শিরোনাম
◈ নেপালে পাহাড়ি ঢলে নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক, তালিকায় নেই কোনো বাংলাদেশি ◈ জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছেন উদ্যোক্তারা, উৎপাদনক্ষমতা ছাড়িয়েছে ৬০০ মেগাওয়াট ◈ পোশাকের বৈশ্বিক বাজার বদলাচ্ছে, তাল মেলাতে পারছে না বাংলাদেশ ◈ জাতীয় কবি কাজী নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ◈ দুদিন পরেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চলে ◈ স্কুলশিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা, বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা ◈ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ ◈ নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভূমিধসে নিহত অন্তত ১৬০, নিখোঁজ ৮ শতাধিক ◈ ১৯ বছর ধরে পালাতক ‘পিচ্চি হান্নানের’ সহযোগী ‘কিলার মাসুদ’ গ্রেপ্তার ◈ নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শোক, সহায়তায় প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:৪৮ দুপুর
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:৪৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঠান্ডার দেশের টিউলিপ এখন শ্রীপুরের সেই বাগানে, হতে পারে রপ্তানি পণ্য

ডেস্ক নিউজ: বাংলাদেশের আবহাওয়ায় টিউলিপ ফুল ফোটানো সম্ভব বলে প্রমাণ করেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া দক্ষিণখণ্ড গ্রামের ফুলচাষি মো. দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, আমাদের বাগানে টিউলিপ ফুটেছে দেখে অন্যদের চেয়ে আমরাই বেশি খুশি। প্রায় ১৫ বছর আগে থেকে আমরা ফুল চাষ শুরু করি। প্রথমে বাণিজ্যিকভাবে পরিকল্পনা করিনি। কিন্তু প্রথম বছরেই উৎপাদন ভালো হওয়ায় পর গ্লাডিউলাস ফুল চাষের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করি। সুৃত্র: ডেইলি স্টার ও ডেইলি বাংলাদেশ

নেদারল্যান্ডস থেকেই ফুলের চাষ প্রক্রিয়া, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির ব্যবহার, ফুল গাছ রোপণ ও পরিচর্যা প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিগত পণ্য সংগ্রহ করি। গতবারের মতো এবারো আমার বাগানে বিরল প্রজাতির টিউলিপ ফুল ফুটেছে।

তিনি আরো বলেন, টিউলিপ গাছের ফলন ও ফোটার জন্য কমপক্ষে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রার প্রয়োজন। সেখানে আমাদের এলাকায় সর্বনিম্ন ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। এর মধ্যেই স্বপ্নের এ ফুলটি ফুটেছে। অনেকে ফুল প্রতি ৮০ টাকা দাম দিতে চেয়েছিলেন, বিক্রি করিনি।

সফল এ ফুল চাষি বলেন, দেশে যেহেতু আমার বাগানেই প্রথম ফলন, সেহেতু আমি বিক্রি করব না। অনেক দর্শনার্থী এসে ফুলগুলো দেখছেন। এটি আমাদের অর্জন, দেখতে ভালো লাগে, মানুষ আসছে দেখার জন্য। এতেই আমাদের আনন্দ। ফুলটি না ফুটলে হয়তো এ আনন্দ আমি টাকা দিয়ে কিনতে পারতাম না।

দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শেলী বলেন, নেদারল্যান্ডস থেকে ২০১৭ সালে রয়েল ভ্যান জেন্টেন নামক একটি কোম্পানি থেকে লিলিয়াম ফুলের ৬০ হাজার বাল্ব এনে চাষ শুরু করি এবং সফল হই। দুই বছর লিলিয়াম উৎপাদন করি। তৃতীয় বছরে লিলিয়ামের বাল্বগুলো সংরক্ষণ করি ও পরে সেগুলো বিক্রি করে দেই।

তিনি বলেন, গত বছরের শেষের দিকে একই দেশ থেকে ফুল গাছ ও বাগানের প্রযুক্তিগত কাঁচামাল সংগ্রহ করি। তখন সে দেশ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের টিউলিপ ফুলের এক হাজার বাল্ব ওই কোম্পানি থেকে বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়।

শেলী বলেন, রোপণের ২২ দিনের মাথায় টিউলিপ বাল্বগুলো থেকে দুটি পাতা বেরোনোর পরই ফুল ফুটে উঠে। জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ফুলের দেখা মেলে। একে একে প্রায় প্রতিদিন এক হাজার বাল্ব থেকে ফুল ফুটতে থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপিরচালক ড. মো. আব্দুল মুঈদ বলেন, বাংলাদেশে টিউলিপ চাষ সফলভাবে করা সম্ভব। চাষি দেলোয়ার হোসেন তা করে দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের মাটিতে টিউলিপ ফুল ফুটতে দেখা আমার এটিই প্রথম। সাধারণত বরফ প্রধান দেশে টিউলিপ ফুলের চাষ হয়। ইউরোপের দেশগুলোতে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকায় সেসব দেশে টিউলিপের অহরহ চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু টিউলিপ ফুলের সফল চাষ করে চাষি দেলোয়ার হোসেন অবাক করে দিয়েছেন। আমরা এ নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কথা বলব। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ রফতানিযোগ্য পণ্য হিসেবে টিউলিপ ফুলের চাষ করতে পারবে।

এদিকে, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান ফুল চাষি ও উদ্যোক্তাদের ঋণসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। শনিবার দেলোয়ার হোসেনের টিউলিপ ও স্ট্রবেরি বাগান পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান ।

  • সর্বশেষ