প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজধানীতে আপন হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার ৬

সুজন কৈরী: [২] রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডাকাতিসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সজল, মুসা, বাচ্চু, সজীব, মুন্না ও সিদ্দিক। তাদের কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, চাকু এবং লুণ্ঠিত ৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়েছে।

[৩] পুলিশ জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে আসা ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে একটি ডাকাত চক্র গড়ে উঠেছে। তারা পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে যাত্রী হিসেবে ব্যবসায়ীদের গাড়িতে তোলে। এরপর গলায় চাকু ধরে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। তিনি বলেন, এই চক্রটি মূলত ভোর রাতের অপরাধী। তারা রাত ১২টার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ডাকাতি করে। তাদের মূল টার্গেট বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পণ্য কিনতে আসা খুচরা ব্যবসায়ীরা।

[৪] বুধবার বেলা ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পাইকারি সবজির আড়ত বসে। স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীরা ওই আড়ত থেকে সবজি কেনে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল সাধারণত রাত ১১টা বা ১২ টার পর থেকে একটি ভাড়া করা পিকআপ নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বের হয়। ডাকাত দল আড়তে যাওয়া স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে। টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের আড়তে নেয়ার উদ্দেশ্যে সুকৌশলে তাদের গাড়িতে তোলে। এরপর যাত্রীবেশে থাকা ডাকাতদলের সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

[৫] ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ঘটনার দিন গত ২৮ ডিসেম্বর আপন মিয়া ও তার সঙ্গী নজরুল ইসলাম প্রতিদিনের মতো দক্ষিণখানের বাসা থেকে কারওয়ান বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। বিমানবন্দর থানার কাওলা ফুটওভার ব্রীজের পূর্ব পাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ও্ সিময় অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা পিকআপ ভ্যানে গিয়ে কারওয়ান বাজার যাওয়ার কথা বলে যাত্রী ওঠায়। আপন ও নজনুল ও্ই পিকআপে চড়েন। ওঠার সাথে সাথে পিকআপের পিছনে যাত্রীবেশে বসে থাকা ডাকাতরা ব্যবসায়ীদের টাকাসহ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিম আপন মিয়ার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়। থানার পাশাপাশি মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশও তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত হয় এবং এরপর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

[৬] পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, রাজধানীতে দিনের বেলা পিকআপ ও ট্রাক চলাচল করে না, রাতে করে। তাই রাজধানীর দিন ও রাতের চিত্র ভিন্ন। স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীরা এমন ঘটনার সম্মুখীন হলেও সাধারণত থানায় কোনো অভিযোগ জানান না। তাই এ ঘটনাগুলো পুলিশের অজানাই থেকে যায়। এমন ঘটনার শিকার হলে পুলিশকে অবহিত করার জন্য সকলকে অনুরোধ জানান তিনি।

[৭] গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা আব্দুল্লাহপুর থেকে কারওয়ান বাজার, রামপুরা থেকে যাত্রাবাড়ী ও সেখান থেকে ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় পিকআপে করে ডাকাতি করে। পিকআপের সামনের সিটে তিনজন বসে এবং বাকীরা যাত্রী বেশে পিছনে থাকে। ঢাকা মহানগরীর যেসব এলাকায় মাছ, ফলমূল ও সবজির পাইকারি আড়ত বসে, সেখানে যারা মালামাল কিনতে যান তাদের টার্গেট করে পিকআপে যাত্রী হিসেবে উঠায় চক্রটি। ঘটনার দিন চক্রটি ভিকটিমদের কারওয়ান বাজার নেয়ার উদ্দেশ্যে সুকৌশলে পিকআপ ভ্যানে তোলে। এরপর গ্রেপ্তার মূসা ও রফিক ভিকটিকমদের বুকে চাকু ধরে। পিকআপের সামনে বসা গ্রেপ্তারকৃত সজল পিছনে চলে আসে এবং ভিকটিমদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যরা ভিকটিমদের পিকআপ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তারা সপ্তাহে একাধিক দিন ডাকাতির জন্য বের হয়। প্রতিদিন তারা কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত