প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্ষমতাই ধর্ষণের মূল কারণ: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

ডেস্ক রিপোর্ট: স্থান, কাল, সময়, পোশাক কোনোকিছুই ধর্ষণের কারণ নয়। আসলে ধর্ষকের ক্ষমতাই ধর্ষণের মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ।

শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র, প্রীতিলতা ব্রিগেডসহ ১৩টি প্রগতিশীল সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যানারে এ গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, যারা নির্যাতিতদের পোশাক ও চলাফেরা খুঁজে, তারা মূলত অপরাধীর অপরাধকে আড়াল করতে চায়। যখন একজন ধর্ষণ হয় তখন ধর্ষিতার দোষ যারা খুঁজে তারা আসলে সন্ত্রাসী বা ধর্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতা করে তার পক্ষের যুক্তি খোঁজার চেষ্টা করে। স্থান, কাল, সময়, পোশাক কোনো কিছুই আসলে ধর্ষণের কারণ নয়, এর মূল কারণ হলো ধর্ষকের ক্ষমতা। এই ধর্ষণকারীর পরিচয়টা প্রকাশ করতে হবে ভালোভাবে। সঙ্গে তারা ক্ষমতার উৎসও।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে ধর্ষণের পরিসংখ্যান পাই তা বাস্তব চিত্রের অতি সামান্য একটি অংশ। আমরা পরিসংখ্যান পাই যা পুলিশ বা পত্রিকায় পরিসংখ্যান আসে। আর পত্রিকা বা পুলিশ থেকে আমরা যে পরিসংখ্যানটা পাই তা হলো যেটা মামলা হয়। কিন্তু অপরাধ এর বহুগুণ বেশি। কারণ, মামলা করার জন্য যে শক্তি, সাহস বা পরিস্থিতি দরকার তা অনেক ভুক্তভোগীর থাকে না।

আনু মুহাম্মদ বলেন, মামলা না করার কারণ মূলত দুটি, একটি তার আর্থ-সামাজিক অবস্থান, অন্যটি অভিজ্ঞতা। তারা অভিজ্ঞতা দিয়ে দেখেন মামলা করার পর তাকে কত রকমের হয়রানির শিকার হতে হয়। আমাদের যে আইন আছে তা এত ত্রুটিপূর্ণ, এত পুরুষতান্ত্রিক, এত অমানবিক, সেই আইন প্রয়োগ করে যে বিচারকাজ করা হয় তাতে ভুক্তভোগী নারী বহুবার নির্যাতিত হয়। তারা মামালা করে না, কারণ তা প্রমাণ করার জন্য, তার সাক্ষী আনার জন্য এবং তাকে যে ধরনের প্রশ্ন করা হয় তার জন্য। এছাড়া তার পরিবারের ওপর সারাক্ষণ একটা চাপ থাকে, নিরাপত্তার সমস্যা থাকে।

তিনি বলেন, বর্তমান নাটক-সিনেমাগুলোর দিকে তাকালে সেখানে মূলত দুই জিনিস দেখা যাবে, একটি হচ্ছে সারাক্ষণ মারামারি, সন্ত্রাস এবং সহিংসতা। এটা যত নির্মম হয় তত হিট হয় সিনেমা। এর একটি হচ্ছে যৌন নিপীড়ন। সেখানে নায়কের কাজ হচ্ছে নায়িকাকে উত্ত্যক্ত করা। এক পর্যায়ে যাকে উত্যক্ত করা হবে সে প্রেমে পড়বে। সিনেমা ও নাটকগুলোতে এরকম একটি কাহিনী আমরা সারাক্ষণ দেখি। এই সিনেমাগুলো একটা জনমত তৈরি করে। এতে তরুণ সমাজের মধ্যে ধারণা জন্মে পুরুষ হিসেবে যদি আমাকে পাত্তা পেতে হয় তাহলে নারীকে উত্ত্যক্ত করতে হবে। – জাগো নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত