প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এ বি এম কামরুল হাসান: বৈশ্বিক তথ্য ভাণ্ডারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অবস্থান

বি এম কামরুল হাসান: স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি আমরা। এই পঞ্চাশ বছরে অগ্রগতির পথ-পরিক্রমায় আজ বাংলাদেশ কোথায় আর পাকিস্তান কোথায়? হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন কতোটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে? সামাজিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তি কোন পর্যায়ে? দেশে-বিদেশে সবাই আজ তা বিশ্লেষণ করতে চায়। আসুন দেখে নেওয়া যাক, বৈশ্বিক তথ্য ভাণ্ডারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অবস্থান।

বিশ্বের সুখী মানুষের তালিকায় বাংলাদেশ এখন ৬৮ নম্বরে। শীর্ষ ৯৫ দেশের মধ্যে পাকিস্তান নেই। আগে বাংলাদেশ ছিল ১০১ নম্বরে। পাকিস্তান ১০৫ এ। গত বছরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সপ্তাহখানেক আগে এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সুখের সাথে অর্থের একটা যোগসূত্র রয়েছে, সেখানেও বাংলাদেশ গত কয়েক বছর যাবৎ অগ্রগামী। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বার্ষিক জিডিপির পরিমাণ ছিল ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, পাকিস্তানের ২৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের ১৮ শ ৫৫, পাকিস্তানের ১২শ ৮৪ মার্কিন ডলার। অনুমান করা হচ্ছে, এ বছরের শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১৯শ ৯ মার্কিন ডলারে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২ ভাগ, পাকিস্তানের ছিল ১ দশমিক ৯ ভাগ।

কোভিডের কারণে গতবছর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক দুই ভাগ, পাকিস্তানের নেগেটিভ শূন্য দশমিক ৩৮ ভাগ। বাংলাদেশে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে পাকিস্তানের ছিল ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাকিস্তানের মুদ্রা রুপি এখন বাংলাদেশের টাকার নিচে। ৮৪ টাকায় এক মার্কিন ডলার, যেখানে পাকিস্তানে ডলারের দাম এখন ১৫৬ রুপি । ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ সাড়ে ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে, সেখানে পাকিস্তানের পণ্য রফতানির পরিমাণ ছিল ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৯ শতাংশ। ২০১৭ সালের হিসাবে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ৬ শতাংশ। প্রাইমারি শিক্ষা শেষে শিশুদের ঝরে পড়ার হার বাংলাদেশে বছরে প্রতি হাজারে ৪ জন, পাকিস্তানে ৩০ জন। প্রাইমারি শেষে মাধ্যমিকে ভর্তি হয় বাংলাদেশে ৯৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৭২ শতাংশ। বাংলাদেশে প্রাইমারিতে প্রতি ৩০ জন ছাত্রের জন্য রয়েছে একজন শিক্ষক, পাকিস্তানে প্রতি ৪৪ জনে একজন । মাধ্যমিকে বাংলাদেশে প্রতি হাজারে শিক্ষক রয়েছে ২ দশমিক ৪৭, পাকিস্তানে ১ দশমিক ২৭।

বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, মহিলা শিক্ষা, মহিলা ক্ষমতায়ন ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস প্রভৃতি সামাজিক সংস্থায় পাকিস্তানের চেয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে। ১৯৫১ সালের আদমশুমারিতে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৪২ মিলিয়ন, পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৩৪ মিলিয়ন। আজ বাংলাদেশে  পাকিস্তানের তুলনায় অনেক কম লোক রয়েছে – ১৭০ মিলিয়ন বনাম ২০০ মিলিয়ন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা অনুসারে, পাকিস্তানের (২৫ শতাংশ) তুলনায় বাংলাদেশের (৩৩ শতাংশ)  নারীরা কর্মসংস্থানে বেশ এগিয়ে। মহিলা শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনাতেও এগিয়ে। ২০২০ সালে বাংলাদেশে প্রতি মহিলা গড়ে দুটি সন্তান প্রসব করে, পাকিস্তানে সেটা সাড়ে তিন।  শিশু মৃত্যুর হার বাংলাদেশে গত বছর ছিল হাজারে ২৮ জন, পাকিস্তানে ৫২ জন । জন্মহার বাংলাদেশে ছিল হাজারে ১৮ জন, পাকিস্তানে ২৭। একই সময়ে মৃত্যুহার বাংলাদেশে হাজারে ৫ দশমিক ৫  জন, পাকিস্তানে ৬ দশমিক ২ ।  এখন বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ৭৪ বছর, পাকিস্তানিদের ৬৯ বছর। তাঁর মানে এখন আমরা পাকিস্তানিদের চেয়ে ৫ বছর বেশি বাঁচি।

তবে এখনো যেতে হবে অনেকদূর। বাকি রয়েছে অনেক কাজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাবো সোনালী ভবিষ্যতের দিকে । তিনিই পারেন বিশ্বের ‘জায়ান্ট ডোনারদের’ ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতুর সফল বাস্তবায়ন করতে। ‘নিজেদের টাকার’ পদ্মা সেতু আজ আমাদের অহংকার । স্বাধীনতার এই সুবর্ণজয়ন্তীর সবচেয়ে বড় উপহার । লেখক : প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট

সর্বাধিক পঠিত