প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সিরাজগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় পুত্র-কন্যাসহ শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যুর বিচারের দাবীতে মানববন্ধন

সোহাগ হাসান: [২] সিরাজগঞ্জে বাস-ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে পুত্র-কন্যাসহ অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকা ইফরাত সুলতানা রুনীর মর্মান্তিক মৃত্যুর বিচারের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

[৩] মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন মুক্তির সোপান এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

[৪] বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি শিক্ষক সমিতি সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি উদয় কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাকিবুল হাসান ভুঞা, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি সমাজ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অশীষ কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক কে.এম ছানোয়ার হোসেন, কল্যাণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমজাদ হোসেনসহ অন্যান্যরা।

[৫] মানববন্ধন শেষে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

[৬] মানববন্ধন থেকে ৫ দফা দাবী উত্থাপন করা হয়। দাবীগুলো হচ্ছে- শিক্ষক ও তাঁর দুই শিশু সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে, ঢাকা-এনায়েতপুর-বেলকুচিগামী বাসস্ট্যান্ড শহর থেকে মিরপুর এ স্থানান্তর করতে হবে। দিনের বেলা শহরে ট্রাক-লড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। শহরের বিভিন্ন মোড় প্রশস্ত করতে হবে ও শহরের ভিতর দিয়ে আন্তঃজেলা বাস চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে।

[৭] এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতিদিনই করুণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। শুধু সিরাজগঞ্জে নয় সারাদেশে নতুন কোন ঘটনা নয়। সাধারণ মানুষ, শিক্ষক এমনকি কোমলমতি শিশুরাও দেশব্যাপী এমন করুণ ও অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন আমরা এই করুণ মৃত্যুকে সড়ক বিভাগের বিশৃঙ্খলার কারণে এবং চালকগণের বেপরোয়া মনোভাব থাকায় হত্যাকা- হিসবে মনে করি। একই পুত্র-কন্যাসহ অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকা ইফরাত সুলতানা রুনীর সড়ক দূর্ঘটনায় অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী বাস-ট্রাক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, কোমলমতি শিশুদের নির্ভয়ে বিদ্যালয়ে গমন ও চলাচলের সুষ্ঠু পরিবেশ বান্ধব সড়কপথ নির্মাণের দাবী জানানো হয়। বক্তারা আরও বলেন, এই ধরনের সড়ক দূর্ঘটনার জন্য শাস্তি না হওয়ায় দিনদিন সড়ক দূর্ঘটনা বেড়েই চলছে। সড়ক দূর্ঘটনায় জড়িতদের যথাযথ শাস্তিসহ নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থার বিধান করলে সড়ক দূর্ঘটনা অনেক অংশে কমে যাবে।

[8] প্রসঙ্গত, রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলশিক্ষিকা রুনী তার ছেলে ও এক মেয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশায় করে শহরে যাচ্ছিলেন। তারা পৌর এলাকার মিরপুর এসবি ফজলুল হক সড়কের কালাচাঁন মোড় এলাকায় পৌঁছালে কড্ডা থেকে সিরাজগঞ্জগামী যাত্রাবাহী একটি বাস সামনের একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে তাদের চাপা দেয়। এতে রিকশাটি ট্রাকের পেছনে দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শিশুসহ রুনী ও তার ছেলে ওয়াদী মারা যান। আহত হয় রিকশা চালক ও শিশু সয়ফা। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক শিশু ছয়ফাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বাসটিকে আটক করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- বনবাড়ীয়া সরকরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ও পৌর এলাকার মিরপুর দক্ষিণপাড়া মহল্লার মাসুদ রানার স্ত্রী ইফরাত সুলতানা রুনী (৩৮), তার ছেলে ওয়াদি (১২) ও মেয়ে ছয়ফা (৬)। আহত অটোরিকশা চালক চান মিয়া (২৫) পৌর এলাকার একডালা সুইচগেট এলাকার বাসিন্দা। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত