়। কারণ বাংলাদেশের কিছু গোপন তথ্য তিনি সে সময় পাচার করছিলেন।

[৫] মওদুদকে জেল থেকে ছাড়ানোর স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, কবি জসিমউদ্দিন সাহেব নিজে এসেছিলেন আমাদের বাসায়। বঙ্গবন্ধুর কাছে অনুরোধ করলেন বলে তখন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

[৬] মওদুদ বঙ্গবন্ধুর মামলার আইনজীবী ছিলেন না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মওদুদ তার জীবনিতে লিখেছেন তিনি আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী ছিলেন। আসলে তিনি কোন অ্যাপয়েন্টেড আইনজীবী ছিলেন না। তিনি ড. কামাল হোসেন সাহেবের সঙ্গে ঘুরতেন এবং বঙ্গবন্ধুর যিনি পিএ ছিলেন মোহাম্মদ হানিফ তাদের সঙ্গে ঘুরতেন। বিশেষ করে ব্যারিস্টার আমির উল ইসলামের সঙ্গে তার খুব ঘনিষ্ঠতা ছিল। দুই জন সব সময় একসঙ্গেই চলতেন।

[৭] আইয়ুব খানের সঙ্গে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বৈঠকের প্রস্তাব প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আইয়ুব খান গোলটেবিল বৈঠক ডাকল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে আগরতলা মামলায় বন্দি অবস্থায় প্যারোলে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলো। সেই প্রস্তাব আমার মাকে জানালে মা খুব কঠিন পদক্ষেপ নিয়ে বলেছিলেন- ‘মুক্ত মানুষ হিসেবেই যেন তিনি ফিরে আসেন। তিনি প্যারোলে যাবেন না’। এই তথ্যটা আমার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে পৌঁছে দিয়েছিলাম ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে, সেখানে অনেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তারা প্যারোলে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু আমি আমার মায়ের বার্তাটা পৌঁছে, সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু নিজেও প্যারোলে যেতে চাননি। তিনি নাকচ করে দেন যে, তিনি প্যারোলে যাবেন না। এরপর বাসায় যখন ফিরে আসি- ব্যারিস্টার আমির উল ইসলাম আর একজন হলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আমাদের বাড়িতে আসেন। বারান্দায় আমি একা একা দাঁড়িয়ে আছি- তারা আমার কাছে আসেন। আমির উল ইসলাম সাহেবই একটা কথা বললেন ‘তুমি কেমন মেয়ে যে তুমি চাও না তোমার বাবা কারাগার থেকে ফিরে আসুক’ ব্যারিস্টার মওদুদ তাতে সায় দিয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, আমার বাবা সম্মান নিয়েই ফিরে আসবেন। আপনারা এই সব বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।

[৮] প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (মওদুদ) মুখে যাই বলুক তার লেখাগুলোর মধ্যে অনেক অনেক কন্ট্রভার্সি নিজের আপন মনের মাধুরী মিশিয়েও লিখেছেন। আর উনি দল বদল করতে পছন্দ করতেন। যখন আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাওয়ার কথা সেই সুযোগে ১৯৬৯ সালে মিশে গেলেন। পরবর্তী ১৯৭৫ সালে বিএনপিতে যোগ দিলেন। এরপর যখন এরশাদ এলেন তিনি (মওদুদ) একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন এরশাদ সাহেব তার সাজা মওকুফ করে দিয়ে তার মন্ত্রিপরিষদে আইনমন্ত্রী করলেন। এরপর আবার তিনি বিএনপিতে যোগদান করলেন। রাজনীতিতে বার বার দল বদল করা তার একটা অভ্যাস ছিল এতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি যখন মারা গেলেন আমি নিজে ফোন করেছিলাম হাসনাকে। কারণ হাসনার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল সবসময়। সিঙ্গাপুরে ওর সঙ্গে কথা বলি।

সর্বাধিক পঠিত