প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

“আমার খাইয়া, আমার পইরা ডুব দিছে ভাই অন্যজনরে” (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট: শরীয়তপুরের ডামুড্ডার ইসলামপুর ইউনিয়নে পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। হত্যা করার পরে ফেইসবুক লাইভে এসে গান গাইতেও দেখা যায় হত্যাকারী প্রবাসী নজরুল ইসলামকে।

এ ঘটনায় স্বামী নজরুল ইসলাম মাদবরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে ঘাতক স্বামী।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে, অন্যান্য দিনের মতই স্বাাভাবিকভাবে সংসারে কাজকর্ম করছিলেন আমেনা বেগম। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাইরে থেকে বাড়িতে আসে স্বামী নজরুল। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাড়ির সবকটি দরজা আটকে রান্নাঘরে প্রবেশ করে পেছন থেকে স্ত্রীকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করে ঘাতক স্বামী। চিৎকারে আশপাশের নারীরা ছুটে এলেও দরজা বন্ধ থাকায় প্রবেশ করতে পারেনি কেউ। মুহুর্তেই নিস্তেজ হয়ে যায় চিৎকারের শব্দ। কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে রজরুল। এরপর আমেনা বেগমের মরদেহ ১টি তোষকে পেঁচিয়ে খাটের ওপর রেখে ফেইসবুক লাইভে দেখান ৬ মিনিট ২২ সেকেন্ড। ঘটনা ঘটিয়ে মরদেহের পাশে বসে “আমার খাইয়া, আমার পইরা ডুব দিছে ভাই অন্যজনরে” লাইনগুলো সুর করে গান গাইতেও দেখা যায় নজরুলকে।

স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়ার ১ ঘণ্টা পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে ঘাতক নজরুল মাদবর দরজা খুলে গ্যাস সিলিন্ডার গলায় পেঁচিয়ে আগুন লাগিয়ে বাড়িঘর সহ সবকিছু উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। পরে পুলিশ তাকে বুঝিয়ে আয়ত্বে এনে আটক করে এবং আমেনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ১৫ বছর আগে ইসলামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মৃত হোসেন মাদবরের ছেলে নজরুল ইসলাম মাদবরের সঙ্গে একই ইউনিয়নের গঙ্গেসকাঠি গ্রামের মৃত আজিদ আলী মাদবরের মেয়ে আমেনা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের নয়ন মাদবর নামে ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। সে ঢাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার চার্জশিট দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা পুলিশ। শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির আহম্মেদ বলেন, প্রবাসী নজরুল তার স্ত্রীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে নিজেসহ ঘড় উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়াসহ মৃত স্ত্রীকে সামনে করে ফেইসবুকে লাইভ করেছে। এমন ঘটনায় আমরা নানা কৌশলে নজরুলকে আটক করি। ঘটনা স্বীকার করেছে নজরুল।

নজরুল ইসলাম মাদবর মালয়েশিয়ায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। সেখানে ছাদ থেকে পড়ে তার দুই পা ভেঙে যায়। সুস্থ হয়ে করোনা মহামারির সময় (৭ মাস আগে) দেশে চলে আসেন তিনি। স্ত্রীসহ তিনি শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন।

আমেনার মরদেহ ময়নাতদন্তর জন্য শরীয়তপুর হাসপাতালের মর্গে আনা হয়েছে। ময়না তদন্তশেষে আমেনার বাবার বাড়ি একই ইউনিয়নের গঙ্গেসকাঠি গ্রামে দাফন করা হবে। এ ঘটনায় মৃত আমেনা বেগমের ভাই বাদী হয়ে ডামুড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন এলাকার মানুষ।ডিবিসি

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত