এ আর. আব্বাস সিদ্দিকী (কুতুবদিয়া): সাগরে জলদস্যুদের আক্রমণে মাঝি কলিম উল্লাহ ও মেহের আলীসহ দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ সময় ট্রলার ও আহতাবস্থায় কলিম উল্লাহসহ ৮ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। গত বুধবার সকাল ১১ টার দিকে সাগরে মাছ ধরার সময়ে কুতুবদিয়ার পশ্চিমে লাশের ফাড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আহত কলিম উল্লাহ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের নজু বাপের পাড়া এলাকার শামসুল আলমের পুত্র।
অপহরণকৃত জেলেরা হলেন, উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের নজু বাপের পাড়ার বাসিন্দা শামসুল আলমের পুত্র কলিম উল্লাহ, হাসিম আলীর পুত্র শাহারিয়া ও মৃত বদিউল আলমের পুত্র আমিনুল ইসলাম, একই এলাকার জুম্মা পাড়ার নুরুল আলমের পুত্র মোহাম্মদ কালু, নুরুল আলমের পুত্র হানিফ, ছৈয়দ আলমের পুত্র বাবু, রিয়াদ ও ফাহিম।
জলদস্যুর হাত থেকে ফিরে আসা মেহের আলী, ওসমান গনিসহ জেলেরা জানান, গত শুক্রবার উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের মাঝি কলিম উল্লাহর মালিকানাধীন এফবি মা-বাবার দোয়া নামের মাছ ধরার ট্রলারটি মাঝি-মাল্লাসহ ১৫ জনকে নিয়ে সাগরে যায়। মাছ ধরার মুহূর্তে বুধবার সকাল ১১ টার দিকে ট্রলারে জলদস্যুরা আক্রমণ করে এবং জেলেদের ব্যাপক মারধর করা হয়। এক পার্যায়ে মাঝি কলিম উল্লাহ ও মেহের আলী গুলিবিদ্ধ হয়। আহতাবস্থায় মেহের আলীসহ কয়েক জেলেকে অন্য ট্রলারে তুলে দেয়। তবে, তিন হাজার মাছ, ট্রলার ও মাঝি কলিম উল্লাহসহ ৮ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাওলানা শাহ আলম জানান, সাগরে কলিম উল্লাহর এফবি মা-বাবার দোয়া নামের মাছ ধরার ট্রলারটি জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এসময় মাছ, জাল ট্রলারসহ ৮ জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত কোন খবর পাচ্ছে না। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল হক জানান, সাগরে জলদস্যুরা কুতুবদিয়ার কলিম উল্লাহসহ ৮ জেলেদের অপহরণের ব্যাপারে তদন্তের সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামশেদ আলম রানা জানান, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।