শিরোনাম
◈ ফাঁসির দণ্ডাদেশ থেকে খালাস পেয়ে সংসদের পথে বাবর, পিন্টু ও আজহারুল ইসলাম ◈ ‌‌টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকা‌পে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হওয়া নিয়ে শঙ্কা! ◈ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতে যাওয়ায় যেসব পরিবর্তন আসতে পারে ◈ কতটা ক্ষমতাধর একজন এমপি, তিনি কী কী কাজ করেন? ◈ অনেকেই ধারণা করছেন নির্বাচন শেষ হলে আমি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাব: তাসনিম জারা ◈ অর্থনীতি সচল করাই আগামী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ: ফখরুল ইসলাম ◈ গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য বিএনপি সব সময় লড়াই করেছে তারই বহিঃপ্রকাশ এই বিজয়: মির্জা ফখরুল ◈ মন্ত্রিসভা নিয়ে যা বললেন সালাহউদ্দিন ◈ ভোটে জিতেই আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিলেন বিএনপি নেতা (ভিডিও) ◈ নারী লিগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ঋতুপর্ণাদের রাজশাহী স্টারস

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২১, ০৩:৩৬ রাত
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২১, ০৩:৩৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শরিফুল হাসান: বুদ্ধিমান মানুষের চেয়ে হৃদয়বান মানুষ অনেক শ্রেয়

শরিফুল হাসান: হৃদয় এবং মস্তিষ্কের মধ্যে যখন দ্বন্দ্ব জাগে, তখন তুমি হৃদয়কেই গ্রহণ করো। কারণ বুদ্ধিমান মানুষের চেয়ে হৃদয়বান মানুষ অনেক শ্রেয়। বুদ্ধিমান বুদ্ধি দিয়ে ভালোও করতে পারে, মন্দও করতে পারে, কিন্তু হৃদয়বান কেবল ভালোই করবে। দার্শনিক নরেন্দ্রনাথ দত্তের এই কথাগুলো আগেও লিখেছি। যাদের কাছে নামটা অপরিচিত লাগছে তাদের বলি কথাটা হিন্দু ধর্মীয়-সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠাতা স্বামী বিবেকানন্দের। তার আসল নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তবে স্বামী বিবেকানন্দ নামেই তিনি সবার কাছে পরিচিত। আধুনিক কালের ধর্ম-সংষ্কৃতি এবং পরোক্ষভাবে ভারতীয়দের জাতীয় আত্মচেতনার রূপ দিতে সাহায্য করেছিলেন এই স্বামী বিবেকানন্দ। তার স্বদেশ সেবামূলক আবেদনে ভারতের আদর্শবাদী যুবসমাজ অনুপ্রাণিত হয়েছিলো, দেশের স্বাধীনতার জন্য তারা মৃত্যুবরণ করতেও অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছিলো। স্বামী বিবেকানন্দ বারবার বলতেন, মানুষের সেবা করা হচ্ছে ঈশ্বরের সেবা করা। যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম সেই হৃদয়বান মানুষের আলোচনায় ফিরি। এই আমি সবসময় সবকিছুর আগে মানবতা বা মানুষকে প্রাধান্য দেই।

ধর্ম, রাজনীতি এ সবকিছু থেকেও আমার কাছে মানুষ বড়। তবে মানুষের জন্য করতে গেলে ভাবতে গেলে মস্তিষ্কের চেয়ে হৃদয়ের বেশি দরকার পড়ে বলেই আমার মনে হয়। অপনি যদি বুদ্ধি দিয়ে প্রতিদিন চলেন দেখবেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন না। উদাহরণ দিয়ে বোঝাই। আপনার কাছে কেউ একজন বিপদে পড়ে টাকা ধার চেয়েছে। আপনার বুদ্ধিমান মস্তষ্ক বলবে, এই লোককে টাকা ধার দিলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না।

কিন্তু  আপনার হৃদয়টা যদি ভালো হয় তবে শুনবেন সে বলছে, ফেরত না দিক, দিয়ে দাও যদি লোকটার কোন কাজে আসে। তাতে না হয় তোমার একটু ক্ষতি হলো। এক জীবনে বারবারই আমি ভাবি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবুও আমি হৃদয়ের কথা শুনি। জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। যারা মস্তিষ্ক দিয়ে চলে তারা খুব দ্রুত টাকা পয়সা করা, বাড়ি-গাড়ি করা কিংবা বৈষয়িকভাবে হয়তো সফল হতে পারে। আর যারা হদেয়ের কথা শুনে তাদের অনেকের হয় উল্টো। তবে ওই যে শুরুতেই বলেছি বুদ্ধিমান বুদ্ধি দিয়ে ভালোও করতে পারে, মন্দও করতে পারে, কিন্তু হৃদয়বান কেবল ভালোই করবে।

আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাটা হলো বুদ্ধিমান মানুষ বেশি। আমরা হৃদয়ের চেয়ে মস্তিষ্কের কথা বেশি শুনি। সবাই নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। সারা দুনিয়ার হয়তো একই চিত্র। কিন্তু আমি সবসময় হৃদয়বান মানুষদের একটা পৃথবীর স্বপ্ন দেখি যেখানে মানুষ সবসময় তাদের হৃদয় দিয়ে মানুষের মঙ্গল করবে। আর সে কারণেই সবসময় নিজেকে বলি, বলি সবাইকে যে হৃদয় এবং মস্তিষ্কের মধ্যে যখন দ্বন্দ্ব জাগে, তখন তুমি হৃদয়কেই গ্রহণ করো। কারণ বুদ্ধিমান মানুষের চেয়ে হৃদয়বান মানুষ অনেক শ্রেয়। বুদ্ধিমান বুদ্ধি দিয়ে ভালোও করতে পারে, মন্দও করতে পারে, কিন্তু হৃদয়বান কেবল ভালোই করবে। সকলের মঙ্গল হোক। হৃদয়বান মানুষে ভরে উঠুক এই পৃথিবী। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়