প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শামীম আহমেদ জিতু: ‘জান ও জবান’ নিয়ে ‘ব-দেশে’ গৃহযুদ্ধ!

শামীম আহমেদ জিতু : লেখক মুশতাক আহমেদকে কারাগারে হত্যার প্রতিবাদে একটা সভা-সমাবেশের আহ্বান চোখে পড়েছে। একটা ব্যানার অনেকের পোস্টে দেখেছি। সেখানে লেখা আছে: ‘কথার জন্য, লেখার জন্য, আঁকার জন্য আমাকেও গ্রেপ্তার কর। বিনা জামিনে হত্যা কর। জান ও জবানের স্বাধীনতা চাই।’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার, বিকাল ৪টা’ অন্যায়ের প্রতিবাদে শহীদ মিনারে সভা-সমাবেশ বাঙালির একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। আমি এই সমাবেশকে স্বাগত জানাই। ব্যানার দেখে মনে হয়েছে শুধু মুশতাক আহমেদ নন, কার্টুনিস্ট কিশোরসহ অন্যদের বিনা জামিনে আটক রাখার প্রতিবাদও এখানে করা হবে। ভালো লেগেছে এই উদ্যোগ। তারপর সারাদিন অন্যান্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। বিকেলে দেখি এ নিয়ে আমাদের ‘ব-দেশে’ গৃহযুদ্ধ হয়ে গেছে। গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত সুপ্রীতি ধরের একটি স্ট্যাটাস। তিনি লিখেছেন : ‘জান ও জবান’ এর স্বাধীনতা চেয়ে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই দুটো শব্দই আমার কানে বাজছে। এতো বয়স হয়ে গেলেও মনে হয় না খুব বেশি বার/কখনও আমি এই দুটি শব্দ ব্যবহার করেছি। কথা বলার স্বাধীনতা চেয়েছি, লেখার স্বাধীনতা চেয়ে এসেছি এতোকাল। শব্দ, ভাষাও যে সাম্প্রদায়িক হয়, এ দুটো তার প্রমাণ।’ সুপ্রীতি ধর তার লেখায় ‘জান ও জবান’ শব্দ দুটি নিয়ে আপত্তি করেছেন। তার লেখা পড়ার পর আমার মনে হলো, জীবন ও স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারকে আমরা সাধারণত ‘জান ও জবানের’ অধিকার তো কখনও বলি না। একটু তো কানে বাঁধছেই। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বাঙ্গালির বহু বছরের ‘তারা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ কি তার আবেদন হারিয়েছে?
আমাদের মুখের ভাষার অধিকার রক্ষার দাবি কি ‘জান ও জবানের’ স্বাধীনতা রক্ষার চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী নয়? বাঙ্গালির জীবনের মূল্য, প্রতিবাদী বাঙ্গালির ‘স্বাধীনতার জন্য কলিজা ছিইড়া দিয়া দিমু’ কি ‘জানের’ স্বাধীনতা চাইবার চাইতে বেশি শক্তিশালী নয়? আমার তো তাই মনে হয়। সেই বিবেচনায় ‘জান ও জবানের’ অধিকার রক্ষার ভাষাটা কেমন যেন প্রতিবাদী ভাষা মনে হয়নি, বরঞ্চ মনে হয়েছে গরমের দুপুরে কাঁথা বালিশে শুয়ে একধরণের প্রেমময় রোমান্টিসিজম। পুরনো প্রেমিক প্রেমিকাকে ফিরে পাবার সুখস্মৃতির রোমন্থন। তবে সুপ্রীতি ধরের মতো এই শব্দযুগলের ব্যবহার আমার কাছে সাম্প্রদায়িকও মনে হয়নি। কিন্তু তাই বলে আমি সুপ্রীতি ধরকে তো গালি দিতে যাবো না। তার ধর্ম নিয়ে, রাজনৈতিক বিশ্বাস নিয়ে আঘাত করতে যাবো না। দ্বিমত প্রকাশ করছি করব। ঠিক একইভাবে যারা সভা-সমাবেশের ডাক দিয়েছেন, তারা ‘জান ও জবানের স্বাধীনতার মতো রোমান্টিক ভাষার ব্যবহার করেছেন বলে তাদের এই ডাকের সাথেও দ্বিমত প্রকাশ করব না। তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদকে স্বাগতই জানাবো। কারণ ভাষার অভ্যন্তরে যে মূল বক্তব্য সেটি তো আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমাদের সবকিছুতে একমত হতে হবে কেন? আমরা কেন ভিন্নমত নিয়ে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারি না? কেন খুব সামান্য একটা ব্যাপারে পুরো জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যেতেই হবে? হে ভবিষ্যত প্রজন্ম, আশা করি তোমরা এই অপ্রয়োজনীয় বাহাস ও বায়বীয় শত্রুতা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত