প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জানুয়ারিতে শাহজালালে পড়ে থাকা উড়োজাহাজগুলো নিলামে তোলার পরিকল্পনা বেবিচকের

লাইজুল ইসলাম : [২] বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত ১২টি উড়োজাহাজের বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে যাওয়া এয়ারলাইন্সের। এরমধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের আটটি, জিএমজি এয়ারলাইন্সের একটি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি, অ্যাভিয়েনা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ রয়েছে।২০২০ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে বেবিচকের বকেয়া পাওনা ১৯০ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৯৩৫ টাকা। রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কাছে বকেয়া পাওনা ২৩৬ কোটি ৯ লাখ ৩২ হাজার ৭০ টাকা, জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছে বকেয়া পাওনা ৩২৬ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ৫৪৫ টাকা।

[৩] ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোনও ঘোষণা না দিয়েই ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ করে দেয় ইউনাইটেড এয়ার। ২০০৫ সালে বেবিচকের অনুমোদন পাওয়ার পর ২০০৭ সালের ১০ জুলাই ফ্লাইট অপারেশন শুরু করেছিল এ এয়ারলাইন্সটি। বেবিচক দেশের বিমানবন্দরগুলো থেকে এয়ারলাইন্সটির বিমান সরানোর জন্য একাধিকবার নোটিশ করলেও কোনও ধরনের উদ্যোগ নেয়নি এয়ারলাইন্সটি। এছাড়া মধ্য ভারতের ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ এয়ারপোর্টে এয়ারলাইন্সটির একটি বিমান দীর্ঘদিন পড়ে থাকার পর সরানোর উদ্যোগ না নেওয়ায় ২০১৮ সালে আগস্টে সেটিকে রানওয়ের পার্কিংলট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যায় জিএমজি এয়ারলাইন্স। এই এয়ারলাইন্সটি বিমানবন্দর থেকে পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।

[৪] এদিকে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণ দেখিয়ে সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। যদিও দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়ায় এয়ারলাইন্সটি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বকেয়া পরিশোধ করতে পারছে না। এয়ারলাইন্সটির কর্মীদের তিন মাসের বিনা বেতনে ছুটির চিঠি দেওয়া হলেও তিন মাস পেরিয়েছে বহু আগে। রিজেন্ট এয়ারওয়েজ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর।হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, ‘বিমানবন্দরে থেকে পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ সরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন রফতানি কার্গো ভিলেজের সামনে থেকে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে। এতে কার্গো ভিলেজের খালি জায়গা বেড়েছে। এসব বিমানের কারণে কার্গো ভিলেজের অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের পক্ষ থেকে বেবিচক কর্তৃপক্ষকে নিলাম ও ক্রোকের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন বাকিটা তাদের ওপর নির্ভর করে।

[৫] বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মাফিদুর রহমান বলেন, আমরা এগুলোকে সরানোর জন্য কাজ করছি। আইনগত ভাবে কিভাবে সরানো যায় সেটা দেখা হচ্ছে। সরানোর প্রক্রিয়া হাতে নিলে যাতে কেউ কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্যই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রচলিত আইনের মাধ্যমে এগুলো করা হবে।মফিদুর রহমান বলেন, প্রত্যেকটি বিমানের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। এখন যে কোনো সময় আমরা নিলামে তুলতে পারি বা স্ক্র্যাব হিসেবে ধংস করে ফেলতে পারি। ইতিমধ্যে জিএমজি এয়ারলাইন্স আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তাদের বিমান সরিয়ে নেয়ার জন্য। তাদের কাছে আমরা যা টাকা পাই তা দিলে আমরা তাদের বিমান বুঝিয়ে দিবো। আরেকটা পদ্ধতি করা যেতে পারে। বিমানগুলো তারা নিলামে তুলবে টাকাটা সরাসরি আমাদের একাউন্টে ঢুকবে।

[৬] তিনি আরো বলেন, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রত্যেকটি দিক ভালো ভাবে খুঁজে দেখছি। আসলে কি করা যায়। তাদের কাছে আমরা বহু টাকা পাবো।

[৭] মফিদুর রহমান বলেন, এয়ারপের্টের যে স্থানে পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো এখন আছে সে স্থানটি আমরা জুন-জুলাই মাসে ব্যবহার করবো। তাই জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে আমারা এই ১২ পরিত্যক্ত বিমান সরানো বা নিলাম বা স্ক্র্যাব করার কাজ শুরু করবো। যেহেতু এগুলোর ডিরেজিস্ট্রেশন হয়ে গেছে তাই এগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের সমস্যা হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত