প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী :একজন স্পষ্টবাদী ও মেধাবী রাজনীতিবিদ ড. হাছান মাহমুদ

দীপক চৌধুরী: রাজনীতিতে স্পষ্ট ও সত্য কথা বলবার মানুষ যেনো কমছেই। অন্ধভাবে দলীয় রাজনীতি ও হাইব্রিডদের রাজত্ব যেখানে ক্রমেই সুষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে সেখানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ মাঝে-মধ্যেই স্পষ্ট কথা বলে তাক লাগিয়ে দেন। যেমন, তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি দেশের উন্নয়নে খুশি নয়।’ হাঁ, এটাই বাস্তব সত্য। এখন বিএনপি-জামায়াতের বা তাদের সমমনাদলগুলোর একমাত্র চিন্তা ‘কীভাবে দেশকে পেছানো সম্ভব! শেখ হাসিনাকে বিপদে ফেলতে কী ধরণের চক্রান্ত করা দরকার?’ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় এমন আলামত দেখা যায়। তারা পদ্মা সেতু নিয়ে হাঁ-বাচক শব্দ উচ্চারণ করে না। তারা স্বাধীনতার বীর শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় না। বুদ্ধিজীবী হত্যাদিবসে, শহীদ দিবসে, বিজয় দিবসে চুপ। শ্রদ্ধা জানানো প্রয়োজনবোধ করে না অথচ ওরা এদেশে বাস করে। তাজ্জব হওয়ার মতো ঘটনা।

ড. হাছান মাহমুদের মতে, এক সময়ের তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ এখন আর নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃৃত্বে দেশ স্বনির্ভর। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ ‘রোল মডেল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। এদেশের তৈরি পোশাক সুনামের সঙ্গে বিদেশে রফতানি হচ্ছে। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারের সফলতা নেই। তাঁর সরকারের অগ্রগতি ও সাফল্যে তাঁরা ম্যাজিক দেখেন। ড. হাছান মাহমুদের মতো এতো স্পষ্ট করে এসব কথা অনেকেই বলতে চান না। বড় বড় পদে দায়িত্ব দখল করে বসে আছেন কিন্তু নানান কাজ করে অনেকের অন্তরের মধ্যে। নানা হিসাব-নিকাশ সেখানে। ড. হাছান মাহমুদের মতো স্পষ্ট করে কেউ বলেন না, ‘আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল না- তখন যারা ভয়ঙ্কর নির্যাতন, নানারকম কষ্ট সহ্য করেছেন সেই সব ত্যাগী নেতাকে দলে মূল্যায়ন করতে হবে। তবেই তৃণমূল পর্যায়ে দল সুসংগঠিত হবে। নির্যাতনের শিকার ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। দলকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে তৃণমূলের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে হবে।’

দেখলাম বক্তৃতায় হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘করোনা মোকাবেলা নিয়ে প্রশান্তিতে থাকার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা মোকাবেলায় সক্ষম হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই।’

আমরা অনেক সত্য স্বীকার করতে চাই না। অপ্রিয় সত্য উচ্চারণও করি না। অথচ আমাদের আত্মসমালোচনা করা দরকার। সাংবাদিকতার ছত্রিশ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেক বড় বড় নেতার বক্তব্যের ‘ইন্ট্রো’ খুঁজে বের করা যায় না। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সাংবাদিকতা করার কারণে, অনুষ্ঠান ‘কাভার’ করেই ‘নিউজ’ লিখতে হয়। আমাদের সৌভাগ্য যে, ড. হাছান মাহমুদের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ‘ইন্ট্রো’ খুঁজতে হয় না।
সচিবালয়ের লিফ্টের নীচ ফ্লোরে অর্থাৎ লিফটে ওঠার পূর্ব মুহূর্তে প্রায়ই দেখা হয় তাঁর সঙ্গে। একদিন বলেই ফেললাম, ‘ভাই, আপনার বক্তব্যে লাইনে লাইনে ‘ইন্ট্রো’ করা যায়। কারণ, আপনার কথা স্পষ্ট।’
যখন বিরোধী দলে কিংবা সরকারী দলেও আওয়ামী লীগ তখন প্রতিপক্ষকে জুৎসই জবাব দেওয়ার মুহূর্তে ড. হাছান মাহমুদকে দেখি। তিনি ‘ধুয়ে’ দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে তাঁর মতো দ্বিতীয়টি কেউ নেই। প্রেসক্লাবের সামনেই হোক বা পার্টি অফিসেই হোক কিংবা যেকোনো রাজনীতির ময়দানেই হোক। মাঝেমধ্যে অভিভূত হই। এমন কোনো বিষয় নেই যে, যেসব বিষয়ে তাঁর ধারণা নেই। আধুনিক চিন্তার মানুষ হাছান মাহমুদ এই কদিন আগে, ওয়েবে মুক্তি পাওয়া ‘নবাব এলএলবি’ সিনেমা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ওয়েবে রিলিজ দেয়া সিনেমার ক্ষেত্রে কোনো সেন্সর বোর্ড নেই। সিনেমাটি সেন্সর বোর্ড হয়ে যায়নি। একটি নীতিমালা প্রয়োজন সব কনটেন্ট প্রচারের জন্য। নীতিমালার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় টিআরপি। টিআরপি নির্ধারণের কৌশল প্রণয়নে আগামী সপ্তাহের মধ্যে কমিটি হচ্ছে জানিয়েছেন তিনি। সরকারি- বেসরকারি অংশীজনদের নিয়ে এই কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, টিআরপি কীভাবে নির্ধারিত হবে সেই কৌশল প্রণয়নের জন্য অংশীজনদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেব। সেই কমিটি নির্ধারণ করবে কীভাবে টিআরপি নির্ধারিত হবে। তিনি আরও বলেন, ‘টিআরপির ক্ষেত্রে বিরাট একটা অস্পষ্টতা আছে, কারা কখন টিআরপিতে ওপরে উঠে যায়। অনেক সময় দেখা যায় একটা টেলিভিশন চ্যানেল মানুষ দেখেই না কিন্তু তারা টিআরপিতে অনেক উপরে, এ রকম অনেক কিছু ঘটে।’ অতি জরুরি তো বটেই, অত্যন্ত সময়োপযোগী ইস্যুও এটি।
ড. হাছান মাহমুদের রাজনৈতিক-জীবন পটভূমি : ড. হাছান মাহমুদের মধ্যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মেধার অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। স্কুল জীবনেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বারবার মৌলবাদী অপশক্তি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমনকি কয়েকবার তার প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো রক্তচক্ষু হাছান মাহমুদকে তার সংগ্রামের পথ থেকে পিছু হটাতে পারেনি। তাঁর সফল নেতৃত্বের মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এবং বিদেশেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রামের, সরকারী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সময়ে তিনি বয় স্কাউটের দলনেতা ছিলেন। জুনিয়র রেডক্রস টিমেরও সদস্য ছিলেন। আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগতায়ও তিনি স্কুলের বিতর্ক দলের দলনেতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক দলের দলনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ড.হাছান মাহমুদ ১৯৭৭ সালে প্রথমে চট্টগ্রাম শহরের জামালখান ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত হন। তিনি ১৯৭৮ সালে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট কলেজে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে সরকারি হাজী মহসিন কলেজে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। যখন দুটি কলেজ (সরকারী ইন্টারমিডিয়েট কলেজ এবং সরকারি ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট) যুদ্ধ করে হাজী মহসিন কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। হাছান মাহমুদ ১৯৮৬ সালে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি সামরিক শাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হন। পরে তিনি ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচনে, সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য, বিপুল বিজয় লাভ করে। সেই নির্বাচনের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে নিবার্চনে প্রার্থী হতে না পারলেও তিনিই ছিলেন সেই নিবার্চনে সমস্ত প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রদলের সমন্বয়ে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান। ১৯৯২ সালের শুরুর দিকে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার কার্যকরী সংসদের সবচেয়ে নবীনতম সদস্য মনোনীত হন।

১৯৯২ সালে, তিনি উচ্চতর শিক্ষার জন্য বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে যান। সেখানে তিনি ১৯৯৩ সালে ব্রাসেলস এর বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ইউরোপের একটি শীর্ষ র‌্যাংকিং ইউনিভার্সিটিতে ব্রাসেলসের ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৯৪ সালে তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব দ্য ইউনিভার্সিটি’র সভাপতি নির্বাচিত হন, যা ৬০ টি দেশের ১৫০০ শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে। বেলজিয়ামে ড. মাহমুদ ১৯৯৩ সালে বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে এবং ১৯৯৫ সাল থেকে মার্চ ২০০০ পর্যন্ত বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. হাছান মাহমুদ ২০০১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির বিশেষ সহকারী হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি, একযোগে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরিবেশ ও বন বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে নিযুক্ত হন। তখন থেকেই তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য। ২০০৭ সালে যখন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে সামরিক সমর্থিত সরকার কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়, তখন ড. হাছান মাহমুদ, দলীয় সভাপতির মুখপাত্র হিসেবে অকুতোভয়ে কাজ করেন, যা দলের সকল কর্মী ও সমর্থকদের দ্বারা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়। ২০০৮ সালে তিনি তখনকার দেশের নেতৃস্থানীয় রাজনীতিক ও অত্যন্ত প্রভাবশালী বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করে, প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯-২০১৩ সময়কালে তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রী হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রী হিসেবে তাঁর নিয়োগের পূর্বে ড. হাছান মাহমুদ একই সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. হাছান মাহমুদ ২০০২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে বয়োকনিষ্ট সদস্য হিসেবে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মনোনিত হন। বিশেষ সম্মাননা : ২০১৫ সালের ৫ই অক্টোবর, “গ্রীন ক্রস ইন্টারন্যাশনাল” তাদের সাধারণ অধিবেশনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে তাঁর শক্ত ও জোরালো ভূমিকার জন্য তাঁকে “সার্টিফিকেট অব অনারেবল মেনশনে” ভূষিত করে। (এটি গ্রীন স্টার পুরস্কারেরই একটি অংশ)। ড. হাছান মাহমুদ দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন খ্যাতিমান পরিবেশবিদ হিসেবে সুপরিচিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পরবর্তীতে সরকারের পরিবেশ মন্ত্রী এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসনীয় হয়েছে এবং হচ্ছে। পোড় খাওয়া এবং অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ব্যক্তিত্ব ও অসাধারণ মেধাবী রাজনীতিক হিসেবে সুপরিচিত ড. হাছান মাহমুদ।

এটা বিজয়ের মাস। আমরা দেখেছি, পাকিস্তানিরা বাঙালি হত্যায় সব সময় বুলেটও ব্যয় করেনি। তারা কখনও বেয়োনেট দিয়ে, কখনও ধারালো ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে মানুষ জবাই করেছে। ময়লার ডিপোতে স্থান পেয়েছে মানবসন্তানের লাশ। হত্যার পর হতভাগা মানুষের মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে খাল-বিল-নদীতে। চালিয়েছে নৃশংস তাণ্ডব। জ্বালিয়ে দিয়েছে বাঙালির ঘরবাড়ি। শিশু-কিশোর অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাদ্য সংগ্রহ ও তাঁদের কাছে সরবরাহ করতে গিয়ে বহু ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি আমি। সুতরাং বাঙালির গর্ব করার মতো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশি বেশি কথা বলতে হবে। চলচ্চিত্র, নাটক, শর্টফিল্ম, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বেশি বেশি করে প্রচার অতি প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মের জন্যই এসব দরকার। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা যেত না। সেসব দিনগুলোর কথা আমরা কোনোভাবেই ভুলতে পারি না।

লেখক : উপ-সম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত