প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জুড়ীতে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু ,তদন্ত কমিটি গঠিত

স্বপন দেব : [২] জেলার জুড়ীতে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। সোমবার(২৯ মার্চ) রাতে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।

[৩] রাইসা নামে সাড়ে ৩ মাসের শিশুটির মৃত্যুতে তার আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করে। রাতেই অভিযুক্ত নার্সকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

[৪] উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম বাছিরপুর গ্রামের বাসিন্দা শিশুটির পিতা সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার সাড়ে তিন মাস বয়সের মেয়ে রাইসার নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ দেখা দিলে সোমবার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

[৫] ভর্তির পর থেকে ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলার শিকার হয়েছে শিশুটি। সন্ধ্যার পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে বার বার নার্স ও ডাক্তারের ডাকা হলেও তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেননি। এতে শিশুটির অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। এ অবস্থায় রাত আটটায় শিশুটি হাসপাতালে মারা যায়।

[৬] তিনি বলেন, ডা: অনিকের পরামর্শে আমার মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করি। সারাদিনে একজন ডাক্তারও আমার মেয়েকে দেখতে আসেননি। সন্ধ্যার পর আমার মেয়ের অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। আমি আমার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।

[৭] শিশু মারা যাওয়ার খবরে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও জুড়ী থানার ওসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে বিক্ষোব্ধ এলাকাবাসী শান্ত হন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নার্সকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

[৮] সেই সাথে ডা. শহিদুল আমিন, ডা. ইমামুল মুন্তাসির ও ডা. নাজমাকে নিয়ে ৩ সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

[৯] অভিযুক্ত নার্স দীপা রেবা বলেন, শিশুটির অভিভাবক আমাকে যতবার ডেকেছে আমি ততোবারই শিশুটিকে দেখেছি। সন্ধ্যার পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে আমি বারবার অনিক স্যারকে মোবাইলে ফোন দেই, তিনি আমার ফোন রিসিভ করেননি। অনেকক্ষণ পর তিনি নিজেই আমাকে ফোন দেন এবং হাসপাতালে আসেন।

[১০] আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার প্রিয়জ্যোতি ঘোষ অনিক বলেন, আমি নিয়মিত রোগীকে দেখাশোনা করেছি। রোগীর অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে দ্রুত রোগীকে দেখতে যাই এবং জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার পরিবারকে পরামর্শ দেই। এর কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুটি মারা যায়।

[১১] উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সমরজিৎ সিংহ বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে উপস্থিত হই। এলাকাবাসী এবং শিশুর পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত নার্সকে রাতেই দায়িত্ব থেকে সাময়িক সরিয়ে দেই আর ঘটনাটি তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দিয়েছি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত