প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে ২০২০ সালে রেকর্ড পরিমাণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

লিহান লিমা: [২] বনাঞ্চলে দাবালন, বরফ গলে যাওয়া, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাব এই বছর দেখেছে বিশ্ব। ২০২০ সালে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের সুরক্ষা, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য বন্ধ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকে নিষেধাজ্ঞার মতো পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর জন্য সুরক্ষায় হুমকি অনেক কিছু বাতিলে পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ব। আনাদুলু এজেন্সি

[৩] এই বছরের ১ জানুয়ারি মোনাকো কটন বাড, কাপ, প্লেট ও কাটলারির মতো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বাতিল করে। ১৬ জানুয়ারি মাইক্রোসফট ঘোষণা দেয়, তাারা ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে সব ধরণের কার্বন নিঃসরণ জনিত প্রকল্পের থেকে নিজেদের সরিয়ে আনবে। এদিন জার্মানি ২০৩০ সালের মধ্যে কয়লা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯ জানুয়ারি চীনের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এ বছরের মধ্যে বড় শহরগুলোতে প্লাস্টিক ব্যাগ বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় ও ২০২২ সালের মধ্যে চীনের সব শহরে এটি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়। ২০ জানুয়ারি ইংল্যান্ড বন্যপ্রাণীকে নিয়ে সার্কাস দেখানোয় নিষেধাজ্ঞা দেয়। ২৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বিশ্বের প্রথম কোনো সংবাদ মাধ্যম হিসেবে তেল ও গ্যাস কোম্পানির বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

[৪] ফেব্রুয়ারি ৭ তারিখ তিউনেশিয়া সুপারমার্কেট ও ফার্মাগুলোতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ও ২০২১ সালের মধ্যে এর ব্যবহার সম্পূর্ণ উঠিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি পোপ ফ্রান্সিস আমাজন বনের সুরক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে এর ক্ষতি করাকে অপরাধ বলে আখ্যা দেন। ২৪ ফেব্রুযারি চীন সরকারীভাবে বন্যপ্রাণীর বাণিজ্য ও মজুদ বন্ধ করে।

[৫] মার্চের ৪ তারিখে ইউরোপিয় ইউনিয়ন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ইউরোপিয় জলবায়ু আইন’ পাশ করে, যা ২০৫০ সলের মধ্যে ইউরোপের অর্থনীতিকে জলবায়ু বান্ধব করতে কাজ করবে। ২৪ মার্চ জার্মান ভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিন ইকোসিয়া ব্রাজিল, বুরকিনা ফাসো ও তানজানিয়ায় ১০ লাখ গাছ লাগোর ঘোষণা দেয়।

[৬] এপ্রিলের ২০ তারিখ অস্ট্রিয়া দ্বিতীয় ইউরোপিয় দেশ হিসেবে তাদের সর্বশেষ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাতিল করে।

[৭] মে মাসের ১৯ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের সম্পূর্ণরুপে জীবাশ্ম জ্বালানী মুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা দেয়।

[৮] জুনের ৫ তারিখ চীন স্থানীয় বনরুইয়ের জাতীয় সুরক্ষাপ্রাপ্ত ঘোষণা কলে। এদিন ইথিওপিয়া সরকার বর্ষা মৌসুমে ৫০০ কোটি গাছের বীজ বপনের ঘোষণা দেয়। আগামী চার বছরে ২০ হাজার কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রার ঘোষণা করে দেশটি। ২৪ জুন জার্মানি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকে নিষেধাজ্ঞা দেয় যা ২০২১ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

[৯] ১৩ জুলাই পাকিস্তান নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই পরিবেশ ও জলবায়ুর রক্ষায় জাতিসংঘের স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে। ২৪ জুলাই ভিয়েতনাম বন্যপ্রাণী ও বন্যপ্রাণী থেকে তৈরিকৃত পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ২৭ জুলাই জার্মানির ডয়েচে ব্যাংক জানায়, তারা আর কোনো জীবাশ্ম জ্বালানী সম্পর্কিত প্রকল্পে অংশ নেবে না।

[১০] ১২ আগস্ট ব্রাজিলের ৩৬টি কোম্পানি ও ৪টি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান দেশটির সরকারকে লেখা চিঠিতে আমাজনে অবৈধভাবে বন উজাড় বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানায়।

[১২] ৯ সেপ্টেম্বর জিম্বাবুয়ে সাফারি পার্কসহ দেশটির সব জাতীয় পার্কের পাশে খনিজ পদার্থ আহরণ প্রকল্প নিষিদ্ধ করে।

[১৩] ৮ অক্টোবর কানাডা ২০২১ সালের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

[১৪] ১৮ নভেম্বর ব্রিটিশ সরকার ২০৩০ সলের পর তেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেল চালিত নতুন গাড়ি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ২৫ নভেম্বর চীন আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে সব ধরণের বর্জ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

[১৫] ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের পরিবেশ সংস্থা জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ ২৫শতাংশ হ্রাস কেের মহামারী থেকে উত্তরণের সবুজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিশ্ব প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষরিত বিশ্বের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের কাছাকাছি পৌঁছতে পারবে। ১১ ডিসেম্বর ইউরোপিয় কাউন্সিল জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ ৫৫ শতাংশ কমাতে একমত হয়েছে ইইউ নেতারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত